ওমরা পালনের ধারাবাহিক নিয়ম ও দোয়া


ওমরা আদায়ে নারী-পুরুষের জন্য রয়েছে মৌলিক ছয় (০৬) টি   কাজ ও  কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ দোয়া। মৌলিক ছয় কাজের দুইটি ফরজ দুইটি ওয়াজিব এবং দুইটি সুন্নত । নিম্নে ধারাবাহিকতার সাথে তুলে ধরা হলো-

১)  ইহরাম বাধা। (ফরজ)
২)  কাবা শরিফ (৭ চক্করে) তাওয়াফ করা। (ফরজ)
৩)  তাওয়াফের পর ২ রাকাত সালাত আদায় করা (ওয়াজিব)
৪)  যমযমের পানি পান করা  (সুন্নত)
৫)  সাফা-মারওয়া সাঈ করা। (ওয়াজিব)
৬)  হলক করা। অর্থাৎ পুরুষরা পুরো মাথার চুল ছোট করবে বা মুণ্ডন করবে আর নারীরা চুলে আগা কর্তন করার মাধ্যমে হালাল হয়ে যাবে। (সুন্নত)

নারী-পুরুষের ওমরার ধারাবাহিক বিস্তারিত নিয়ম ও দোয়া

প্রথম কাজ : ইহরাম বাঁধা (ফরজ)নির্ধারিত মিকাত থেকে (সম্ভব হলে) গোসল করে অথবা অজু করে নেয়া। পুরুষরা সেলাইবিহীন ২টি কাপড় পরবে। আর নারীরা পর্দাসহ শালীন পোশাক পরবে। অতঃপর ২ রাকাআত নামাজ পড়ে ইহরামের নিয়ত করে নেবে-

اَللَّهُمَّ اِنِّي اُرِيْدُ العُمْرَةَ فَيَسِّرْهُ لِيْ وَ تَقَبَّلْهُ مِنِّي
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল উমরাতা ফাইয়াসসিরহু লি ওয়া তাকাব্বালহু মিন্নি’

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি ওমরার ইচ্ছা করছি; আপনি আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন।’

অতঃপর তালবিয়া পড়বে (১ বার তালবিয়া পড়া শর্ত ৩ বার পড়া সুন্নত)لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لَبَّيْكَ – لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ – اِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ – لاَ شَرِيْكَ لَكَ

উচ্চারণ : ‘লাব্বাইকা আল্লা-হুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্‌নিমাতা লাকা ওয়ালমুল্‌ক, লা শারিকা লাক।’

তালবিয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ দোয়াটিও পড়বে-

اَللَّهُمَّ اِنِّيْ اَسْئَلُكَ رِضَاكَ وَ الْجَنَّةَ وَ اَعُوْذُبِكَ مِنْ غَضَبِكَ وَ النَّارِ
উচ্চারণ:
‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা রিদাকা ওয়াল
জান্নাতা ওয়া আউ’জুবিকা মিন গাদাবিকা ওয়ান্নার’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টি ও জান্নাতের আশা করছি এবং আপনার অসুন্তুষ্টি ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।’

বাংলাদেশ থেকে যারা প্রথমে মক্কায় যাবেন তারা বাসা কিংবা হজ ক্যাম্প থেকে ইহরামের কাজ সম্পন্ন করে নেবে।

মসজিদে হারামে প্রবেশওমরা উদ্দেশ্যে মসজিদে হারামে ডান পা দিয়ে প্রবেশ করে এ দোয়া পড়া

-بِسْمِ اللهِ وَ الصّلَاةُ وَ السَّلَامُ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ أعُوْذُ بِاللهِ الْعَظِيْم وَ بِوَجْهِهِ الْكَرِيْمِ وَ سُلْطَانِهِ الْقَدِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِاَللهُمَّ افْتَحْ لِىْ اَبْوَابَ رَحَمَتِكَ

উচ্চারণঃ
বিসমিল্লাহি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ। আউজুবিল্লাহিল আজিম ওয়া বি-ওয়াজহিহিল কারিম ওয়া সুলতানিহিল কাদিমি মিনাশশায়ত্বানির রাজিম। আল্লাহুম্মাফতাহলি আবওয়াবা রাহমাতিকা।

কাবা ঘর দেখে এ দোয়া পড়া-اَللَّهُمَّ أَنْتَ السّلَامُ وَ مِنْكَ السَّلَامُ حَيِّنَا رَبَّنَا بِالسَّلَامِ اَللَّهُمَّ زِدْ هَذَا الْبَيْتَ تَشْرِيْفاً وَ تَعْظِيْماً وَ تَكْرِيْماً وَ مَهَاَبَةً وَ زِدْ مَنْ شَرّفَهُ وَ كَرّمَهُ مِمَّنْ حَجَّهُ وَاعْتَمَرَهُ تَشْرِيْفاً وَ تَعْظِيْماً وَ بِرُّا
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতাস সালামু ওয়া মিনকাস সালামু হাইয়্যিনা রাব্বানা বিস্‌সালাম। আল্লাহুম্মা যিদ হাজাল বাইতা তাশরিফান ওয়া তা’জিমান ওয়া তাকরিমান ওয়া মুহাবাতান; ওয়া জিদ মান শার্‌রাফাহু ওয়া কার্‌রামাহু মিম্মান হাজ্জাহু ওয়া’তামারাহু তাশরিফান ওয়া তাকরিমান ওয়া তা’জিমান ওয়া বির্‌রা।

দ্বিতীয় কাজ : তাওয়াফ করা (ফরজ) ওমরার দ্বিতীয় ফরজ কাজ হলো কাবা শরিফ তাওয়াফ করা।

হাজরে আসওয়াদ বরাবর এসে তাওয়াফের
নিয়ত করবে। অর্থাৎ এভাবে বলবে- হে আল্লাহ!
আমি উমরার তাওয়াফ করছি। আমার জন্য তা
সহজ করে দিন এবং কবুল করে নিন। অতঃপর
হাজরে আসওয়াদ চুম্বন, ইসতেলাম (স্পর্শ) অথবা হাজরে আসওয়াদ বরাবর কোনায় দাঁড়িয়ে কাবার দিকে ফিরে দুই হাত দিয়ে ইশারা করে  নামাযে তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় যেভাবে হাত উঠানো হয় সেভাবে উভয় হাতের তালু হাজরে আসওয়াদ ও বাইতুল্লাহর দিকে ফিরিয়ে বলবে

بسم الله الله اكبر . لا إله إلا الله ولله الحمد . والصلاة والسلام على رسول الله ـ
উচ্চারণ ঃ বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার।  লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়ালিল্লাহিল হামদ। ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু আলা রাসূলিল্লাহ।

শুধু بسم الله الله اكبر   (বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার) বললেও চলবে।
* হাজরে আসওয়াদ চুম্বন শেষে সীনা সোজা করে। কাবা শরীফকে বামে রেখে বীরদর্পে হাটতে শুরু করবে। প্রথম তিন চক্করে রমল করবে।

* বাইতুল্লাহ সংলগ্ন উত্তর দিকে দেয়ালঘেরা স্থানকে হাতীম বলে। হাতীয বাইতুল্লাহরই অংশ। তাই হাতীমের বাহির থেকে তাওয়াফ করবে। হাতীমের ভিতর থেকে তাওয়াফ করলে তাওয়াফ হবে না। মানাসিক-১৫৩ *

* তাওয়াফ করা অবস্থায় বাইতুল্লাহর দিকে সীনা করা নিষেধ। তখন কোনো কারণে বাইতুল্লাহর দিকে সীনা ফিরে গেলে, যতটুকু স্থান সীনা ফিরা অবস্থায় তাওয়াফ করা হয়েছে ততটুকু স্থান পুনরায় সহীহভাবে তাওয়াফ করতে হবে। রদ্দুল যুহতার ২/৪৯৪

পুরুষরা ইজতিবা* ও রমল* করবে।   আর নারীরা সাধারণভাবে তাওয়াফ শুরু করবে।

*তাওয়াফের মধ্যে ইজতিবা করা সুন্নাত। ইজতিবা হল, গায়ে জড়ানো কাপড়টি ডান বগলের নিচ দিয়ে নিয়ে বাম কাঁধের উপর রেখে দেওয়া। তথা ডান কাঁধ খোলা রাখা। সম্পূর্ণ তাওয়াফে ইজতিবা অবস্থায় থাকা সুন্নাত। নফল তাওয়াফে ইজতিবা নেই। ইজতিবার হুকুম পুরুষদের জন্য। মহিলাদের জন্য নয়। (মানাসিক-১৩০)

*যে তাওয়াফের পর সা'ঈ থাকে সে তাওয়াফের মধ্যে রমলও করতে হয়। উমরার তাওয়াফের পর যেহেতু সা'ঈ আছে তাই উমরার তাওয়াফে রমল করতে হবে। পুরুষদের জন্য তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে রমল করা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। রমল হল, কাঁধ হেলিয়ে একটু দ্রুত ও বীরদর্পে হাঁটা। মহিলারা রমল করবে না। প্রচণ্ড ভিড়ের সময় রযল করার দ্বারা অন্যের কষ্ট হওয়ার আশংকা থাকলে রমল বন্ধ রাখবে, স্বাভাবিকভাবে হাঁটবে। অন্তত প্রথম তিন চক্করের মধ্যে সুযোগ পেলে রমল করবেন। অন্যথায় করতে হবে না। মানাসিক-১৩৩

তাওয়াফের সময় কাবা শরিফ ও হাজরে আসওয়াদকে বাম দিকে রেখে রোকনে শামি ও রোকনে ইরাকি অতিক্রম করে রোকনে ইয়ামেনিতে আসবে। এ স্থানে তালবিয়া, তাকবির তাসবিহ ইত্যাদি পড়বে।অতঃপর (সম্ভব হলে) রোকনে ইয়ামেনি স্পর্শ করবে। অতঃপর হাজরে আসওয়াদের দিকে অগ্রসর হবে এবং কুরআনে শেখানো এ দোয়া পড়বে-

رَبَّنَا اَتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّ فِى الْاَخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِউচ্চারণ : রাব্বানা আতিনা ফিদদুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াক্বিনা আজাবান্ নার।’


হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করে পুনরায় হাজরে আসওয়াদের কাছে পৌঁছলে এক চক্কর পূর্ণ হবে। হাজরে আসওয়াদের বরাবর পৌঁছে তার দিকে ফিরে দাঁড়াবে। এর পর 'বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার' বলে সম্ভব হলে সরাসরি অন্যথায় ইশারায় হাজরে আসওয়াদকে চুমু খাবে। অন্তত বাইতুল্লাহকে বামে রেখে নতুন চক্কর শুরু করবে। আগের নিয়ম অনুযায়ী চক্কর পুরা করবে।

এভাবে সাত চক্করের মাধ্যমে পুরো এক (ফরজ) তাওয়াফ সম্পন্ন হবে। খেয়াল রাখবে, তাওয়াফের সাত চক্করে আটবার হাজরে আসওয়াদ চুমু খেতে হবে। তাওয়াফ শুরু করার সময় একবার আর প্রত্যেক চক্কর শেষে একবার। রদ্দুল মুহতার ২/৪৯৮



* তাওয়াফ করাকালীন প্রয়োজনে পানি পান করা যাবে। মানাসিক ১৬৪

* তাওয়াফের সময় যদিও কথাবার্তা বলা জায়িয কিন্তু একান্তই প্রয়োজন ছাড়া কোনো কথা বলবে না। যিকির ও দু'আর মধ্যে মশগুল থাকবে। তাওয়াফ অবস্থায় কিতাব দেখে কোনো দু'আ পড়ার প্রয়োজন নেই। তাওয়াফের মধ্যে এমন কোনো নির্দিষ্ট দু'আ নেই যা না পড়লে তাওয়াফ সহীহ হবে না। তাওয়াফের সময় যেকোনো দু'আ ও যিকির করা যায়। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাওয়াফ অবস্থায় দুই স্থানে দু'টি দু'আ পড়ার কথা বর্ণিত আছে। যারা পারবে তারা ঐ দুই স্থানে দু'আ দু'টি পড়বে। যথা:

দু'টি দু'আ পড়ার কথা বর্ণিত আছে। যারা পারবে তারা ঐ দুই স্থানে দু'আ দু'টি পড়বে। যথা:

ক. রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে তিনি এই দু'আ পড়তেন:

ربنا اتنا في الدنيا حسنة وفي الاخرة حسنة وقنا عذاب النار.

অর্থ: হে আমাদের প্রভু! আপনি আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন, আর আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা হা.নং-৩০২৪৮)

খ. হাজরে আসওয়াদ এবং মাকামে ইবরাহীমের মাঝে এই দু'আ পড়তেন :

اللهم قنعني بما رزقتني وبارك لي فيه واخلف علي كل غائبة لي

بخير

উচ্চারণ ঃ
আল্লাহুম্মা কান্নি’নি বিমা রাযাকতানি ওয়া বারিক লী ফীহি। ওয়াখলুফ আলাইয়্যা কুল্লা গাইবাতিন লী বিখাইর।।

‘হে আল্লাহ! আপনার প্রদত্ত রিযিকে আমায় তুষ্ট

রাখুন এবং তাতে আমার জন্য বরকত দান করুন।

আর আমার যাবতীয় অজ্ঞাত বিষয়াদিতে কল্যাণ নিহিত রাখুন। মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা হা.নং

৩০২৪৯


তৃতীয় কাজঃ
মাকামে ইবরাহিমে নামাজঃ
তাওয়াফ শেষ করে দুই রাকা'আত ওয়াজিবুত তাওয়াফ নামায পড়তে হবে। তাওয়াফ নফল, ওয়াজিব, ফরয যাই হোক তাওয়াফ শেষ করে দুই রাকা'আত নামায পড়া ওয়াজিব। এই দুই রাকা'আত নামায মাকামে ইবরাহীমকে সামনে রেখে পড়া মুস্তাহাব। তাওয়াফের স্থান ছেড়ে মাতাফের এক কোণে এমনভাবে দাঁড়াবে যাতে মাকামে ইবরাহীম এবং বাইতুল্লাহ উভয়টি সামনে থাকে। যদি এভাবে দাঁড়ানো সম্ভব না হয় তাহলে হারামের সীমানার মধ্যে যেকোনো জায়গায় এই নামায আদায় করা যাবে। রদ্দুল মুহতার ২/৪৯৮

* মাকরূহ ওয়াক্ত না হলে এই দুই রাকা'আত নামায তাওয়াফ শেষ করে সাথে সাথে আদায় করে নেয়া উত্তম। মানাসিক- ১৫৫

* এই দুই রাকা'আতের প্রথম রাকা'আতে সূরা কাফিরুন আর দ্বিতীয় রাকাআতে সূরা ইখলাস পড়া উত্তম।

নারীদের নামাজের জন্য ওই দিকটায় নির্ধারিত স্থানও রয়েছে।
* তাওয়াফের নামায শেষে দু'আ করবে। এখন

দু'আ কবুলের সময়। তাই প্রাণ খুলে দু'আ করবে।


চতুর্থ কাজঃ

অতঃপর ঝমঝমের পানি পান করা ঃ
মাকামে ইবরাহিমে নামাজ আদায় করে ঝমঝমের পানি পান করে নেয়া। মাতআফের চর্তুদিকে ঝমঝমের পানির ঝার/ড্রাম রয়েছে। যাদের ঠাণ্ডার সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য ঝমঝমের গরম পানির ব্যবস্থাও রয়েছে।

পঞ্চম কাজ :
সাফা-মারওয়ায় সাঈ করা (ওয়াজিব)।
সা'ঈর প্রস্তুতি:
সা‘ঈ হল, ‘সাফা-মারওয়ার' এই দুই পাহাড়ের মাঝে সাতবার চক্কর দেওয়া। সাফা থেকে সা'ঈ শুরু করে মারওয়াতে পৌঁছলে এক চক্কর হবে। এরপর মারওয়া থেকে সাফায় আসলে দ্বিতীয় চক্কর হবে। এভাবে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাত চক্কর দেওয়াকে সা‘ঈ বলে। সা'ঈ শুরু হবে সাফা থেকে শেষ হবে মারওয়ায়।

তাওয়াফের পর দেরি না করে সা‘ঈ করে নেওয়া সুন্নাত। অবশ্য ওযরের কারণে দেরি হলে কোনো সমস্যা নেই। মানাসিক পৃ.১৭০
ঝমঝমের পানি পান করে ধীরে ধীরে সাফা পাহাড়ে আরোহন করা। সাফা ও মারওয়া পাহাড় দুটি কাবা শরিফের পাশেই অবস্থিত।

* সা'ঈর নিয়ত করবে। অর্থাৎ এভাবে বলবে: ‘হে আল্লাহ! আমি সা'ঈ করার ইচ্ছা করছি তুমি তা সহজ করে দাও এবং কবূল করে নাও'

* এরপর তাওয়াফ শুরু করার সময় যেভাবে ইশারার মাধ্যমে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা হয়েছিলো সেভাবে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করবে। সা'ঈ শুরু করার পূর্বে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা মুস্তাহাব। মানাসিক পৃ. ১৪০

* এরপর মসজিদে হারামের বাবুস সাফা দিয়ে সাফা পাহাড়ে উঠবে। সা'ঈর জন্য সাফা বা মারওয়া পাহাড়ের চুড়ায় উঠার প্রয়োজন নেই; বরং ৭/৮ হাত উপরে উঠাই যথেষ্ট। সাফা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে এ আয়াত পাঠ করা-

إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِن شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ

উচ্চারণ : ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিং শাআয়িরিল্লাহি ফামান হাজ্জাল বাইতা আয়ি’তামারা ফালা ঝুনাহা আলাইহি আঁইয়্যাতত্বাওয়াফা বিহিমা ওয়া মাং তাত্বাওওয়াআ খাইরান ফাইন্নাল্লাহা শাকেরুন আলিম।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৫৮)এ আয়াতটি সাফা পাহাড়ের ওপরে গম্বুজের মধ্যে লেখা রয়েছে। চাইলে যে কেউ তা দেখে দেখেও পড়ে নিতে পারবেন।

- সাফা পাহাড় থেকে কাবা শরিফ দেখা যায়। কাবার দিকে ফিরে আলহামদুলিল্লাহি আল্লাহু আকবার (اَلْحَمْدُ لِلَّهِ اَللهُ اَكْبَر) বলে আল্লাহর কাছে দোয়া করা।

অতঃপর এ দোয়াটি ৩ বার পড়ে সাফা পাহাড় থেকে মারওয়ার দিকে চলা শুরু করা-
لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَر – لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ – لَهُ المُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ يُحْيِى وَ يُمِيْتُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ شَيئ قَدِيْرلَا اِلَهَ اِلَّا الله وَحْدَهُ أنْجَزَ وَعْدَهُ – وَ نَصَرَ عَبْدَهُ وَ هَزَمَ الأحْزَابَ وَحْدَهُ

উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হাম্দু ইউহয়ি ওয়া ইউমিতু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু আনজাযা ওয়াহদাহু ওয়া নাসারা আবদাহু হাযাামাল আহযাবা ওয়াহদাহু।’

সবুজ চিহ্নিত স্থানসাফা পাহাড় থেকে চলা শুরু করতেই পড়বে ‘সবুজ চিহ্নিত স্থান’। এ স্থানটিকে লাইট দিয়ে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। পুরুষরা এ স্থানটি দৌড়ে অতিক্রম করবে আর নারীরা স্বাভাবিকভাবে হেটে হেটে অতিক্রম করবে।

সবুজ চিহ্নিত স্থানে এ দোয়া পড়া-
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَ اَنْتَ الْاَعَزُّ الْاَكْرَمُ

উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতাল আআযযুল আকরাম।’

সবুজ চিহ্নিত স্থান অতিক্রম করে নারী-পুরুষ সবাই স্বাভাবিক গতিতে হাটবে। আর তাসবিহ পড়বে-اَللهُ اَكْبَر - اَللهُ اَكْبَر- اَللهُ اَكْبَر- وَ لِلَّهِ الْحَمْدُاَللَّهُمَّ حَبِّبْ اِلَيْنَا الْاِيْمَانَ وَ كَرِّهْ اِلَيْنَا الْكُفْرَ وَالْفُسُوْقَ وَالْعِصْيَانَ وَاجْعَلْنَا مِنْ عِبَادِكَ الصَّالِحِيْنَ
উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদু। আল্লাহুম্মা হাব্বিব ইলাইনাল ইমানা ওয়া কাররিহ ইলাইনাল কুফরা ওয়াল ফুসুক্বা ওয়াল ইসয়ানা ওয়াঝআলনা মিন ইবাদিকাস সালিহিন।’

মারওয়া পাহাড়ে আরোহনঃ
সাফা থেকে গিয়ে মারওয়া পাহাড়ে ওঠা। সেখানে গিয়ে আবার সাফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া। সেখানে এ দোয়া পড়া-اَللهُ اَكْبَر - اَللهُ اَكْبَر- اَللهُ اَكْبَر- وَ لِلَّهِ الْحَمْدُ - لَا اِلَهَ اِلَّا الله وَحْدَهُ صَدَقَ وَعْدَهُ وَ نَصَرَ عَبْدَهُ وَ هَزَمَ الأحْزَابَ وَحْدَهُ – لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُوَ لَا نَعْبُدُ اِلَّا اِيَّاهُ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَفِرُوْنَ - رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَ اَنْتَ الْاَعَزُّ الْاَكْرَمُإِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِن شَعَائِرِ اللَّهِ ۖ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِمَا ۚ وَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ
উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদু। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু সাদাক্বা ওয়াদাহু ওয়া নাসারা আবদাহু ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া লা নাবুদু ইল্লা ইয়্যাহু মুখলিসিনা লাহুদদ্বীন ওয়া লাও কারিহাল কাফিরুন। রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতাল আআযযুল আকরাম। ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিং শাআয়িরিল্লাহি ফামান হাজ্জাল বাইতা আয়ি’তামারা ফালা ঝুনাহা আলাইহি আঁইয়্যাতত্বাওয়াফা বিহিমা ওয়া মাং তাত্বাওওয়াআ খাইরান ফাইন্নাল্লাহা শাকেরুন আলিম।’

সাফা পাহাড়ে আসার সময়ও সবুজ চিহ্নিত স্থানে আগের নিয়মে পুরুষরা দ্রুত আর নারীরা স্বাভাবিকভাবে হেটে হেটে আসবে পূর্বোল্লিখিত দোয়া পড়া-
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَ اَنْتَ الْاَعَزُّ الْاَكْرَمُ

উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতাল আআযযুল আকরাম।’

এভাবে আসা-যাওয়া মিলিয়ে ৭ বার চলাচলের মাধ্যমে সাঈ সম্পন্ন হবে। সাঈ শেষ হলে এ দোয়া পড়া-رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الَعَلِيْمُ – وَ تُبْ عَلَيْنَا اِنَّكَ اَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحَيْمُ –وَ صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلَى خَيْرِ خَلْقِهِ مُحَمَّدٍ وَّاَلِهِ وَ اَصْحَابِهِ اَجْمَعِيْنَ وَارْحَمْنَا مَعَهُمْ بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ

উচ্চারণ : ‘রাব্বানা তাক্বাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আনতাছ্ ছামিউল আলিম। ওয়অতুব্ আলাইনা ইন্নাকা আংতাত্ তাওয়্যাবুর্ রাহিম। ওয়া সাল্লাল্লাহু তাআলা আলা খাইরি খালক্বিহি মুহাম্মাদিউ ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি আজমাইন ওয়ারহামনা মাআহুম বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।’

ষষ্ঠ কাজ (ওমরার শেষ)ঃ মাথা মুণ্ডন করা (ওয়াজিব)সাফা এবং মারওয়া পাহাড়দ্বয় সাঈ করার পর মাথা মুণ্ডন করা অথবা মাথার চুল ছেটে ফেলা। আর নারীরা চুলের আগার দিকে কিছু অংশ কাটার মাধ্যমে ইহরাম থেকে বের হয়ে যাবে।

তাওয়াফ ও সায়ীতে যিকিরের কিছু কৌশলঃ

অভিজ্ঞতা: এমন কিছু যিকির আছে যেগুলো তাওয়াফের সময় আদায় করলে যিকিরের আমলও হয়ে যাবে সাথে সাথে কত চক্কর হল এবং এখন কততম চক্কর চলছে তাও মনে থাকবে ইনশাআল্লাহ। তবে এগুলোকে সুন্নাত মনে করবে না, শুধু বৈধ মনে করবে। যিকিরগুলোর বিবরণ নিম্নরূপ:

১ম চক্করে سبحان الله (সুবহানাল্লাহ ) পড়তে থাকা।
২য় চক্করে الحمد لله ( আলহামদুলিল্লাহ )পড়তে থাকা।
৩য় চক্করে لاإله الاالله ( লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু )পড়তে থাকা।
৪র্থ চক্করে الله أكبر  (আল্লাহু আকবার ) পড়তে থাকা।
৫ম চক্করে سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم  (সুবহানাল্লাহি ওয়বি হামদিহী সুবহানাল্লাহিল আযীম)
পড়তে থাকা।
৬ষ্ঠ চক্করে যে কোনো সহীহ দুরূদ শরীফ পড়তে থাকা।
৭ম চক্করে যে কোনো ইস্তিগফার (আস্তাগফিরুল্লাহ...)পড়তে থাকা।

উল্লেখ্য, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তাওয়াফ অবস্থায় পড়ার দু'আ দুটি নির্দিষ্ট দুই স্থানে পড়বে। আর অন্যান্য স্থানে এই যিকিরগুলো করবে। তাহলে দু'আ-যিকির উভয়টির উপর আমল করা হবে এবং চক্করের নাম্বারও মনে থাকবে। তাছাড়া তাওয়াফ অবস্থায় প্রত্যেকে মনের আবেগ ও প্রয়োজন মোতাবেক নিজ ভাষায় যে কোনো দু'আই করতে পারবে। স্মরণ রাখবে তাওয়াফ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা থেকে যিকির করা উত্তম।
আনওয়ারে যানাসেক পৃ.৩৮২


তাওয়াফের সাত চক্করে যে সাত ধরণের যিকিরের কথা বলা হয়েছে, সা'ঈর সাত চক্করেও সেগুলো আদায় করতে পারেন। এতে যিকির করাও হবে আবার চক্করের নাম্বারও মনে থাকবে। কোনো ধরণের যিকির না করলেও সা'ঈ সহীহ হবে।



আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথ নিয়মে ওমরা আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।