সৌদি নাগরিক যারা বাংলাদেশে রয়েছেন তাদের পক্ষ থেকে সৌদিতে কোন দিন কুরবানী করা হবে এবং তারা কোন দিন হাত পায়ের নখ এবং চুল কাটাবেন এবং আমরা যারা সৌদি এলাকায় রয়েছি বাংলাদেশে আমাদের পক্ষ থেকে কবে কোরবানি করা হবে এবং আমরা কখন হাত পায়ের নখ এবং চুল কাটাব।

 জিজ্ঞাসা-২২৬:  মুহতারাম শায়খ দের নিকট জানতে চাই: সৌদি নাগরিক যারা বাংলাদেশে রয়েছেন তাদের পক্ষ থেকে সৌদিতে কোন দিন কুরবানী করা হবে এবং তারা কোন দিন হাত পায়ের নখ এবং চুল কাটাবেন এবং আমরা যারা সৌদি এলাকায় রয়েছি বাংলাদেশে আমাদের পক্ষ থেকে কবে কোরবানি করা হবে এবং আমরা কখন হাত পায়ের নখ এবং চুল কাটাব। তারিখ-০৮/০৭/২২ ঈসায়ি/ইংরেজি



 মাওলানা শরিফ, সাউথ সুদান যুবা-থেকে---


জবাব:  সুতরাং যখনি কুরবানীর দিনসমূহ আসার পর কুরবানী করা হবে, তখনি কুরবানীদাতা তার চুল ও নখ ইত্যাদি কাটবেন। কুরবানী কোথায় করা হচ্ছে এটা মূল বিষয় নয়। বরং কুরবানীর দিনে কুরবানী করার সাথে চুল নখ কাটার বিধান সম্পর্কিত।

سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أُمَّ سَلَمَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ كَانَ لَهُ ذِبْحٌ يَذْبَحُهُ فَإِذَا أُهِلَّ هِلَالُ ذِي الْحِجَّةِ، فَلَا يَأْخُذَنَّ مِنْ شَعْرِهِ، وَلَا مِنْ أَظْفَارِهِ شَيْئًا حَتَّى يُضَحِّيَ»

নাবী (ﷺ) এর সহধর্মিনা উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির নিকট কুরবানীর পশু আছে সে যেন যিলহাজ্জ এর নতুন চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানী করা পর্যন্ত তার চুল ও নখ না কাটে। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৯৭৭, ইফাবা-৪৯৫৯, সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং-২৭৯১]

وَمِمَّا وَرَدَ فِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – «إذَا دَخَلَ الْعَشْرُ وَأَرَادَ بَعْضُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ فَلَا يَأْخُذَنَّ شَعْرًا وَلَا يُقَلِّمَنَّ ظُفُرًا» فَهَذَا مَحْمُولٌ عَلَى النَّدْبِ دُونَ الْوُجُوبِ بِالْإِجْمَاعِ، (رد المحتار، كتاب الصلاة، باب العيدين، مَطْلَبٌ فِي إزَالَةِ الشَّعْرِ وَالظُّفُرِ فِي عَشْرِ ذِي الْحِجَّةِ-2\181، دار ا لفكر بيروت)


সারকথা হলো: ব্যক্তি যে দেশে অবস্থান করবে, সে দেশের কুরবানি হলে তার নখ-চুল কাটবে; তার কুরবানি যেখানেই হোক না কেন। পূর্বে এরকম মাসয়ালা আল-বুরহানে আলোচিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি সৌদিতে ৩০দিন রোজা রেখে বাংলাদেশে আসল, সে এখন কি করবে? উক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশে আরেকটি রোজা রেখে, পরের দিন ঈদ করবে। আল-বুহানের ওয়বেসাইটে মাসয়ালা দেখে দিন। সূত্র: ফাতওয়ায়ে রহমানিয়া ৫/১৮০-৮১;  মাজমূফাতাওয়াশ-শাইখইবনে বায ১৫/১৫৫

 


 والله اعلم بالصواب 

উত্তর দিচ্ছেন,  মুফতি  মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (বগুড়া)