ফরয সালাতের পরবর্তী দুআ'/মুনাজাত

 بسم الله الحمن الرحيم         

**************************

দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের  পরবর্তী দুআ'/মুনাজাত ও অন্যান্য দুআ'সংক্রান্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ

ও প্রমানিত  দালীলিক উপস্থাপনা     (সহী সুন্নাহর আলোকে) 

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~⚃⚀⚄⚅⚁⚀⚄⚂⚅⚁⚄

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

 الحمد لله الذي فضل هذه الأمة بفضيلة الدعوات بوسيلة سيد السادت محمدن المصطفي الذي كان مستجاب الدعوات عليه افضل الصلوات و ازكي التسليمات و علي آله و اصحابه  و عترته و ازواجه المطهرات المنورات  ، و رفع الله علينا بهم الدرجات ووفق لنا الدعاء بعد المكتوبات بغير التفريط و الإفتراط ، اما بعد -----

ফরয সালাতের পর মাসনুন দোয়া  ও তাসবীহ পাঠান্তে দুআ করা সহীহ  সুন্নাহ্ সম্মত আমল ৷ সালাম ফিরিয়ে সরাসরি দুআ না করে বরং কিছুক্ষণের জন্য হলেও মাসনুন তাসবীহ সমূহ পাঠ করেই দুআয় মনোনিবেশ করা বাঞ্চনীয় ৷ সালাতের মধ্যে আল্লাহর কাছে নির্দিষ্ট শব্দ ও তাসবীহাত দ্বারা যেমন চাওয়ার সুযোগ হয়ে গেলো, সালাতের পরও মহান মালিকের দরবারে চাওয়ার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে ৷ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব সালাতে সব পরিবেশে দুআ করার অনুমোদন দিয়েছেন,যদিও তা সালাতের কোন অংশ নয় কিংবা ফরয বা ওয়াযিব বিষয় নয় ৷ তবে,যেহেতু সালাত এর পরবর্তী দুআ মুনাজাত রসূলের কর্ম ও বাচনিক হাদিস এবং সম্মানিত সাহাবায়ে কিরাম  ও তাবেয়ী সহ সকল যুগের বরেণ্য ইমামগণের পালনীয় নীতি; সেহেতু বিষয়টি নিয়ে খোঁড়া অযুহাতের কারনে তর্কযুক্ত করা সঠিক হবে না ৷


★বর্তমানে প্রায় মসজিদে সালাম ফেরানোর পর সম্মানিত খতীবগণ ও ইমাম সাহেবান দোয়া কিংবা তাসবীহ তাহলীলে মনোনিবেশ করতে না করতেই কতিপয় মুসল্লী বিরক্তির ভাব দেখিয়ে উঠে পড়েন ৷ কখনো কখনো 'কি জানি বিদআত হয়ে যায় কি না '— এমন ভয়ে দোয়া মুনাজাত থেকে এড়িয়ে যাচ্ছেন ৷ অপ্রিয় হলেও সত্য যে, উনারা এজন্য দায়ী নন, কারন একশ্রেণির মিডিয়াব্যক্তিত্ব দের ব্যাখ্যা ছাড়াই ঢালাওভাবে বিদআতের ফতওয়া প্রদান এবং কতিপয় প্যানেল (ভাইরাল) আলোচনা এজন্য অনেকাংশে দায়ী ৷ আল্লাহর ওয়াস্তে এসকল দৃশ্যের প্রত্যক্ষসাক্ষী হয়ে এবং অনেক দ্বীনি ভাই ও বোনের আবেদনে বিষয়টি মুস্তাহাব হলেও তা নিয়ে কলম ধরা অতীব জরুরী মনে করলাম ৷


বিষয়টি নিয়ে অনেক পরিবেশে পক্ষে বিপক্ষে তর্ক/বিতর্কের ঝড় উঠতে দেখা যায় ঠিকই,কিন্তু দলীল সহকারে  দুআ ও মুনাজাত সম্পর্কে সমন্বিত রূপরেখার অভাব অনুভূত হয় সর্বত্রই নিঃসন্দেহে ৷ কেননা, অধূনা মিডিয়া ও নেট সর্বস্ব শরীয়ত চর্চার দ্বারা একদিকে যেমন আমল করা কিংবা জানার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে অপর দিকে তুলনামুলক মাসা য়েল ও তার যথার্থ বিশ্লে ষণ না জানা থাকার কারনে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে পাঠকদের কোমলমতি  হৃদয়ে ৷ জানার অদম্য কৌতুহলী পাঠককে দেখেছি বিতর্কিত মাসায়েল নিয়ে তর্ক না করে উভয়মুখী বক্তব্য কিংবা বর্ণনাগুলো সমন্বয় করে তবেই সিদ্ধান্ত নিতে ৷ কেননা, আরবী উসুলের নীতিতে বলা হয়— الدين بالرواية لا  بالدراية

"শরীয়ত দলীলের দ্বারা সাব্যস্থ হয়,অনুমান নির্ভরে নয় ৷"

জ্ঞানের যথেষ্ঠ সীমাবদ্ধতা থাকা সত্বেও নিছক নায়েবে রাসূলের হক্বের চিন্তা করে প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশিত আমলের সুধা পান করার মানসে খালেস নিয়তে বিষয়টি নিয়ে কিঞ্চিত আলোচনার আশা করি 

و ما توفيقي الا بالله عليه توكلت واليه انيب ،

'অমা তাওফীক্বী ইল্লা বিল্লাহি আলাইহি তাওয়াককালতু অ ইলাইহি উনীব '৷

★ 'বিদআত' শব্দের ব্যবহার নিয়ে কিছু প্রয়োজনীয় কথা:

***********************

দুআ' ও মুনাজাত বিদআত নয়,বিদআতের দোহাই দিয়ে দুআ মুনাজাত করা থেকে উম্মাহকে বিরত রাখা সঠিক হবে না ৷ কারন, বিদআত ত তাই যার কোন ভিত্তি কুরআন,সুন্নাহ,ফিকহ্ কিংবা কোন দালীলিক বর্ণনায় থাকবে না, এবং সকলেই তাকে বিদআত বলবেন ৷ উল্লেখ্য যে, বিদআত হলো —احداث في الدين (ইহদাছ ফিদ্দীন) তথা দ্বীনের মধ্যে শরীয়ত বহির্ভূত কিছুর উদ্ভাবন ৷আরেকটি হলো احداث للدين (ইহদাছলিদ্দীন ) তথা দ্বীনের প্রয়োজনে কিংবা শরীয়তের স্বার্থে কোন নতুন বিষয়ের আবির্ভাব যা শরীয়তসম্মত ৷যেমন—ক) হযরত উমর (রা) এর যুগে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ২০ রাকাআত তারাবীহ সালাত জামাতে ক্বারীর পিছনে আদায় করার ব্যবস্থা ৷ খ) দ্বীনের প্রয়োজনে উম্মাহর স্বার্থে  হযরত উসমান (রা) এর যমানায় জুমআর দ্বিতীয় আযান প্রবর্তন যা রসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের যুগে ছিল না ,তবে মুসলিম উম্মাহর জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে সাইয়্যিদুনা যুননূরাইন হযরত উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তা প্রবর্তন করেছেন এবং অদ্যাবধি তা সুন্নাহসম্মত চালু রয়েছে [সুনানে আবু দাউদ,হাদিস নং ১০৮৭ (তাওহীদ পাবলিকেশন্স),জুমুআ' অধ্যায়] ৷

গ) পরবর্তীকালে তাফসীরুল কুরআনের সকল মাহফিল,ইসলামী

জলসা সমূহ, দ্বীনী তাবলীগের স্বার্থে জমায়েত হওয়া,দরুদ সালাত ও সা লামের মাহফিল(মীলাদ অনুষ্ঠান),২৭ রমাদ্বান রাতে কুরআন খতম করা কিংবা করানো ,বুখারী শরীফ খতম করানো, ছবক অনুষ্ঠান ইত্যকার বিষয়াদি যা রসূলের যুগে সবকিছু ছিল না ,তবুও তা শরীয়তী আমল ও দ্বীনের পরিপূরক— যা দ্বীনের স্বার্থে এবং শরীয়তের উপকারার্থে হওয়াতে বিদআত নহে ৷


উল্লেখ্য যে,"সব বিদআত গোমরাহী"— মর্মে অসংখ্য বর্ণনাগুলো যা রয়েছে তার সবই দ্বীন বহির্ভূত বিদআতে দ্বাল্লাহ্ (البدعة الضالة ) তথা ভ্রষ্ট বিদআত; যেমন বাতিল দলসমূহের আবির্ভাব, জন্মদিনে কেক কাটা,বিবাহে আড়ম্বরপূর্ণ অশালীন  আনুষ্ঠানিকতা, যৌতুকের  আদান-প্রদান,

বিবাহে মাত্রাতিরিক্ত দেনমোহর নির্ণয়ন,মুর্তিপুজা ও শিরক সাদৃশ্য বে-দ্বীনী ও অসভ্য আচার অনুষ্ঠান ইত্যাদি (আল্লাহ্ হিফাজাত করুন)৷ 

এ সম্পর্কে নিম্নের প্রতিথযশা ব্যাকরণবিদ ইমামদের সংজ্ঞা অতি প্রয়োজনীয়—

১৷ হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলী তদীয় বিশ্লেষণধর্মী কিতাবে(অভিধানে) লিখেছেন—

“বিদয়াত ঐ বিষয়কেই বলা হয়, যার ভিত্তি শরীয়তে নেই। সুতরাং শরীয়তে যে বিষয়ের ভিত্তি রয়েছে, শরীয়ত মুতাবেক তা বিদয়াত নয়, যদিও আভিধানিক অর্থে বিদয়াত বলা হয়।” 

(জামিউল উলূম ওয়াল হাকাম পৃঃ১৯৩, ইরশাদুল উনূদ পৃঃ১৬১)

২৷ সহীহ মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাকার ইমাম নববী (رحمة الله) বলেন, “বিদয়াতের শরীয়তী অর্থ হচ্ছে এমন একটি নতুন কর্ম, যা হুযূরে পাক (ﷺ)-এর যামানায় ছিলনা।” (তাহযীবুল আসমা ওয়াল লোগাত) শরীয়তের দৃষ্টিতে বিদয়াত শব্দের মূল অর্থ হলো- ঐ নতুন উদ্ভব বিষয়, যার ভিত্তি কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসে নেই। উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্টই বুঝা যায় যে, বিদয়াত হলো- হুযূর পাক (ﷺ)-এর পর হতে ক্বিয়ামত পর্যন্ত উদ্ভাবিত প্রত্যেক নতুন বিষয় এবং তা যথাস্থানে ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্লেষনের অবকাশ রাখে ৷

★বিদআতে হাসানার (দ্বীনী স্বার্থে উত্তম বিষয়) দলীল:

---------------------------------

বিদআতে হাসানার উদাহরণ হল এ সহীহ  হাদিসঃ  

من سَنَّ في الإسلامِ سُنَّةً

حسنةً فله أجرُها وأجرُ من عَمِل بها من بَعدِه من غيرِ أن ينقُصَ من أجورِهم شيءٌ، ومن سَنَّ في الإسلامِ سُنَّةً سَيِّئةً فعليه وِزرُها ووِزرُ من عَمِل بها من بَعدِه من غيرِ أن ينقُصَ من أوزارِهم شَيءٌ،

رواه مسلم في صحيحه،

“যে কেউ দ্বীন ইসলামে উত্তম কোন পদ্ধতি উদ্ভাবন করবে (যা শরীয়ত সম্মত), তার জন্য সে সাওয়াব পাবে এবং তারপরে যারা এ পদ্ধতির অনুসরণ করবে,তারা সহ উক্ত ব্যক্তিও তার সাওয়াব পাবে। পক্ষান্তরে যে কেহ কোন নতুন মন্দ বিষয়ের উদ্ভাবন করবে সে তার বিনিময় পাবে অথচ উদ্ভাবনকারীর সওয়াব কিংবা গুনাহ হতে কোন কিছু কমতি করা হবে না ৷  ” (সহীহ মুসলিম শরীফ) 


★পক্ষান্তরে ,গোমরাহী বিদআতের অনেক বর্ণনা রয়েছে—

*সাহাল বিন সাদ (رضي الله عنه) বলেনে,”আমি নবী করীম (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে,(যখন আমি হাউজে কাউসারের পানি পান করাব তখন) “অবশ্যই আমার কাছে এমন কিছু লোক আসবে যাদের আমি চিনি, এবং তারাও আমাকে চিনতে পারবে। অত:পর তাদের ও আমার মাঝে আড়াল করে দেয়া হবে। তখন আমি (ফেরেস্তাদের) বলব-এরাতো আমার উম্মত!” তখন আমাকে বলা হবে-আপনি জানেন না যে, তারা আপনার পর কি সব নতুন নতুন কাজের আবিস্কার করেছে। অত:পর আমি বলব-”যারা আমার পর আমার দ্বীনের পরিবর্তন সাধন করেছে````, তারা দূর হোক, তারা দূর হোক।”-[বুখারী শরীফ, হাদিস নং-৬৬৪৩]


*নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহ্‌র কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদের আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হল (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়। আর নব উদ্ভাবিত প্রত্যেক বিষয় বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআত হল ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।(বুখারী,মুসলিম) ৷

★সুতরাং সালাত সমাপনান্তে একাকী কিংবা সম্মিলিত দুআ' রসূলের(সা) আমল,

সাহাবীদের আমল,যুগবরেণ্য তাবেয়ীদের আমলসহ উম্মাহর নৈমিত্তিক আমল এবং তা দ্বীনের স্বার্থে পরকালীন মুক্তির কামনায় একান্ত আল্লাহর উদ্দেশ্যেই করা হয়, যা বিদআত হওয়ার প্রশ্নই আসে না ৷ তবে, সালাত শেষে মাসনুন তাসবীহ তাহলীল ও  যিকর আদায় করে দুআয় শামিল হওয়া উত্তম এবং তা কখনোই নামাযের অংশ নয় কিংবা মনে করা হয়না ৷কেহ এরূপ করে থাকলে কিংবা বিষয়টি নিয়ে অতিরঞ্জিত করলে আমরা তাকে নিরূৎসাহিত করবো এবং তাকে ভদ্রোচিৎ বুঝানোর ভূমিকায় থাকবো ইন শা আল্লাহ্ ৷ আল্লাহ্ সকলকে তাওফীক দিন ৷ 

স্মর্তব্য যে,সালাতের পর হাত তুলে দুআ মুস্তাহাব আমল হলেও তা নিঃসন্দেহে ফযীলতপূর্ণ ,কেননা সাহাবীদের যুগেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতিতে এ মর্যাদাপূর্ণ আমলের প্রমাণ আছে ৷ আল্লাহ্ সকলকে বুঝার তাওফীক দিন ৷ 

***********************

দুআ' ও মুনাজাতের একাধিক ক্ষেত্র ও অবস্থা রয়েছে। এর প্রত্যেকটি অবস্থাই বিভিন্ন হাদীস দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। সাথে পরিপূরক ফুকাহায়ে কিরামগণের অবিসংবাদিত রায় বিষয়গুলোকে আরও সুস্পষ্ট করেছে নিঃসন্দেহে -


১৷ দুআ'র সময় উভয় হাত উঠানো এবং দুআ' শেষে উভয় হাত দ্বারা মুখমণ্ডল মাসেহ করা সুন্নাহ সম্মত আমল :

~~~~~~~~~~~~~`~~~~~~~~~~~ 

এ সম্পর্কে সহীহ বর্ণনা ঃ

 باب مَا جَاءَ فِي رَفْعِ الأَيْدِي عِنْدَ الدُّعَاءِ حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ وَغَيْرُ وَاحِدٍ قَالُوا حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ عِيسَى الْجُهَنِيُّ، عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ الْجُمَحِيِّ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَفَعَ يَدَيْهِ فِي الدُّعَاءِ لَمْ يَحُطَّهُمَا حَتَّى يَمْسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ ‏.‏ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى فِي حَدِيثِهِ لَمْ يَرُدَّهُمَا حَتَّى يَمْسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ عِيسَى ‏.‏ وَقَدْ تَفَرَّدَ بِهِ وَهُوَ قَلِيلُ الْحَدِيثِ وَقَدْ حَدَّثَ عَنْهُ النَّاسُ حَنْظَلَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ ثِقَةٌ وَثَّقَهُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ ‏.‏


সাইয়্যিদুনা হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দু’আর সময় হাত উঠাতেন তখন উভয় হাতে চেহারা মাসেহ না করা পর্যন্ত হাত নামাতেন না। মুহাম্মদ ইবন মুসান্না তার বর্ণনায় বলেনঃ উভয় হাত দিয়ে চেহারা মাসেহ না করা পর্যন্ত হাত ফিরিয়ে আনতেন না।


সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)

অধ্যায়ঃ ৫১/ দু’আ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত (كتاب الدعوات عن رسول الله ﷺ)

এ হাদীসটি সহীহ গারীব। (উল্লেখ্য, একক বর্ণনার হাদিসকে গারীব বলে এবং তা সহীহ হাদিসেরই একটি প্রকার)। 

সুনানে তিরমিজি, দুআ' অধ্যায়, হাদিস নং ৩৩৮৬(ইফাবা অনূদিত)।।


★রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দুআ' করার আদত বা অভ্যাস সম্পর্কে হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে :

عن سائب بن يزيد عن ابيه قال ان النبي صلي الله عليه و سلم كان اذا دعا فرفع يديه و مسح وجهه بيديه(بيهقي،مشكوة )

সাইয়্যিদুনা সাইব বিন ইয়াযীদ (রা) তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে ,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদত বা অভ্যাস ছিলো তিনি যখনই দুআ করতেন তখনই দু'হাত উঠাতেন এবং তাহার পবিত্র হাত মুবারক দ্বারা মুখ মুবারক মাসেহ করতেন ৷(বায়হাক্বী,মিশকাত, হাত উঠিয়ে দোয়়া অধ্যায় )


♦২৷ফরয সালাতের সালাম ফিরিয়ে মাসনুন তাসবীহ পাঠান্তে দুআ' করা সুন্নাহ সম্মত আমল

**************************

সালাত শেষ করে দুআ'য় মনোনিবেশ করার নির্দেশনা আল কুরআনেই বর্ণনা করা হয়েছে ৷

আল্লাহ  সুবহানাহু তাআলা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন-فَإِذَا فَرَغْتَ فَانْصَبْ  অর্থ: ‘অতএব যখনই আপনি অবসর পান, তখনই কঠোর সাধনায় রত হোন। [সূরা ইনশিরাহ, আয়াত- ৭] 

অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে কুরতুবীতে অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায়

এসেছে- 

قوله تعالى : { فإذا فرغت } قال ابن عباس وقتادة : فإذا فرغت من صلاتك { فانصب } أي بالغ في الدعاء وسله حاجتك

         অর্থ: ‘হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও কাতাদাহ (রা.) বলেন- যখন আপনি নামাজ থেকে অবসর পাবেন, তখন দোয়ায় মনোনিবেশ করুন এবং আপনার প্রয়োজন আল্লাহর কাছে চাহিদা করুন।’ [তাফসীরে কুরতুবী, সূরা ইনশিরাহ, আয়াত- ৭]


★তাফসীরে জালালাইনে বলা হয়েছে:

" فَإِذَا فَرَغْت " مِنْ الصَّلَاة " فَانْصَبْ " اِتْعَبْ فِي الدُّعَاء

অর্থ: যখন আপনি নামাজ থেকে অবসর গ্রহণ করবেন, তখন আপনি দোআয় মনোনিবেশ করুন। [তাফসীরে জালালাইন, সূরা ইনশিরাহ, আয়াত- ৭] 


 ★উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে মাজহারীতে এসেছে- 

وقال ابن عباس وقتادة والضحاك ومقاتل والكلبي إذا فرغت من الصلاة المكتوبة او مطلق الصلاة فانصب الى ربك فى الدعاء وارغب اليه فى المسألة

অর্থ: ‘হযরত ইবনে আব্বাস (রা.)  কাতাদাহ, দ্বাহ্হাক, মুকাতিল ও কালবী (রহ.) বলেন, যখন তুমি ফরজ নামাজ অথবা সাধারণ যে কোন নামাজ হতে অবসর হবে, তখন তুমি দুআয় আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করো এবং প্রার্থনায় আগ্রহ প্রকাশ করো। [তাফসীরে মাজহারী, ১০/২৯৪]


★তাফসীরে আজীজীতে  শাহ্ ওলীউল্লাহ দেহলবীর সাহেবজাদা উপমহাদেশের ইলমে হাদিসের অন্যতম সনদ মাওলানা শাহ্ আব্দুল আজীজ দেহলবী (রহ) লিখেছেন—

جب فرض نماز سے فارغ ہو تو دعا کے واسطے ہاتھ اٹھاؤ ،

যখন ফরয নামায শেষ করো তখন দোয়ার উদ্দেশ্যে হাত উঠাও ৷(তাফসীরে আজীজী,৩০ তম পারা , সুরা ইনশিরাহ এর তাফসীর)



######>>>


৩৷ হাদিসের আলোকে ফরয সালাত শেষ করে দুআ কবুলের উত্তম সময় :


عَنْ اَبِي أُمَامَةَ قَالَ: قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ! اَيُّ الدُّعَاءِ اَسْمَعُ قَالَ: جَوْفَ اللَّيْلِ الْآخِرِ وَدُبُرَ الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ 

অর্থ: ‘হযরত আবূ উমামা (রা:) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন সময়ে দুয়া কবুল হওয়ার বেশী সম্ভাবনা? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন, ‘শেষ রাতে এবং ফরয নামাযের পরে।’ [তিরমিযী শরীফ, ২ : ১৮৭, হাদীস নং ৩৪২১]


★উপর্যুক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় জগদ্বরেণ্য প্রাচীন মনীষীরা কে কি বলেছেন জানা অতি জরুরী: 


১)মিশকাতুল মাসাবীহ সহ অসংখ্য প্রসিদ্ধ  কিতাবের রচয়িতা ও ব্যাখ্যাকার মোল্লা আলী ক্বারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন:اذا فرغت منها فسلم ، ثم ارفع يديك سائلا حاجتك، 

সালাম দিয়ে নামায হতে ফারেগ হয়ে তোমার হাত ভিক্ষুকের মত হাজত পূরণের আশায় উঠাবে ৷ (মিরকাত শরহে মিশকাত,২য় খন্ড,৪৮৪ পৃষ্ঠা )

২) ইমাম বুখারীর সমসাময়িক যুগের এবং সমপর্যায়ের মুহাদ্দিস ইমাম আবুবকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুযাইমা (ওফাত:৩১১হিজরী) হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেন:

و هذا دال علي انه انما امره برفع اليدين ، و الدعآء و المسألةبعد التسليم ،

এই হাদিস দলীল হচ্ছে দুই হাত উঁচু করে দুআ করার ,আর এই চাওয়ার বিষয়টি এক্ষেত্রে সালাম ফিরানোর পর ৷(সহীহ ইবনে খুযাইমা,সালামের পর দুআ অধ্যায়)


         

৪৷সাধারনভাবে সম্মিলিত দুআর ফযীলত:

عن حبيب بن مسلمة الفهري قال للناس سمعت رسول الله صلى الله عليه و م يقول : لا يجتمع ملأ فيدعو بعضهم ويؤمن سائرهم إلا حمد الله وأثنى عليه فقال : اللهم احقن دماءنا واجعل أجورنا أجور الشهداء   

         অর্থ: ‘হযরত হাবীব ইবনে মাসলামা আল-ফাহরী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি মানুষদের উদ্দেশ্যে বলেন- আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন- কোন সম্প্রদায় একত্র হয়ে যখন তাদের কতিপয় লোক দোআ করে এবং বাকী সকলে আমীন আমীন বলে, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের দোআ কবুল করেন। অতপর রাসূলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর প্রসংশা ও গুণকীর্তন করলেন, এরপর বললেন- হে আল্লাহ! আমাদের রক্তকে নিবৃত্ত করে দাও এবং আমাদের প্রতিদানকে শহীদগণের প্রতিদানের ন্যায় করে দাও।’ [মুজামুল কাবীর, হাদীস- ৩৫৩৬]

         

৫৷ইমাম কখনো আলাদা দুআ করবেন না,সকলকে নিয়েই করবেন :

عَنْ ثَوْبَانَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لا يَحِلُّ لِامْرِئٍ اَنْ يَنْظُرَ فِي جَوْفِ بَيْتِ امْرِئٍ حَتَّى يَسْتَأْذِنَ فَ اِنْ نَظَرَ فَقَدْ دَخَلَ وَلَا يَؤُمَّ قَوْمًا فَيَخُصَّ نَفْسَهُ بِدَعْوَةٍ دُونَهُمْ فَ اِنْ فَعَلَ فَقَدْ خَانَهُمْ 

         অর্থ: ‘হযরত সাওবান (রা:) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তির জন্য উচিত নয় অন্য কারোর ঘরের ভিতরে তাকানো তাদের থেকে অনুমতি নেওয়ার আগে। যদি সে (অনুমতি নেওয়ার আগে) তাকায়, তাহলে সে খেয়ানত করলো। কোন ব্যক্তি লোকদের ইমাম হয়ে এমন হবে না যে, সে তাদেরকে বাদ দিয়ে দোয়াতে শুধু নিজের জন্যই দোয়া করবে। যদি এরূপ করে, তাহলে সে তাদের সাথে খেয়ানত করল।’ [তিরমিযী শরীফ ১/৮২, হাদীস নং-৩২৫]

 

★৬৷ সালাতের মধ্যে দুআয় হাত তোলা হবেনা, সালাতের বাইরের দুআয় হাত তোলা হবে :

 عَنْ مُحَمَّدُ بن اَبِي يَحْيَى، قَالَ: رَأْيَتُ عَبْدَ اللَّهِ بن الزُّبَيْرِ، وَرَاَى رَجُلًا رَافِعًا يَدَيْهِ يَدْعُو قَبْلَ اَنْ يَفْرَغَ مِنْ صَلاتِهِ، فَلَمَّا فَرَغَ مِنْهَا، قَالَ:" اِنَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُنْ يَرْفَعُ يَدَيْهِ، حَتَّى يَفْرَغَ مِنْ صَلاتِهِ"  

অর্থ: ‘হযরত মুহাম্মাদ ইবনে আবু ইয়াহইয়া (রহ.) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.)-কে দেখলাম যে, তিনি একজন নামাজীকে দেখলেন, সে নামাজ শেষ করার আগেই হাত তুলে দোয়া করছেন। তখন তিনি তাকে বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজ শেষ হওয়ার আগে হাত তুলে দোয়া করতেন না। [ আলমুজামুল কাবীর তাবারানী, হাদীস নং ৩২৪,  মাযমাউযযাওয়ায়েদ,১৭৩৪৫ ]

সনদ পর্যালোচনা: ইমাম নূরুদ্দীন হাইসামী (র) বলেন—و رجاله ثقات

এ হাদিসের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য ৷(মাজমাউয যাওয়ায়েদ,প্রাগুক্ত )


★ ৭৷ সালাম ফিরানোর পর মুসল্লীদের নিয়ে ফরয নামাজবাদ  রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবীদের (রা) হাত তুলে দুআ' 

**********************************************

عَنْ جَابِرٍ بْنِ يَزِيْدٍ الاَسْوَدِ الْعَامِرِيِّ عَنْ اَبِيْه قَالَ : صَلَّيْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلْفَجْرَ فَلَمَّا سَلَّمَ اِنْحَرَفَ وَ رَفَعَ يَدَيْهِ وَدَعَا .

         অর্থ: ‘হযরত জাবের ইবনে ইয়াযিদ আল আসওয়াদ আল-আমেরী (রা.) তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ফজরের নামাজ পড়লাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাম ফিরিয়ে ঘুরে বসলেন এবং দুই হাত তুলে দোয়া করলেন। [মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা-১/৩৩৭]


وَقَدْ كَانَ الْعَلَاءُ مِنْ سَادَاتِ الصَّحابة الْعُلَمَاءِ العبَّاد مُجَابِي الدَّعوة، اتَّفق لَهُ فِي هَذِهِ الْغَزْوَةِ أنَّه نَزَلَ مَنْزِلًا فَلَمْ يَسْتَقِرَّ النَّاس عَلَى الْأَرْضِ حَتَّى نَفَرَتِ الْإِبِلُ بِمَا عَلَيْهَا مِنْ زَادِ الْجَيْشِ وَخِيَامِهِمْ وشرابهم، وبقوا على الأرض ليس معهم شئ سِوَى ثِيَابِهِمْ – وَذَلِكَ لَيْلًا – وَلَمْ يَقْدِرُوا مِنْهَا عَلَى بَعِيرٍ وَاحِدٍ، فَرَكِبَ النَّاس مِنَ الهمِّ والغمِّ مالا يُحَدُّ وَلَا يُوَصَفُ، وَجَعَلَ بَعْضُهُمْ يُوصِي إِلَى بَعْضٍ، فَنَادَى مُنَادِي الْعَلَاءِ فَاجْتَمَعَ النَّاس إِلَيْهِ، فَقَالَ: أيُّها النَّاس أَلَسْتُمُ الْمُسْلِمِينَ؟ أَلَسْتُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟

أَلَسْتُمْ أَنْصَارَ اللَّهِ؟ قَالُوا: بَلَى، قَالَ: فَأَبْشِرُوا فَوَاللَّهِ لَا يَخْذِلُ اللَّهُ مَنْ كَانَ فِي مِثْلِ حَالِكُمْ، وَنُودِيَ بِصَلَاةِ الصُّبح حِينَ طَلَعَ الْفَجْرُ فصلَّى بالنَّاس، فلمَّا قَضَى الصَّلاة جَثَا عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَجَثَا النَّاس، وَنَصِبَ فِي الدُّعاء وَرَفَعَ يَدَيْهِ وَفَعَلَ النَّاس مِثْلَهُ حَتَّى طَلَعَتِ الشَّمْسُ، وَجَعَلَ النَّاسُ يَنْظُرُونَ إِلَى سَرَابِ الشَّمْسِ يَلْمَعُ مَرَّةً بَعْدَ أُخْرَى وَهُوَ يَجْتَهِدُ فِي الدُّعَا



 প্রখ্যাত সাহাবী আলা বিন হাযরামী (রাঃ)যিনি  মুস্তাজাবুদ দাওয়া  তথা দুআ কবুলকৃতদের অন্যতম সাহাবী ছিলেন। একদা বাহরাইনের জিহাদ থেকে ফেরার পথে এক স্থানে যাত্রাবিরতি করলে খাদ্যসামগ্রী ও তাবুর রসদসহ উটগুলো পালিয়ে যায়। তখন গভীর রাত। সবাই পেরেশান। ফজরের সময় হয়ে গেলে আজান হল। সবাই নামায আদায় করলেন। নামায শেষে আলা বিন হাযরামী (রাঃ) সহ সবাই হাত তুলে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত এবং সূর্যের কিরণ গায়ে লাগা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় দুআ করতে থাকেন। [ ইবনে কাসীর,আলবিদায়া ওয়াননিহায়া-৬/৩২৮-৩২৯]


৮৷ফরজ সালাত এর পরে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মুনাজাত:

عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه و سلم رفع رأسه بعد ما سلم وهو مستقبل القبلة فقال : اللهم خلص سلمة بن هشام وعياش بن أبي ربيعة والوليد بن الوليد وضعفة المسلمين الذين لا يستطيعون حيلة ولا يهتدون سبيلا

অর্থ: ‘হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) সালাম ফিরানোর পর কিবলামুখী হয়ে মাথা উঁচু করে দোআ করতেন, অতপর বলতেন- হে আল্লাহ! মুক্তি দান করুন সালামা ইবনে হিশাম, আইয়াশ ইবনে আবি রাবিআ, ওয়ালিদ ইবনে ওয়ালিদ এবং দুর্বল মুসলমানদেরকে যারা কৌশল অবলম্বন করতে সক্ষম নয় এবং সঠিক পথ প্রাপ্ত হয় না। [মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস- ১৭২৩৭, মুসনাদে বায্যার, হাদীস- ৭৮৪৫]

শিক্ষা: এ হাদীস থেকে নবী করীম (স.)-এর নামাজবাদ মুনাজাত প্রমাণ পাওয়া যায়। عن أنس بن مالك عن أنس بن مالك قال كان مقامي بين كتفي رسول الله صلى الله عليه و سلم فكان إذا سلم قال اللهم اجعل خير عمري آخره اللهم اجعل خواتيم عملي رضوانك اللهم اجعل خير أيامي يوم ألقاك  

         অর্থ: ‘হযরত আনাস বিন মালেক (রা.) বলেন, (নামাজে) আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরাবর পেছনে দাঁড়াতাম। তিনি যখন সালাম ফিরাতেন, বলতেন; হে আল্লাহ্! আমার জীবনের শেষ অংশটি উত্তম করে দিন। হে আল্লাহ্! আমার শেষ আমল আপনার সন্তুষ্টি দ্বারা সমৃদ্ধ করুন। হে আল্লাহ্! আমার দিবসগুলোর মধ্যে ওই দিবসকে উত্তম করুন, যে দিবসে আমি আপনার সাথে মিলিত হবো। [তাবরানী, আল মু’জামুল আওসাত, হাদীস- ৯৪১১]

          শিক্ষা: এ হাদীস থেকে নবী করীম (স.)-এর ফরজ নামাজ বাদ মুনাজাতের প্রমাণ পাওয়া যায়। 

★এ বিষয়ে সাধারণ নির্দেশনাঃ

عن انس عن النبي صلي الله عليه و سلم انه قال مامن عبد بسط كفيه في دبر كل صلاة ثم يقول اللهم الهي و اله ابراهيم و اسحاق و يعقوب و اله جبرائيل و ميكائيلو و اسرافيل اسئلك ان تستجيب دعوتي ،فاني مضطر ......(عمل اليوم و الليلة لابن السني ، تحفة الأحوذي شرح الترمذي)


সাইয়্যিদুনা আনাস (রা) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন,নবী করীম(সা )বলেন:যখন কোন বান্দা প্রত্যেক ফরয সালাতের পর দুই হাত প্রসারিত করে  বলে—  হে আমার প্রভু আল্লাহ !আপনি ইব্রাহীম,ইসহাক ও ইয়াকুবের (আ) ইলাহ্,জিব্রাঈল,মীকাঈল এবং ইস্রাফিলেরও ইলাহ্ ৷ আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি,আপনি আমার প্রার্থনা কবুল করুন------৷

(ইবনে সুন্নী, আমালুল ইয়াওমি অল লাইলি,হাদিস নং ১৩৮,তুহফাতুল আহওয়াযী,২/১৭১ )


সনদ পর্যালোচনা: বর্তমান শতাব্দীর মোবারাকপুরী (রহ) উক্ত হাদিসের রাবী আব্দুল আযীয বিন আব্দুর রহমান কে নিয়ে আপত্তি তুললেও প্রায় ৫০০ বছর আগের প্রখ্যাত হাদিস সমালোচক, হাফেজে হাদিস(যার এক লক্ষ হাদিস সনদসহ মুখস্ত থাকে তাকে হাফেযে হাদিস বলে)ইমাম যাহাবী (র) বলেন: الامام الحافظ

"তিনি (বর্ণনাকারী) ছিলেন হাদিসের ইমাম হাফেযুল হাদিস" ৷(সিয়ারু আলামীন নুবালা,২০/৫১৮ পৃঃ)


★দলবদ্ধভাবে দুআ করার নির্দেশনা (হাদীস):

عن سلمان رضي الله عنه قال قال رسول الله صلي الله عليه و سلم ما رفع قوم اكفهم الي الله عز و جل يسألونه شيأ الا كان حقا علي الله ان يضع في ايديهم الذي سألوا 

সাইয়্যিদুনা হযরত সালমান ফারসী (রা)বলেন,নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,যখন কোন সমষ্টিগত লোকেরা তাদের হাতের তালুআল্লাহর দিকে উঠিয়ে দুআ করে,তখন আল্লাহর আবশ্যক হয়ে যায় তাদের হাতসমূহে প্রার্থনা অনুযায়ী কিছু দেওয়ার (কবুল করার ) ৷

[সুনানে তাবরানী,মুজামুল কবীর,হাদিসঃ৬১৪২„ইমাম সুয়ূতী,জামিউস সগীর,১১৮৫৪]

সনদ পর্যালোচন: ইমাম হায়সামী বলেন—رواه 

الطبراني، ورجاله رجال الصحيح

ইমাম তাবরানী বর্ণনা করেছেন যে,এ হাদিসের বর্ণনাকারীগণ বিশুদ্ধ ৷(মাযমাউয যাওয়ায়েদ)

* ইমাম মানাবী(র) বলেন, সকলেই বিশুদ্ধ ৷(আত তাইসীর শরহে জামিউয সগীর,২য় খন্ড,৩৫০ পৃষ্ঠা ৷)


৯৷ দুই হাত তুলে দুআ করা সুন্নাত

-------------------------------

 الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّلاةُ مَثْنَى مَثْنَى تَشَهَّدُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ وَتَخَشَّعُ وَتَضَرَّعُ وَتَمَسْكَنُ وَتَذَرَّعُ وَتُقْنِعُ يَدَيْكَ يَقُولُ تَرْفَعُهُمَا اِلَى رَبِّكَ مُسْتَقْبِلًا بِبُطُونِهِمَا وَجْهَكَ وَتَقُولُ يَا رَبِّ يَا رَبِّ وَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَهُوَ كَذَا وَكَذَا، 

অর্থ: ‘হযরত ফযল ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নামায দুই রাকাত; প্রত্যেক দুই রাকাতে আত্ত্যাহিয়্যাতু পাঠ করতে হয়। ভয়-ভক্তি সহকারে কাতরতা ও বিনীতভাবে নামায আদায় করতে হয়। আর (নামায শেষে) দুই হাত তুলবে এভাবে যে, উভয় হাত আল্লাহ তাআলার দিকে উঠাবে এবং চেহারা কিবলামুখী করবে। অতপর বলবে, হে আল্লাহ! হে আল্লাহ ! (এভাবে দোয়া করবে।) যে ব্যক্তি এরূপ করবে না, সে অসম্পূর্ণ নামাযী। [তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং-৩৫১]


১০৷ইমাম দোয়া করার ক্ষেত্রে কেবল নিজের জন্য নয় বরং সকলের জন্য দুআ করবেন,সেটিই সুন্নাত ৷

~~~~~~~~~~~~

 

عَنْ ثَوْبَانَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لا يَحِلُّ لِامْرِئٍ اَنْ يَنْظُرَ فِي جَوْفِ بَيْتِ امْرِئٍ حَتَّى يَسْتَأْذِنَ فَ اِنْ نَظَرَ فَقَدْ دَخَلَ وَلَا يَؤُمَّ قَوْمًا فَيَخُصَّ نَفْسَهُ بِدَعْوَةٍ دُونَهُمْ فنْ فَعَلَ فَقَدْ خَانَهُمْ 

         অর্থ: ‘হযরত সাওবান (রা:) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তির জন্য উচিত নয় অন্য কারোর ঘরের ভিতরে তাকানো তাদের থেকে অনুমতি নেওয়ার আগে। যদি সে (অনুমতি নেওয়ার আগে) তাকায়, তাহলে সে খেয়ানত করলো। কোন ব্যক্তি লোকদের ইমাম হয়ে এমন হবে না যে, সে তাদেরকে বাদ দিয়ে দোয়াতে শুধু নিজের জন্যই দোয়া করবে। যদি এরূপ করে, তাহলে সে তাদের সাথে খেয়ানত করল।’ [তিরমিযী শরীফ ১/৮২, হাদীস নং-৩২৫]


শিক্ষা: এ হাদীস থেকে বোঝা যায় যে, ইমাম যখন দোআ করবে তখন মুক্তাদীদেরকে সাথে নিয়ে দোআ করবে। এরূপ না করে যদি সে একা একা দোআ করে, তাহলে সে যেন খেয়ানত করল।

عن حبيب بن مسلمة الفهري قال للناس سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول : لا يجتمع ملأ فيدعو بعضهم ويؤمن سائرهم إلا أجابهم الله ثم إنه حمد الله وأثنى عليه فقال : اللهم احقن دماءنا واجعل أجورنا أجور الشهداء   

অর্থ: ‘হযরত হাবীব ইবনে মাসলামা আল-ফাহরী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি মানুষদের উদ্দেশ্যে বলেন- আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন- কোন সম্প্রদায় একত্র হয়ে যখন তাদের কতিপয় লোক দোআ করে এবং বাকী সকলে আমীন আমীন বলে, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের দোআ কবুল করেন। অতপর রাসূলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর প্রসংশা ও গুণকীর্তন করলেন, এরপর বললেন- হে আল্লাহ! আমাদের রক্তকে নিবৃত্ত করে দাও এবং আমাদের প্রতিদানকে শহীদগণের প্রতিদানের ন্যায় করে দাও।’ [মুজামুল কাবীর, হাদীস- ৩৫৩৬]

এ হাদীস থেকে সম্মিলিত মুনাজাতের প্রমাণ পাওয়া যায়। 

★ ১১৷রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর  স্বীয় কর্ম  তথা হাদিসে ফি'লী (حديث فعلي)দ্বারা প্রমাণিত,হাত তুলে মুনাজাত করা :

قال أبو موسى الاشعرى رضى الله عنه دعا النبى صلى الله عليه وسلم ثم رفع يديه ورأيت بياض آبطيه 

অর্থ: ‘হযরত আবু মুসা আশ’আরী (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোআ করলেন, আর নিজের দুই হাত উত্তোলন করলেন; এমনকি আমি তাঁর উভয় বাহু মূলের শুভ্রতা প্রত্যক্ষ করেছি। [সহীহ আল-বুখারী, কিতাবুদ্ দাওয়াত, হাদীস- ২৩৩৫] 

عن أنس رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم رفع يديه حتى رأيت بياض ابطيه 


 অর্থ: ‘হযরত আনাস (রা.) বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোআর উদ্দেশ্যে হাত তুলেছেন, এমনকি আমি তাঁর উভয় বাহুমুলের শুভ্রতা প্রত্যক্ষ করেছি। [সহীহ আল বুখারী, কিতাবুদ দাওয়াত, হাদীস- ২৩৩৫] 

 

★ ১১৷হাতের তালু দ্বারা দুআ করা পিঠ দ্বারা নয়

**********************

عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اِنَّ اللَّهَ حَيِيٌّ كَرِيمٌ يَسْتَحْيِي اِذَا رَفَعَ الرَّجُلُ اِلَيْهِ يَدَيْهِ اَنْ يَرُدَّهُمَا صِفْرًا خَائِبَتَيْنِ 

         অর্থ: ‘হযরত সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বড় দয়ালু দাতা। যখন বান্দা তাঁর কাছে দোয়ায় হাত উঠায়, তখন তিনি তা খালি ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। [তিরমিযী শরীফ, ২/১৯৫, হাদীস নং-৩৪৭৯]

         শিক্ষা: এ হাদীস থেকে বোঝা যাচ্ছে, হাত তুলে মুনাজাত করলে তা কবূলের সম্ভাবনা বেশি।

عَنْ مَالِكِ بْنِ يَسَارٍ السَّكُونِىِّ ثُمَّ الْعَوْفِىِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ ্র إِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَاسْأَلُوهُ بِبُطُونِ أَكُفِّكُمْ وَلاَ تَسْأَلُوهُ بِظُهُورِهَا .

         অর্থ: ‘হযরত মালেক ইবনে ইয়াসার আস-সাকুনী (রা.) হতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন- যখন তোমরা আল্লাহর কাছে কোন কিছু চাইবে, তখন তোমরা তোমাদের হাতের তালুর পেট দিয়ে চাইবে; এবং তোমরা তোমাদের হাতের তালুর পিট দিয়ে চাইবে না। [সুনানে আবু দাউদ, ১/২০৯, হাদীস নং ১৪৮৮]


১২৷একজনের দুআয় অন্যরা আমীন বলা

***********************

عن حبيب بن مسلمة الفهري و كان مستجاب الدعوات قال سمعت رسول الله صلي الله عليه و سلم يقول لا يجتمع ملأ فيدعوا بعضهم و يؤمن البعض ،الا اجابهم الله ،(مستدرك للحاكم، و الطبراني في معجم الكبير)

হাবিব বিন মাসলামা আলফিহরী (রা)হতে বর্ণিত,তিনি বলেন,আমি রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: কিছু লোক যখন সম্মিলিত হয়ে দুআ করে এবং বাকীরা আমীন আমীন বলে ,তখন নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাদের দোয়া কবুল করেন ৷(মুস্তাদরাক লিল হাকিম,সুনানে তাবরানী,)

সনদ পর্যালোচনা: এ হাদিসের সনদ সম্পর্কে রিজাল শাস্ত্রের বিখ্যাত কিতাব 'মাযমাউয যাওয়ায়েদ' প্রণেতা নুরুদ্দীন হাইসামী বলেন—"এ হাদিসের সকল বর্ণনাকারী বিশুদ্ধ ৷(হায়সামী,মাযমাউয যাওয়ায়েদ,হাদিস নং ১৭৩৪৭)

* হযরত মুসা (আ) দুআ করতেন এবং হযরত হারুন(আ) 'আমীন' বলতেন ৷(সহীহ ইবনে খুযাইমা,হাঃ নং ১৫৮৬)


১৩৷★ফরয সালাতের পর হাত উঠিয়ে দুআ'র স্বপক্ষে ইসলামী স্কলার ও প্রাচীন ফিকহবিদদের মতামতঃ

***********************

সহীহ মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাকার ইমাম নববী(ওফাত:৬৭৬ হিজরী) এভাবে দুআ করাকে মুস্তাহাব বলেছেন :

قد ذكرنا استحباب الذكر و الدعاء للإمام و المأموم والمنفرد و هو مستحب عقيب كل الصلوات بلا خلاف، 

আমরা এ বিষয়ে উল্লেখ করেছি যে,প্রত্যেক সালাতের পর ইমাম,মুক্তাদী সম্মিলিত কিংবা আলাদা যিকরও দুআ পরিচালনা করা কোন মতভেদ ব্যতিরেকেই  মুস্তাহাব ৷(ইমাম নববী,শরহে মুহাযযাব,৩য় খন্ড,৪৮৮ পৃষ্ঠা )

★ বিখ্যাত হানাফী ফকীহ আল্লামা কামালুদ্দীন ইবনে হুমাম(র) বলেন:

لان رفعها عند الدعاءمستحب

এভাবে হাত উঠিয়ে দুআ করা মুস্তাহাব ৷(ফতহুল কাদীর,১ম খন্ড,৪৫১ পৃঃ,শরহে হেদায়া)

আল্লামা জা'ফর আহমাদ উসমানী তদীয় হাদিসের অনন্য সংকলন ও চুলচেরা বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যা গ্রন্থ 'ই'লাউস সুনান' ৩য় খন্ডের ২০৫ পৃষ্ঠায় লিখেন:

الحاصل ان ما جري به العرف في ديارنا من ان الإمام يدعو في دبر الصلاة مستقبلا للقبلةليس ببدعة بل له اصل في السنة،

মোদ্দাকথা হলো প্রচলিত ইমামের কিবলামুখী হয়ে মুসল্লীদের সহ সালাতের পর দুআ করা বিদআত নয়,বরং সুন্নাহ্তে (হাদিসে) তার ভিত্তি রয়েছে ৷

 উপমহাদেশের প্রসিদ্ধ আলিম, রচয়িতা মাওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী(র) তৎপ্রণীত তিরমিযী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল কাউকাবুদ দুররী বি শরহি তিরমিযী' তে উল্লেখ করেছেন: و هذا ثبت-----كماهو معمول

নামাযের পর হাত উঠিয়ে দুআ করা প্রমাণিত,অস্বীকার করা না জানার দৈন্যতা বৈ কিছু নয় ৷(তিরমিযীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ,১ম খন্ড,১৭১ পৃঃ)

★ আহলে হাদিসের প্রসিদ্ধ লেখক আব্দুর রহমান মুবারকপুরী তিরমিযীর প্রসিদ্ধ আরেক ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'তুহফাতুল আহওয়াযী'তে দুআ মুনাজাতের বিস্তারিত আলোচনার একপর্যায়ে লিখেন:

واستدلوا ايضا بعموم احاديث رفع اليدين في الدعاء قالوا ان الدعاء بعد الصلاة المكتوبة مستحب مرغب فيه وانه قد ثبت عن رسول الله صلي الله عليه و سلم .... وان رفع اليدين من آداب الدعاء

وانه لم يثبت المنع عن رفع اليدين في الدعاء بعد الصلاة المكتوبة......لا يكون رفع اليدين في الدعاء بعد الصلاة المكتوبة بدعة سيئة بل هو جائز، لا بأس علي من يفعله ،

উলামায়ে কিরাম দলীল পেশ করেছেন যে,নিশ্চয় ফরয সালাতের পর দুআ করা মুস্তাহাব,এ বিষয়ে হাদিসে উৎসাহিত করা হয়েছে ৷কেননা রসূলুল্লাহ্ (সা) থেকে প্রমাণিত আছে যে,তিনি ফরয সালাতের পরে দুআ করেছেন,আর দুআয় হাত উঠানো দুআর আদব ৷

অপরদিকে ফরয সালাতের পরে দুআয় হাত উঠানোর নিষেধাজ্ঞা নেই,বরং একাধিক হাদিস দ্বারা প্রমাণ আছে ৷----যে কারনে নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তা বিদআত হবেনা,বরং তা জায়েয এবং যে তা করবে সে ভুল করবে না ৷(তুহফাতুল আহওয়াযী ,শরহে তিরমিযী,দুআ অধ্যায়)


১৪৷দোয়ার বিষয়ে জগদ্বরেণ্য ইমামদের অভিমত:

**************************

তাফসীরে জালালাইনের রচয়িতা হাফেজে হাদিস মশহুর ইমাম 

আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহ. বলেন,

أَحَادِيْثُ رَفَعِ الْیَدَيْنِ فِي الدُّعَاءِ فَقَدْ وَرَدَ عَنْهُ ﷺ نَحْوُ مِائَةِ حَدِيْثٍ فِيْهِ رَفَعَ یَدَيْهِ فِي الدُّعَاءِ

অর্থাৎ দু’আর সময় হাত তোলার ব্যাপারে নবী সা. থেকে আনুমানিক এক শত হাদিস বর্ণিত আছে। যেখানে এটা বর্ণিত রয়েছে যে, নবী সা. দুআর সময় হাত উঠাতেন।

তিনি আরও বলেন,

الرَّفْعُ عِنْدَ الدُّعَاءِ تَوَاتَرَ بِاعْتَبَارِ الْمُجْمُوْعِ

অর্থাৎ সমষ্টিগতভাবে হাত তুলে দুআ করা মুতাওয়াতির হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

সূত্র: তাদরীবুর রাবী খ: ২ পৃ: ৬২১


ইমাম নববী রহ. এর অভিমত:

**********************

قَالَ جَمَاعَةٌ مِنْ أَصْحَابِنَا وَغَيْرِھِمْ اَلسُّنَّةُ فِي کُلِّ دُعَاءٍ لِرَفْعِ بَلاَءٍ کَالْقَحْطِ وَنَحْوِهِ أَنْ يَّرْفَعَ یَدَيْهِ وَیَجْعَلَ ظَھْرَ کَفَّيْهِ إِلَی السَّمَاءِ

অর্থাৎ আমাদের উলামায়ে কেরাম এবং অন্যান্য মাশায়েখগণ বলেছেন, মসিবত যেমন দুর্ভিক্ষ বা এমন কোনো বিষয় থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য দুআ করার সময় হাত উঠানো সুন্নাত এবং সেটা এভাবে যে, দু’হাতের তালু আসমানের দিকে উঠাবে।

তিনি আরও বলেন,

قَدْ ثَبَتَ رَفْعُ یَدَيْهِ ﷺ فِي الدُّعَاءِ فِي مَوَاطِنَ غَيْرَ الاسْتِسْقَاءِ وَھِيَ أَکْثَرُ مِنْ أَنْ تُحْصَرَ

অর্থাৎ এ বিষয়টি প্রমাণিত যে, নবী সা. ইস্তেস্কার নামাজ ছাড়াও অগনিত সময়ে হাত তুলে দু’আ করেছেন।সূত্রঃ শরহুল মুসলিম খ: ৬ পৃ: ১৯০ মারিফাতুস সুনান ওয়াল আছার খ: ৫ পৃ: ১৭৯


★ প্রখ্যাত রিজাল শাস্ত্রবিদ ইমাম  ইবনে রজব হাম্বলী রহ. দোয়ার আদব সম্পর্কে লিখেন :

-----------------------------------

আল্লামা ইবনে রজব হাম্বলী রহ. দু’আ কবুল হওয়ার জন্য ৪ টি বিষয় উল্লেখ্য করছেন। তার মধ্যে তৃতীয় বিষয় হিসাবে লিখেছেন,

الثالث: مد يديه إلى السماء، وهو من آداب الدعاء التي يرجى بسببها إجابته

অর্থাৎ তৃতীয় বিষয় হলো, (দু’আ করার সময়)১ দু’হাত আসমানের দিকে তুলে ধরবেন। এটা দু’আর একটি আদব, যার দ্বারা দু’আ কবুল হওয়ার আশা করা যায়।

সূত্র: জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম খ:১ পৃ: ২৫৮


★ইবনে তাইমিয়া রহ. এর অভিমত:

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়া রহ. দু’আ করার সময় হাত তোলার ব্যাপারে বলেন,

ويسن للداعي رفع يديه

অর্থাৎ দুআকারীর জন্য দু’হাত তোলা সুন্নাত।

সূত্র: আল ফাতাওয়াল কুবরা খ: ৫ পৃ: ৩৩৭


বিন বায রহ. এর অভিমত:

~~~~~~~~~~~~~~~~~~

إذا دعا ورفع يديه فهذا من أسباب الإجابة إلا في المواضع التي لم يرفع فيها النبي ﷺ فلا نرفع فيها

অর্থাৎ দু’আ করার সময় দু’হাত তোলা দু’আ কবুল হওয়ার কারণ। তবে কিছু জায়গায় নবী সা. হাত তোলেননি আমরাও সে সব স্থানে হাত তুলবো না।

সূত্র: মাজমুউ ফাতাওয়া বিন বায খ: ৬ পৃ: ১২৪


১৫৷সৌদী আরবের সর্বোচ্চ ফতাওয়া বোর্ডের অভিমত:

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

সঊদী আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের ফতাওয়া বোর্ডের ফতাওয়ার কিতাব আল-লাজনাহ আদ-দায়েমাহ লিল বুহুসিল ইলমীয়াহ  তে বলা হয়েছে :

الأصل أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا اجتهد في الدعاء رفع يديه

অর্থাৎ আসল বিষয় হচ্ছে, নবী সা. যখন দু’আ করতেন, তখন দু’হাত উঠাতেন।

সূত্রঃ আল-লাজনাহ আদ-দায়েমাহ খ: ২৪ পৃ: ২৪৬ফতাওয়া নং: ১৮০৫৬


১৬৷আহলে হাদীসদের ফতাওয়া:

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

دعا میں ہاتھ اٹھانا مسنون طریقہ ہے

অর্থাৎ দুআর সময় হাত উঠানো সুন্নাত।

সূত্র: ফাতাওয়ায়ে উলামায়ে হাদিস খ: পৃ: ২১৭


১৭৷উলামায়ে দেওবন্দের অভিমত:

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

★ হযরত মাওলানা মুফতী রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী ( রহ) দোয়া ও মুনাজাত অস্বীকার কারীদের সমালোচনা করেছেন। (আল কাওকাবুদ্দুররী: ২/২৯১)



আশরাফ আলী থানবী(রহ) নামাজ শেষ করে দোয়া মুনাজাত সম্পর্কে বলেন, 

بعد الفراغ من الصلاة يدعو الامام لنفسه و للمسلمين رافعي ايديهم 

 "সালাত শেষ করে ইমাম নিজের জন্যে এবং সকল মুসলমানের জন্য হাত উঠিয়ে দোয়া করবেন। " (ইমদাদুল ফাতওয়া,১ম খন্ড)।

তিনি একই কিতাবের অন্যত্র বলেন-

ان الدعاء دبر الصلاة مسنون و مشروع في المذاهب الاربعة لم ينكروا الا ناهق مجنون ، قد وصل في سبيل هواءو واسواس له الشيطان و اغواه،

 সালাত শেষ করে দোয়া মুনাজাত করা চার মাজহাবের রায় মোতাবেকই  সুন্নাহ সম্মত নেক আমল, কেবল মস্তিষ্ক বিকৃত,নির্বোধ,স্বেচ্ছাচারী ও শয়তানী প্ররোচিত ব্যাক্তি ছাড়া তা কেহ অস্বীকার করতে পারেনা। ((ইমদাদুল ফাতওয়া,১ম খন্ড


বেহেশতী জেওর ১১শ খন্ডের ৩২ পৃষ্ঠায় তিনি আরও লিখেন:

مسئلہ: بعد نماز ختم کر دونوں ہاتھ سینہ تک اٹھا کر پھیلائے اور اللہ سے اپنے دعاء مانگیں اور امام ہو تو تمام مقتدیوں کے لئے بھی ---الخ

নামাজ শেষ করে উভয় হাত সিনা বরাবর উঠিয়ে  নিজের জন্যে দোয়া করবে,আর ইমাম হলে সকল মুসল্লীর জন্য দোয়া করবেন-----৷


★হাকীমুল উম্মাত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ.

নামাযের পরে ইমামের দুআ’ করা এবং উপস্থিত লোকদের আমীন বলার বিষয়ে অনেক আলোচনা- পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন  যে, ইমাম ইবনে আরাফা এবং অন্যান্যদের বক্তব্যের সার কথা এই যে,যদি নামাযের পরের দুআ’ এই বিশ্বাসে করা হয় যে, এটা নামাযের সুন্নাত কিংবা অংশ তাহলে এটা বৈধ হবেনা৷ তবে এ ধরণের বিশ্বাস পোষণ করা ব্যতীত যদি এ জন্য দুআ’ করে যে, এটা স্বতন্ত্র একটা মুস্তাহাব ইবাদাত, তাহলে দুআ’র মূল হুকুমের উপর ভিত্তি করে এটাও মুস্তাহাব হবে যেহেতু দুআ’র ফজিলত কুরআন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। (ইমদাদুল ফতোয়া-১ম খন্ড, ৮০৪ পৃষ্ঠা)


★  ইউসুফ বিন্নৌরী (রহ) বলেন-

ﻓﻬﺬﻩ ﻭﻣﺎ ﺷﺎﻛﻠﻬﺎ ﺗﻜﺎﺩ ﺗﻜﻔﻰ ﺣﺠﺔ ﻟﻤﺎ ﺍﻋﺘﺎﺩﻩ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻓﻰ ﺍﻟﺒﻼﺩ ﻣﻦ ﺍﻟﺪﻋﺎ ﺍﻹﺟﺘﻤﺎﻋﻴﺔ ﺩﺑﺮ ﺍﻟﺼﻠﻮﺍﺕ ﻭﻟﺬﺍ ﺫﻛﺮﻩ ﻓﻘﻬﺎﺅﻧﺎ ﺃﻳﻀﺎ ﻛﻤﺎ ﻓﻰ ﻧﻮﺭ ﺍﻹﻳﻀﺎﺡ ﻭ ﺷﺮﺣﻪ ﻣﺮﺍﻗﻰ ﺍﻟﻔﻼﺡ ﻟﻠﺸﺮﻧﺒﻼﻟﻰ ﻭﻳﻘﻮﻝ ﺍﻟﻨﻮﻭﻯ ﻓﻰ ﺷﺮﺡ ﺍﻟﻤﻬﺬﺏ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﻟﻺﻣﺎﻡ ﻭ ﺍﻟﻤﺄﻣﻮﻡ ﻭﺍﻟﻤﻨﻔﺮﺩ ﻣﺴﺘﺤﺐ ﻋﻘﺐ ﻛﻞ ﺍﻟﺼﻠﻮﺍﺕ ﺑﻼ ﺧﻼﻑ ﻭﻳﺴﺘﺤﺐ ﺍﻥ ﻳﻘﺒﻞ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻗﻠﺖ ﻭﺛﺒﺖ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﻣﺴﺘﻘﺒﻞ ﺍﻟﻘﺒﻠﺔ ﺃﻳﻀﺎ ﻛﻤﺎ ﺗﻘﺪﻡ ﻓﻰ ﺣﺪﻳﺚ ﺍﺑﻰ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﻋﻨﺪ ﺍﺑﻰ ﺣﺎﺗﻢ ﻓﺜﺒﺘﺖ ﺍﻟﺼﻮﺭﺗﺎﻥ ﺟﻤﻴﻌﺎ ﻓﻠﻴﻨﺒﻪ - ( ﻣﻌﺎﺭﻑ ﺍﻟﺴﻨﻦ ,(৩/১২৩) ﺑﺎﺏ ﻣﺎ ﻳﻘﻮﻝ ﺇﺫﺍ ﺳﻠﻢ )

হযরত মাওলানা ইউসুফ বিন্নুরী রহ. বেশ কিছু হাদীস পেশ করার পরে বলেন: এগুলো এবং এর অনুরূপ যা আছে তা দ্বারা আমাদের দেশে প্রচলিত নামাযের পরে সম্মিলিত দুআর প্রমাণের জন্য প্রায় যথেষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে নামাযের পরে সম্মিলিত দুআর কথা আমাদের ফকীহগণ বলেছেন। যেমনটি উল্লেখ রয়েছে আবুল হাসান শারান্বুলালীর লিখিত ‘নুরুল ঈযাহ’ এবং উক্ত কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘মারাকিল ফালাহ’ কিতাবে। ইমাম নববী ‘শরহুল মুহাজ্জাব’ কিতাবের ৩য় খন্ড, ৪৮৮ পৃষ্ঠায় বলেন: ইমাম, মুক্তাদী ও একাকী নামাযী সকলের জন্য প্রত্যেক নামাযের পরে দুআ করা সর্বসম্মতিক্রমে মুস্তাহাব। আর ইমামের জন্য মুস্তাহাব হলো (দুআর সময়) মুসল্লীদের দিকে ফেরা। আল্লামা বিন্নুরী রহ. বলেন: কিবলার দিকে ফিরে দুআ করাও প্রমাণিত, যেভাবে হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে তাফসীরে আবু হাতিমে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং মুসল্লীদের দিকে ফিরে এবং কিবলামুখী হয়ে উভয় পদ্ধতিই প্রমাণিত  (মাআরিফুস সুনান: ৩/১২৩, ‘সালামের পরে কী বলবে’ অধ্যায়)


★প্রখ্যাত হাদীস সংকলক হযরত মাওলানা জাফর আহমাদ উসমানী রহ. বলেন: “আমাদের দেশে যে রীতি প্রচলিত রয়েছে যে, ইমাম সাহেব কোন কোন নামযের পরে কিবলামুখী হয়ে দুআ করেন, তা বিদআত নয়। বরং হাদীসে উক্ত দুআর ভিত্তি রয়েছে। যদিও ইমামের জন্য প্রত্যেক নামাযের পর ডানে বা বামে ফেরা উত্তম”। (ই’লাউস সুনান: ৩/১৯৯)

তিনি আরও বলেন: “আমাদের দেশে যে সম্মিলিত মুনাজাতের প্রথা চালু আছে যে, ইমাম সাহেব নামাযের পরে কিবলামুখী বসে দুআ করে থাকেন, এটা কোন বিদআত কাজ নয়। বরং হাদীসে এর প্রমাণ রয়েছে। তবে ইমামের জন্য উত্তম হলো ডানদিক বা বামদিকে ফিরে মুনাজাত করা”। (ই’লাউস সুনান: ৩/১৬৩, ৩/১৯৯)

তিনি আরও বলেন: “হাদীসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, প্রত্যেক ফরজ নামাযের পর হাত উঠিয়ে মুনাজাত করা মুস্তাহাব। যেমন আমাদের দেশে এবং অন্যান্য মুসলিম দেশে প্রচলিত আছে”। (ই’লাউস সুনান: ৩/১৬৭, ৩/২০৪) এরপর তিনি নামাযের পরে মুনাজাত অস্বীকারকারীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন। (ই’লাউস সুনান: ৩/২০৩)


★ ‘জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া’ এর দারুল ইফতা থেকে প্রকাশিত একটি প্রশ্নের উত্তরে মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা,বা হুজ্জত ও উসূলের উপর ভিত্তি করে প্রমান করেছেন ফরয সালাতের পর ইজতেমায়ি দোয়া করা মুস্তাহাব। এরপর তিনি বলেন :

“এ সকল বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, নামাযের পর ইমাম, মুক্তাদী সকলের জন্য সম্মিলিতভাবে মুনাযাত করা মুস্তাহাব। এ মুনাজাতকে বেদায়াত বলার কোন যুক্তিই নেই। কারণ-বিদায়াত বলা হয় সে আমলকে শরীয়তে যার কোন অস্তিত্বই নেই। মুনাজাত সেই ধরনের মূল্যহীন কোন আমল নয়।  (ফাতওয়ায়ে রাহমানিয়া)

★%★ 


নামাযের পর দোয়া করা ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম  হাত তুলে দোয়া করেছেন ,কারন দোয়ার অন্যতম আদবই  হলো হাত উঠানো 

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>

১৷ কুরআনের আয়াত পাঠ করে এবং কুরআন তিলাওয়াতের ( কুরআন খতম ) পর দুআ করা জায়েয বরং সুন্নাতে রাসূল ৷ এমন বরকতী বিষয়টি নিয়ে বিপরীতে অবস্থান কিংবা তর্ক সৃষ্টি করা সঠিক হবেনা ৷ فاعتبروا يا اولي الابصار

----------------------------------

 ক) আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু ‘আস (রা) বলেন, একদা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা ইবরাহী মের ৩৫ নং আয়াত পাঠ করে দু’হাত উঠিয়ে বলেন, "আমার উম্মাত, আমার উম্মাত" এবং কাঁদতে থাকেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে জিবরীল! তুমি মুহাম্মাদের(সা) নিকট যাও এবং জিজ্ঞেস কর, কেন তিনি কাঁদেন। অতঃপর জিবরীল তাঁর নিকটে আগমন করে কাঁদার কারণ জানতে চাইলেন। তখন রসূল (ﷺ) তাঁকে বললেন, আল্লাহ তা‘আলা তা অবগত। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা জিবরীলকে বললেন, যাও, মুহাম্মাদকে বল যে, আমি তার উপর এবং তার উম্মতের উপর সন্তুষ্ট আছি। আমি তার অকল্যাণ করব না’। (মুসলিম, ১ম খন্ড, পৃঃ ১১৩, হা/ ৩৪৬ ‘ ঈমান’ অধ্যায়) 

খ) 



২৷ হাত মোবারক অনেক উঁচু করে সাহাবীদের মাঝে দুআ করা:


وَقَالَ أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ دَعَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ، وَرَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ.

وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ رَفَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَيْهِ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَبْرَأُ إِلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ خَالِدٌ


আবূ মূসা (রাঃ) বর্ণনা করেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’খানা হাত এতটুকু উঠিয়ে দু‘আ করতেন যে, আমি তাঁর বগলের ফর্সা রং দেখতে পেয়েছি। ইবনু ‘উমার(রাঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’খানা হাত উঠিয়ে দু‘আ করেছেনঃ হে আল্লাহ! খালিদ যা করেছে আমি তা থেকে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছি।


৬৩৪১. অন্য এক সূত্রে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ হাত এতটুকু তুলে দু‘আ করেছেন যে, আমি তার বগলের শুভ্রতা দেখতে পেয়েছি। [১০৩১] (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- অনুচ্ছেদ)


৩৷ জুমুআর খুৎবার সময় খুৎবা প্রদান সাময়িক বিরত রেখেই দুআ :

 بَاب رَفْعِ الأَيْدِي فِي الدُّعَاءِ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ وَقَالَ الأُوَيْسِيُّ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، وَشَرِيكٍ، سَمِعَا أَنَسًا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ‏.‏

আনাস ইবনু মালেক (রাযিঃ) হ’তে  বর্ণিত তিনি বলেন, নবী কারীম (ﷺ)  এর যামানায় এক বছর দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। সে সময় একদিন নাবী (ﷺ) খুৎবা প্রদানকালে জনৈক বেদুঈন উঠে দাঁড়াল এবং আরয করল, হে আল্লাহর রসূল! বৃষ্টি না হওয়ার কারণে সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, পরিবার পরিজন অনাহারে মরছে। আপনি আমাদের জন্য দু‘আ করুন। অতঃপর রসূল (ﷺ) স্বীয় হস্তদ্বয় উত্তোলন পূর্বক দু‘আ করলেন। সে সময় আকাশে কোন মেঘ ছিল না। (রাবী বলেন) আল্লাহর কসম করে বলছি, তিনি হাত না নামাতেই পাহাড়ের মত মেঘের খন্ড এসে একত্র হয়ে গেল এবং তাঁর মিম্বর থেকে নামার সাথে সাথেই ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়তে লাগল। এভাবে দিনের পর দিন ক্রমাগত পরবর্তী জুম‘আ পর্যন্ত হ’তে থাকল। অতঃপর পরবর্তী জুম‘আর দিনে সে বেদুঈন অথবা অন্য কেউ দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ) অতি বৃষ্টিতে আমাদের বাড়ী-ঘর ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছে, ফসল ডুবে যাচ্ছে। অতএব আপনি আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য দু‘আ করুন। তখন তিনি দু’হাত তুললেন এবং বললেন, ‘হে আল্লাহ! আমাদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টি দাও, আমাদের এখানে নয়। এ সময় তিনি স্বীয় অঙ্গুলি দ্বারা মেঘের দিকে ইশারা করেছিলেন। ফলে সেখান থেকে মেঘ কেটে যাচ্ছিল। 

বুখারী, ১ম খন্ড, পৃঃ ১২৭, হা/৯৩৩ জুম‘আর ছালাত’ অধ্যায়)

★আনাস ইবনু মালেক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা জুম‘আর দিন জনৈক বেদুঈন রসূল (ﷺ)এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! বৃষ্টির অভাবে গৃহপালিত পশুগুলো মারা যাচ্ছে। মানুষ খতম হয়ে যাচ্ছে। তখন রসূল (ﷺ) দু‘আর জন্য দু’ হাত উঠালেন। আর লোকেরাও রসূল (ﷺ)-এর সাথে হাত উঠাল। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বেই বৃষ্টি আরম্ভ হয়ে গেল। এমনকি পরবর্তী জুম‘আ পর্যন্ত বৃষ্টি বর্ষিত হ’তে থাকল। তখন একটি লোক রসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লহর রসূল! রাস্তা-ঘাট অচল হয়ে গেল’। (বুখারী ১ম খন্ড, পৃঃ ১৪০, হা/১০২৯ ‘ইসতিস্কা’ অধ্যায়) 

 আনাস রাযিঃ) বলেন, আমি রসূল (ﷺ)-কে হস্তদ্বয়ের পিঠ আকাশের দিকে করে পানি চাইতে দেখেছি। মুসলিম, মিশকাত হা/১৪৯৮ ‘ইসতিস্কা’ অনুচ্ছেদ) 

 

৪৷ চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের সময় দুআ : আব্দুর রহমান ইবনু সামুরাহ (রা) বলেন, আমি রসূল (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় এক সময় তীর নিক্ষেপ করছিলাম। হঠাৎ দেখি সূর্যগ্রহণ লেগেছে। আমি তীরগুলো নিক্ষেপ করলাম এবং বললাম, আজ সূর্যগ্রহণে রসূল (ﷺ)-এর অবস্থান লক্ষ্য করব। অতঃপর আমি তাঁর নিকট পৌছলাম। তিনি তখন দু’হাত উঠিয়ে প্রার্থনা করছিলেন এবং তিনি ‘আল্লাহু আকবার’, ‘আল হামদুলিল্লাহ’, ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ বলছিলেন। শেষ পর্যন্ত সূর্য প্রকাশ হয়ে গেল। অতঃপর তিনি দু’টি সূরা পড়লেন এবং দু’রাক‘আত সলা-ত আদায় করলেন’। (মুসলিম ১ম খন্ড, পৃঃ ২৯৯ হা/৯১৩, ‘চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের ছালাত’ অধ্যায়) 


৫৷ কবর যিয়ারতের সময় হাত তুলে দোয়া হাদিস দ্বারা প্রমানিত: সহীহ হাদিসের বর্ণনা থাকতে এ বিষয়ে

জণমনে সন্দেহ সৃষ্টি করবেন না কেউ দয়া করে ৷ 

**************************  উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) বলেন, একদা রাতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকটে ছিলেন। শোয়ার সময় চাদর রাখলেন এবং জুতা খুলে পায়ের নিচে রেখে শুয়ে পড়লেন। তিনি অল্প সময় এ খেয়ালে থাকলেন যে, আমি ঘুমিয়ে পড়েছি। অতঃপর ধীরে চাদর ও জুতা নিলেন এবং ধীরে দরজা খুলে বেরিয়ে পড়লেন এবং দরজা বন্ধ করে দিলেন। তখন আমিও কাপড় পরে চাদর মাথায় দিয়ে তাঁর পিছনে চললাম। তিনি ‘‘বাক্বীউল গারক্বাদে’’ (জান্নাতুল বাক্বীতে) পৌঁছলেন এবং দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর তিন তিন বার হাত উঠিয়ে প্রার্থনা করলেন। (মুসলিম ১ম খন্ড, পৃঃ ৩১৩, হা/৯৭৪ ‘জানাযা’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৩৫)

★ ‘আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, কোন এক রাতে রসূল বের হ’লেন, আমি বারিরা (রা) কে পাঠালাম, তাঁকে দেখার জন্য যে, তিনি কোথায় যান। তিনি জান্নাতুল বাক্বীতে গেলেন এবং পার্শ্বে দাঁড়ালেন। অতঃপর হাত তুলে দু‘আ করলেন। তারপর ফিরে আসলেন। বারিরাও ফিরে আসলো এবং আমাকে খবর দিল। আমি সকালে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি গত রাতে কোথায় গিয়েছিলেন? তিনি বললেন, জান্নাতুল বাক্বীতে গিয়েছিলাম কবরবাসীর জন্য দু‘আ করতে। [ইমাম বুখারী, রাফ‘উল ইয়াদায়েন, পৃঃ ১৭, হাদীস ছহীহ; মুসলিম হা/ ৯৭৪ মর্মার্থ)]


৬৷ কোন ব্যাক্তি বিশেষের আবেদনে তার পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়ে দূআ করা সুন্নাতে নববী তথা নবী মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত ঃ

★আউতাসের যুদ্ধে আবু আমের (রা)এর শরীরে তীর লাগলে আবূ আমের স্বীয় ভাতিজা আবূ মূসা আল আশআরীর(রা) মাধ্যমে বলে পাঠান যে, আপনি আমার পক্ষ থেকে রসূল (ﷺ)-কে সালাম পৌঁছে দিবেন এবং ক্ষমা চাইতে বলবেন। আবূ মূসা আশ‘আরী (রা) রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এ সংবাদ পৌঁছালে তিনি পানির জন্য ডাকলেন এবং ওযূ করলেন। অতঃপর হাত তুলে প্রার্থনা করলেন ‘হে আল্লাহ! উবাইদ ও আবূ আমেরকে ক্ষমা করে দাও। (রাবী বলেন) এ সময়ে আমি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখলাম। তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহ! ক্বিয়ামতের দিন তুমি তাকে তোমার সৃষ্টি মানুষের অনেকের ঊর্ধ্বে করে দিও’। (বুখারী, ২য় খন্ড, পৃঃ ৯৪৪, হা/৪৩২৩ ও ৬৩৮৩ ‘দু‘আ সমূহ’ অধ্যায়) 

৭৷ মিনায় জামারায় কংকর নিক্ষেপের  সময় হাত তুলে দুআ (সুন্নাতে সাহাবা )ঃ

আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রা) তিনটি জামারায় সাতটি করে পাথর খন্ড নিক্ষেপ করতেন এবং প্রতিটি পাথর নিক্ষেপের সাথে তাকবীর বলতেন। প্রথম দু’ জামারায় পাথর নিক্ষেপের পর ক্বিবলামুখী হয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে দু’হাত তুলে দু‘আ করতেন। তবে তৃতীয় জামারায় পাথর নিক্ষেপের পর দাঁড়াতেন না। শেষে বলতেন, আমি রসূল ﷺ-কে এগুলো এভাবেই পালন করতে দেখেছি’। (বুখারী ১ম খন্ড পৃঃ ২৩৬, হা/১৭৫১ ‘হজ্জ’ অধ্যায়) 

৮৷ যুদ্ধের ময়দানেই  হাত তুলে দুআঃ সাইয়্যিদুনা উমর ইবনুল খাত্ত্বাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূল (ﷺ) বদরের যুদ্ধে মুশরিকদের দিকে লক্ষ্য করে দেখলেন, তাদের সংখ্যা এক হাজার। আর তাঁর সাথীদের সংখ্যা মাত্র তিনশত ঊনিশ জন। তখন তিনি ক্বিবলামুখী হয়ে দু’হাত উঠিয়ে দু‘আ করতে লাগলেন। এ সময় তিনি বলছিলেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সাহায্য করার ওয়াদা করেছ। হে আল্লাহ! তুমি যদি এই জামা‘আতকে আজ ধ্বংস করে দাও, তাহ’লে এই যমীনে তোমাকে ডাকার মত আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। এভাবে তিনি উভয় হাত তুলে ক্বিবলামুখী হয়ে প্রার্থনা করতে থাকলেন। এ সময় তাঁর কাঁধ হ’তে চাদরখানা পড়ে গেল। আবূ বকর তখন চাদরখানা কাঁধে তুলে দিয়ে রসূল (ﷺ)-কে জড়িয়ে ধরে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার প্রতিপালক প্রার্থনা কবুলে যথেষ্ট। নিশ্চয়ই তিনি আপনার সাথে কৃত ওয়াদা পূরণ করবেন। (মুসলিম, ২য় খন্ড, পৃঃ ৯৩, হা/১৭৬৩, ‘জিহাদ’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১৮)। 


৯৷ কোন গোত্রের জন্য দু‘আ করাঃ আবূ হুরায়রা বলেন, একদা আবূ তুফাইল রসূল (ﷺ) এর কাছে গিয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল ! দাঊস গোত্রও অবাধ্য ও অবশীভূত হয়ে গেছে, আপনি তাদের জন্য আল্লাহর কাছে বদ দু‘আ করুন। তখন রসূল (ﷺ) ক্বিবলামুখী হ’লেন এবং দু’হাত তুলে বললেন, হে আল্লাহ! তুমি দাঊস গোত্রকে হেদায়াত দান কর এবং তাদেরকে সঠিক পথে নিয়ে আস’। (বুখারী, মুসলিম, ছহীহ আল আদাবুল মুফরাদ, পৃঃ ২০৯, হা/৬১১ সনদ ছহীহ) 

১০৷ সাফা-মারওয়া সায়ী করার সময় দুআ :  হযরত আবূ হুরায়রা(রা) বলেন, রসূল (ﷺ) মাক্কায় প্রবেশ করলেন এবং পাথরের নিকট এসে পাথর চুম্বন করলেন, বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলেন এবং ছাফা পাহাড়ে এসে তার উপর উঠলেন। অতঃপর তিনি বায়তুল্লাহর দিকে লক্ষ্য করে দু’হাত উত্তোলনপূর্বক আল্লাহ্কে ইচ্ছামত স্মরণ করতে লাগলেন এবং প্রার্থনা করতে লাগলেন। (ছহীহ আবূ দাঊদ, হা/১৮৭২ সনদ ছহীহ মিশকাত হা/২৫৭৫ ‘হজ্জ’ অধ্যায়) 

১১৷ কুনূতে নাযেলার সময়ে দুআ: আবু উসামা (রা) হতে বর্ণিত, রসূল (ﷺ) কুনূতে নাযেলায় হাত তুলে দু‘আ করেছিলেন। (ইমাম বুখারী, রাফ‘ঊল ইয়াদায়েন সনদ ছহীহ) 


১২৷ সদাক্বাহ আদায়কারীর মন্তব্য শুনে হুজুরের (সা)হাত তুলে দু‘আ করা ঃ 

আবূ হুমায়দ আস সায়িদী(রা) বলেন, একবার নবী করীম (ﷺ) ইবনু লুত্ববিয়াহ নামক ‘আসাদ’ গোত্রের এক ব্যক্তিকে যাকাত আদায়ের জন্য কর্মচারী নিযুক্ত করলেন। তখন সে যাকাত নিয়ে মাদীনায় ফিরে এসে বলল, এ অংশ আপনাদের প্রাপ্য যাকাত, আর এ অংশ আমাকে হাদিয়া স্বরূপ দেয়া হয়েছে। এ কথা শুনে নাবী (ﷺ) ভাষণ দানের জন্য দাঁড়ালেন এবং প্রথমে আল্লাহর গুণগান বর্ণনা করলেন। অতঃপর বললেন, আমি তোমাদের কোন ব্যক্তিকে সে সকল কাজের জন্য কর্মচারী নিযুক্ত করি, যে সকল কাজের দায়িত্ব আল্লাহ তা‘আলা আমার উপর সমর্পণ করেছেন। অতঃপর তোমাদের সে ব্যক্তি এসে বলে যে, এটা আপনাদের প্রাপ্য যাকাত, আর এটা আমাকে হাদিয়া স্বরূপ দেয়া হয়েছে। সে কেন তার পিতা-মাতার ঘরে বসে থাকল না? দেখা যেত কে তাকে হাদিয়া দিয়ে যায়। আল্লাহর কসম, যে ব্যক্তি এর কোন কিছু গ্রহণ করবে, যে নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের দিন তা আপন ঘাড়ে বহন করে হাযির হবে। যদি আত্মসাৎকৃত বস্তু উট হয়, উটের ন্যায় ‘চি চি’ করবে, যদি গরু হয় তবে ‘হাম্বা হাম্বা’ করবে। আর যদি ছাগল-ভেড়া হয়, তবে ‘ম্যা ম্যা’ করবে। অতঃপর রসূল (ﷺ) স্বীয় হস্তদ্বয় উঠালেন, তাতে আমরা তাঁর বগলের শুভ্রতা প্রত্যক্ষ করলাম। তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই তোমার নির্দেশ পৌঁছে দিলাম। হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি পৌঁছে দিলাম’। (বুখারী পৃঃ ৯৮২,হা/৬৬৩৬ ‘কসম ও মানত’ অধ্যায়) 

১৩৷ মুমিনকে কষ্ট বা গালি দেয়ার প্রতিকারে হাত তুলে দু‘আঃ 

 হযরত আয়েশা (রা) রসূল (ﷺ)-কে হাত তুলে দু‘আ করতে দেখেন। তিনি দু‘আয় বলছিলেন, নিশ্চয়ই আমি মানুষ। কোন মুমিনকে গালি বা কষ্ট দিয়ে থাকলে তুমি আমাকে শাস্তি প্রদান কর না’। ছহীহ আল-আদাবুল মুফরাদ, হা/৬১০, পৃঃ ২০৯; সিলসিলা ছহীহা, হা/৮২-৮৩ সনদ ছহীহ) 


সম্মানিত পাঠকগণ! আলোচ্য অধ্যায়ে হাত তুলে দু‘আ করার প্রমাণে অনেকগুলো হাদীস পেশ করা হল, যদ্দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, হাত তুলে একাকী এবং সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন পরিবেশে দু‘আ করার বিধান শরী‘আত সম্মত ৷ অতএব আল্লাহর কাছে দুআ করার সময়ে আসামীর বেশে ভিক্ষুকের লাহন দুহাত পেতে মালিকের দরবারে চাওয়া পাওয়া করবেন,কবুল করার মালিক তিনিই ৷ মহান আল্লাহ্ বলেন :

وَ اِذَا سَاَلَكَ عِبَادِیۡ عَنِّیۡ فَاِنِّیۡ قَرِیۡبٌ ؕ اُجِیۡبُ دَعۡوَةَ الدَّاعِ  اِذَا دَعَانِ  ۙ فَلۡیَسۡتَجِیۡبُوۡا لِیۡ وَ لۡیُؤۡمِنُوۡا بِیۡ  لَعَلَّهُمۡ  یَرۡشُدُوۡنَ ﴿۱۸۶﴾

অনুবাদঃ আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যে আমার কাছে প্রার্থনা করে, তার প্রার্থনা  আমি কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে।

(When My servants ask thee concerning Me, I am indeed close (to them): I listen to the prayer of every suppliant when he calleth on Me: Let them also, with a will, Listen to My call, and believe in Me: That they may walk in the right way.)

(সূরাঃ আল বাকারা, আয়াতঃ ১৮৬)

আল্লাহ্ আমাদেরকে তারই আলীশান দরগাহে চাওয়ার তাওফীক দিন ৷  জনৈক শায়ের কতই না সুন্দর বলে গেছেন—

ہر گھڑی دینے کو تو تیار ہیں+ جو نہ مانگے اس سے تو بیزار ہیں ،


*فليتنافس المتنافسون  !

'অতএব,প্রতিযোগীতাকারীরা যেন অবশ্যই প্রতিযোগীতা করে '৷(আল কুরআন)


উপসংহার ঃ শান্তিপূর্ণ সফলতার দ্বারপ্রান্তে >

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

উপর্যুক্ত সফল দলীল প্রমান ও প্রাচীন উলামায়ে কিরামের রায় ও মতামত প্রত্যাখ্যান করে অধুনা তথাকথিত কতিপয় 'ফতওয়ার পুস্তিকা' বাজারজাত কী উদ্দেশ্যে বা কেন করা হলো, যে কারনে নামাযের পর দোয়ার বিষয়টি বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে আছে মসজিদগুলোতে সরলমনা মুসল্লীদের মাঝে ? আমি (লেখক) মনে করি দোয়া মুনাজাত একটি বরকতময় কাজ এবং ভালো কাজ না হলে তা উলামায়ে হক্ব সে যুগেই বর্জন করে যেতেন ৷ আর দলীল প্রমান ত সাথে আছেই ৷

সুতরাং এ কথা বলতেই হবে যে, অন্যান্য বরকতী ও ফজীলতপূর্ন ভালো কাজ বাদ দেওয়ার হোলি খেলায় মেতেছে যেমন কতিপয় চক্র— ঠিক এরই ধারাবাহিকতায় দোয়া কালামের ন্যায় আল্লাহ গফুরুর রহীমের দরবারে বান্দার রোনাজারীর পথ রূদ্ধ করতে মোটেও ভেবে দেখছেন না তারা ৷আল্লাহ্ তাদের চক্রান্ত থেকে সাধারন মানুষ তথা মুসলিম উম্মাহকে হিফাজত করুন ৷ 

_________


★★ পরিশেষে মহান আল্লাহ রব্বুল ইজ্জতের আ লীশান দরবারে ফরীয়াদ তিনি যেন উম্মাহর ক্রান্তিলগ্নে সকল মতভেদ পরিহার পূর্বক ফরয সালাত সমূহ  জামাআত সহকারে আদায় করার,বিশুদ্ধ তিলাওয়াত, তাসবীহাত শিখে নেওয়ার তাওফীক  আমাদের সকলকে দান করেন  ৷ সাথে সাথে মনের সকল আকূতি আরাধনা যেন তাঁর কাছে নিবেদন করতে পারি সে তাওফীক দান করেন —সে দুআ' ই করে যেতে পারি ৷কবির ভাষায়—"তুলি দুই হাত করি মুনাজাত হে রহীম রহমান,কত যে সুন্দর করিয়া ধরণী মোদের করেছো দান৷"


আল্লাহ আমাদের বুঝার তাওফিক দিন এবং দুআর ন্যায় মহান একটি ইবাদাতকে  তাসবীহ তাহলীল সহ কবুল করে নিন ৷ আ-মীন, বিহুব্বি সাইয়্যিদিল মুরসালীন, ইয়া আরহামার রাহিমীন ৷৷

সুবহা-না রব্বিকা রব্বিল ইজ্জাতি আম্মা ইয়াসিফুন,অ সালামুন আলাল মুরসালীন, আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আ লামীন ৷

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>

সম্পাদনায়: মাওলানা  মুহাম্মদ ইউনুস আলী, ধর্মীয় শিক্ষক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী,(কাদুগলী ক্যাম্প,সুদান ,আফ্রিকা থেকে )