আজানের সময় কানে আঙ্গুল দেয়া না দেয়ার বিধান কি

 

আসসালামু আলাইকুম।

জিজ্ঞাসা-১৩৮:  আজানের সময়  কানে আঙ্গুল দেয়া না দেয়ার বিধান কি?


হাফেজ মাওলানা আবুল কালান আজাদযশোর থেকে-

উত্তর:  ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ ও বারাকাতুহ।  আজানের সময় দুই শাহাদত আঙ্গুল দুই কানের ছিদ্রে প্রবেশ করানো মোস্তাহাব। দলিল:

 

-عَنْ عَوْن بْن أَبِيْ جُحَيْفَةَ عَن أَبِيْه قَالَ : رَأَيْتُ بِلَالً يُؤَذِّنُ وَيَدُوْرُ وَيَتْبَعُ فَاهُ هَاهُنَا وَهَاهُنَا وَإِصْبَعَاهُ فِى أُذُنَيْهِ وَرَسُوْلُ اللهِ ﷺ فِىْ قُبَّةٍ لَهٗ حَمْرَاءَ আবূ জুহায়ফাহ্ বলেন, আমি বিলাল (রা.)-কে আযান দেয়ার সময় তার মুখমণ্ডলটি এদিক-ওদিক ফিরাতে দেখেছি। এমতাবস্থায় তার আঙ্গুল তার কর্ণে ছিল এবং রসূল () তার লাল তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন।  তাখরিজ: তিরমিজি-১৯৭; ইরওয়া-২৩০, মিশকাত-৬৫৩

 

নোট: হাদিসটির সনদ সহিহ।

 

 

وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمنِ بْنِ سَعْدِ بْنِ عَمَّارِ بْنِ سَعْدٍ مُؤَذِّنِ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ حَدَّثَنِىْ أَبِىْ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّه أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَمَرَ بِلَالًا أَنْ يَجْعَلَ إِصْبَعَيْهِ فِي أُذُنَيْهِ وَقَالَ إِنَّه أَرْفَعُ لِصَوْتِكَ. رَوَاهُ اِبْنُ مَاجَةَ

 

আবদুর রহমান ইবনু সাদ ইবনু আম্মার ইবনু সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:তিনি (দাদা) ছিলেন মাসজিদে কুবায় রসূলুল্লাহ () এর মুয়ায্‌যিন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলালকে (আযানের সময়) তার দুই আঙ্গুল দুই কানের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখার হুকুম দিলেন এবং বললেন, এভাবে (আঙ্গুল) রাখলে তোমার কণ্ঠষ্বর উঁচু হবে।  তাখরিজ: ইবনে মাজাহ-৭১০

 

 নোট: হাদিসটির সনদ দুর্বল (অনেকের মতে)।

 

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:     আজানের সময় কানে আঙ্গুল দেওয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে, তা Sound Poullution   শব্দ দূষণ  থেকে বাঁচা। 


 প্রশ্ন।   ক।   শব্দ দূষণ (Sound Poullution   ) কাকে বলে ?

উত্তর। ক।  শব্দের প্রভাবে জীবের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয় বলে একে ' শব্দদূষণ ' বলা হয় ।  শব্দের তীব্রতা মাপার একককে ডেসিবেল বলে  শব্দদূষণ বলতে মানুষের বা কোনো প্রাণীর শ্রুতিসীমা অতিক্রমকারী কোনো শব্দ সৃষ্টির কারণে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে বোঝায়। সূত্র: উইকিপিডিয়া


প্রশ্ন:     খ।   শব্দ দূষণের ফলে কোন ক্ষতি হয় কি?


উত্তর:   খ। ৯০ ডেসিবেল মাত্রার কাছাকাছি শব্দ শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের অবসাদ সৃষ্টি করে। শব্দদূষণের কারণে শ্রবণশক্তি হ্রাসের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য এবং আচার-আচরণ - উভয় ক্ষেত্রেই সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে।  শব্দদূষণের কারণে দুশ্চিন্তা, উগ্রতা, উচ্চ রক্তচাপ, টিন্নিটাস, শ্রবণশক্তি হ্রাসঘুমের ব্যাঘাতসহ অন্যান্য ক্ষতিকর ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটতে পারে।

 

তথ্যসূত্র:

 S. Rosen and P. Olin, Hearing Loss and Coronary Heart Disease, Archives of Otolaryngology, 82:236 (1965)

 J.M. Field, Effect of personal and situational variables upon noise annoyance in residential areas, Journal of the Acoustical Society of America, 93: 2753-2763 (1993)

 "Noise Pollution" World Health Organisation

 

والله اعلم بالصواب

 

উত্তর দিচ্ছেন, মুফতি মুহাম্মাদ  আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া)