একই ব্যক্তির দুইবার ইমামতি করা প্রসঙ্গে

 

জিজ্ঞাসা-১১৯: একই ব্যক্তির দুইবার ইমামতি করা জায়েজ আছে কি?

 

উত্তর:  যরত মুয়াজ বিন জাবাল রা. রাসূল ()র পিছনে সালাত আদায় করে, আরেক স্থানে গিয়ে নামায পড়াতেন।

উক্ত হাদীসটি পেশ করে কিছু ভাইরা না বুঝে এক ইমামের একাধিক সালাতের ইমাম হবার স্বপক্ষে দলীল পেশ করতে চান। আমরা প্রথমে উক্ত হাদীসটি দেখে নিব। তারপর এ হাদীস দিয়ে দলীল পেশ করা শুদ্ধ হবে কি না? তাও বুঝে নিবো ইনশাআল্লাহ।

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ: «أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، كَانَ يُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ يَرْجِعُ، فَيَؤُمُّ قَوْمَهُ»

হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় মুয়াজ বিন জাবাল রা. রাসূল () এর সাথে সালাত আদায় করতেন, তারপর ফিরে গিয়ে তার কওমের ইমামতী করতেন। বুখারী, হাদীস নং-৭০০

 

বুখারীর হাদীসে মুয়াজ রা. যে নামায নবীজীর পিছনে পড়তেন, ঠিক সেই নামাযটির ইমামতীই আবার গিয়ে করতেন কি না? তা পরিস্কার আসেনি।কিন্তু অন্যান্য কিতাবে তা এসেছে।

 

এখানে বিষয় হল, এটি মুয়াজ রা. এর একটি ব্যক্তিগত আমল ছিল। এতে রাসূল () সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন নাকি অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন?  আরেকটি বিস্তারিত হাদীস দেখলে বিষয়টি পরিস্কার হবে।

عَنْ مُعَاذِ بْنِ رِفَاعَةَ الزُّرَقِيُّ: أَنَّ رَجُلًا، مِنْ بَنِي سَلِمَةَ يُقَالُ لَهُ سَلِيمٌ أَتَى رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , فَقَالَ: إِنَّا نَظَلُّ فِي أَعْمَالِنَا , فَنَأْتِي حِينَ نُمْسِي , فَنُصَلِّي فَيَأْتِي مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ , فَيُنَادَى بِالصَّلَاةِ , فَنَأْتِيهِ فَيُطَوِّلُ عَلَيْنَا. فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا مُعَاذُ لَا تَكُنْ فَتَّانًا , إِمَّا أَنْ تُصَلِّيَ مَعِي , وَإِمَّا أَنْ تُخَفِّفَ عَنْ قَوْمِكَ»

হযরত মুয়াজ বিন রিফাআ যুরকী রা. থেকে বর্ণিত। বনী সালামার এক ব্যক্তি যার নাম ছিল সালীম। তিনি রাসূল () এর  কাছে আসলেন। এসে বললেন, আমরা কাজকর্মে ব্যস্ত থাকি। সন্ধ্যায় ফিরে এসে সালাত আদায় করি। তখন মুয়াজ বিন জাবাল আসে। এসে সালাতের জন্য আহবান করে। তখন আমরা নামায পড়তে আসি। তখন মুয়াজ নামায অনেক দীর্ঘায়িত করে। [ফলে আমাদের অনেক কষ্ট হয়, এ অভিযোগ শুনে] তখন নবীজী () বললেন, হে মুয়াজ! ফিতনা সৃষ্টিকারী হইয়োনা, তুমি হয়তো আমার সাথে নামায পড়ো, অথবা তোমার কওমের সাথে সংক্ষেপে সালাত পড়। তাখরিজ:  তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২৩৬২, আল-মুজামুল কাবীর লিততাবরানী, হাদীস নং-৬৩৯১

 

 

 এ হাদীসে ঘটনাটির মোটামুটি পূর্ণ বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে। যাতে দেখা যাচ্ছে, নবীজী () মুয়াজ রা. কে বলছেন, তুমি হয়তো আমার সাথে নামায পড়, অথবা কওমের সাথে গিয়ে সংক্ষেপে নামায পড়াও।

যা পরিস্কার বুঝাচ্ছে, এক সালাতের ইমামতী দুইবার করা যায় না। যদি যেত, তাহলে নবীজী বলতেন, আমার পিছনে সালাত পড়ে গিয়ে, কওমের সাথে সংক্ষেপে নামায পড়ো। কিন্তু নবীজী তা না বলে, জানিয়েছেন, হয়তো, আমার সাথে পড়ো, নতুবা তাদের সাথে পড়।

এ হাদীস পরিস্কার প্রমাণ করে, এক সালাত একবার আদায়ের পর, সেটির ইমামতী আবার করা যায় না।

সুতরাং বুঝা গেল, হযরত মুয়াজ রা. এর একটি ব্যক্তিগত আমল, যার উপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, সেটি উপস্থাপন করে এক সালাতের একাধিক জামাতের ইমামতীর বৈধতার পক্ষে দলীল পেশ করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

 

 

উত্তর দিচ্ছেন, মাওলানা জালাল উদ্দিন (ঢাকা)