জিজ্ঞাসা: ১২৮- আসসালামু আলাইকুম।  আল বুরহান এর বিজ্ঞ শায়খদের কাছে আমার একটি বিষয় সবিনয়ে জানতে চাই।  আমি ঢাকা সিএমএইচে  ভর্তি ১২/০৫/২০২২ থেকে অদ্যাবধি আমার জানার বিষয় হলো আমি তো জানি না আমার ডিসচার্জ কবে হবে। আজ ২৮ তম দিবস হাসপাতালে আমি মুসাফির হিসেবে কত দিন ধর্তব্য হবে। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো। মাআসসালামাহ

 

উত্তরওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ ও বারাকাতুহ। আল্লাহ তাআলা তাকে নিরাপদে ও শান্তিতে রাখুন।  আপনার প্রশ্নকে বুঝার জন্য দুই ভাগে ভাগ করেছি।

ونسأل الله التوفيق وهو الموفق والمعين

 

প্রশ্ন:      ক।     শরিয়তের দৃষ্টিতে মুসাফির কে?

 

উত্তর:       খ।   কোন ব্যক্তি  ৪৮ মাইল (৭৭.২৪৬৪কিলোমিটার) বা এর বেশি সফর করার নিয়তে কেউ যদি নিজ গ্রাম বা শহরের সীমানা অতিক্রম করে এবং সফর অবস্থায় কোনো স্থানে একসাথে ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত না করা পর্যন্ত মুসাফির থাকবে। কোনো স্থানে একসাথে ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত করলে মুকীম গণ্য হবে এবং পূর্ণ নামায পড়তে হবে। সূত্র: শরহুল মুনয়াহ ৫৩৫, ৫৩৬, ৫৩৯ আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭, ২/৩৮৮-৩৮৯ আলবাহরুর রায়েক ২/১২৮, ২/১৩১ আদ্দুররুল মুখতার ২/১২১, ২/১২৪-১২৫

 

প্রশ্ন: খ।   ধরুন, কেউ ৪৮ মাইল দূরে  ১৫ কম নিয়ত করল, কাজ শেষ না হওয়া আবার ১০/১৫ দিনের কম নিয়ত করল, সে মুসাফির না মুকিম?

উত্তর:       খ।   কেউ বাড়ী থেকে কমপক্ষে ৪৮মাইল সফরের নিয়তে বের হল। কিন্তু পথিমধ্যে কোন একটি স্থানে প্রয়োজনের কারনে ১৫দিনের কম থাকার নিয়ত করল। সেখান থেকে আজ যায় কাল যায় করে (টানা ১৫দিন থাকার নিয়ত ব্যতীত) কয়েক বছর থাকলেও সে মুসাফির গন্য হবে। মোটকথা যতক্ষন সে কোন একটি স্থানে টানা ১৫ থাকার নিয়ত না করবে সে মুকীম গন্য হবে না। সূত্র: হিদায়া ১/১৬৬


আপনার বর্ণিত প্রশ্নের আলোকে, আপনি যদি এক সাথে ১৪ দিনের বেশি থাকার নিয়ত  করেন, তাহলে আপনি মুকিম হিসেবে পুরো নামাজ আদায় করতে হবে। আর আজ যাব, আজ অপারেশন হবে কাল হবে, পরশু হবে এভাবে যদি এক সাথে ১৪ দিনের বেশি অবস্থান করার নিয়ত না করেন, তাহলে আপনি মুসাফির হিসেবে গণ্য হবেন এবং মুসাফিরের সলাত কসর আদায় করতে হবে। 

 

মূল ব্যাপার হলো আপনার নিয়ত, আর যদি নিশ্চিত জানা থাকে যে আমার সব কাজ (ডিসচার্জ) শেষ করতে রিলিজ পেতে ১৪ দিনের বেশি সময় লাগবে, তাহলে তো আপনি মুকিম হবেন।

 

  

والله اعلم بالصواب

(আল্লাহ তাআলাই সকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।)

                                   وصلى الله تعالى على رسوله وعلى آله و

اصحابه و جميع المؤمن وسلم                                 وتسليما  

 

یٰقَوۡمِ لَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡهِ اَجۡرًا ؕ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلَی الَّذِیۡ فَطَرَنِیۡ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ 

উত্তর দিচ্ছেন,  মুফতি মুহাম্মাদ  আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া),

(এম.এ কামিল ফিকাহ ও তাফসির, দাওরায়ে হাদিস, আততাখাস্সুস লিলআদব),