কুড়ানো ফল খাওয়া প্রসঙ্গে

 

প্রশ্নঃ সেনানিবাসের ভিতরে বিভিন্ন গাছের ফল যেমন আম, জাম এগুলো গাছের নিচ থেকে কুড়িয়ে নেওয়া অথবা  গাছ থেকে বিনাঅনুমতিতে   নেওয়া জায়েজ আছে কিনা?

জাজাকাল্লাহ খাইরান।


সম্মানিত ভাই শরিফুল ইসলাম  বগুড়া এর প্রশ্নের আলোকে। আল্লাহ আপনাকে নিরাপদে ও শান্তিতে রাখুন।)

 

উত্তর:  প্রথম কথা হলো, গাছের নিচে পড়ে থাকা ফল মালিকের অনুমতি ছাড়া কাওয়া বৈধ হবে না। যদি অনুমতি থাকে তাহলে খাওয়া বৈধ। চাই অনুমতি প্রত্যক্ষভাবে থাকুক বা পরোক্ষভাবে।-রদ্দুল মুহতার : ৬/৪৪৪, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ৫/৩৯৩, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া মাজমাউল আনহুর : ২/২৫৬, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ২৩/৩৭৯


গাছের নিচ থেকে  কুড়িয়ে নিতে যদি মালিকের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার বাধা বা নিষেধ করা না হয়, তাহলে আপনার জন্য উক্ত গাছের নিচে পড়ে থাকা ফল কুড়িয়ে খাওয়া জায়েয হয়েছে। অবশ্য কখনো যদি এ ব্যাপারে মালিকের অসম্মতি বা অসন্তুষ্টি বুঝা যায় তখন পড়ে থাকা ফলও কুড়িয়ে নেওয়া জায়েয হবে না।

 

আদ্দুররুল মুখতার ৪/২৮৪; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৯১; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৫৪; আননাহরুল ফায়েক ৩/২৮৪


সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে যদি উক্ত ফলের মালিকের (কর্তৃপক্ষ/ইউনিটের) অনুমতি প্রত্যক্ষভাবে থাকে বা পরোক্ষভাবে অনুমতি থাকে,তাহলে আপনার এই ফল গুলো খাওয়া জায়েয আছে। 

কোনো সমস্যা নেই। 


নোট: আমি আমার পূর্বে ইউনিটে অধিনায়ককে জিজ্ঞেস করেছিলাম, স্যার, ইউনিটের বিভিন্ন প্রকার ফল ঝড়ে/পেকে পড়ে থাকে, এ বিষয়ে আপনার কি অভিমত, জবাবে তিনি বললেন, আপনি একটি কথা বলেছেন। আপনি মসজিদে ঘোষণা দিবেন যে, গাছের নিচে কোন ফল পড়ে থাকলে, যে পাবে সেটা তার। তবে ছিঁড়ে/গাছ থেকে পাড়তে পারবে না। 

প্রিয় ভাই! এভাবে মালিককে জিজ্ঞেস করে তার ভিউ জানা যায়। আমি আমার গ্রামে দেখেছি, কিছু লোক গাছের নিচে পড়ে থাকা জিনিসও নিতে দেয় না। 

 

একটি প্রশ্ন: অনেকে বলে সরকারি জিনিস সবাই মালিক বা হকদার, সুতরাং ফল ছিড়ে/পেড়ে/কুড়ে নিলে কি অসুবিধা?

 

 

উত্তর:  ধরুন! আপনি একটি সরকারি বাসায় থাকেন, সেখানে আমাকে কি থাকতে দিবেন?  অবশ্যই আপনার অনুমিত ব্যতিত থাকা যাবে। অতত্রব, বুঝা গেলে, সরকারি হলেও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মালিক বা কর্তৃপক্ষ আছে। ঠিক তেমনি সরকারি গাছ হলেও এর নির্দিষ্ট মালিক বা কর্তৃপক্ষ আছে।  

 না।


والله اعلم بالصواب

আল্লাহ তাআলাই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।

                                 وصلى الله تعالى على رسوله وعلى آله و اصحابه و جميع المؤمن وسلم                             وتسليما  


উত্তর দিচ্ছেন, মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক(বগুড়া)