بسم الله الرحمن الرحيم
মৃত ব্যাক্তির রূহের মাগফিরাত এবং পরকালীন শান্তির উদ্দেশ্যে ঈসালে সওয়াব তথা সওয়াব রেসানী করা ফলদায়ক :দলীলসহ আলোচনা
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
✩✩✩✩✩✩✩ ★★★★★★★
رب ارحمهما كما ربياني صغيرا ،
"হে প্রভূ !তাদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন,যেমনি শিশুকালে তারা আমাকে দয়াপরবশে লালন পালন করেছেন "—বনী ইসরাঈল,২৪
**************************
[লেখাটির প্রেক্ষাপট: তর্ক কেন্দ্রিক নয়,পরকালের চিন্তা ও উল্লিখিত হাদিসটির মর্ম অণুধাবন করেই কবরবাসীদের হক্ব আদায় করনার্থে এবং নায়েবে রসূলের কিঞ্চিত কর্তব্য পালনের নিয়তে লেখার প্রয়োজনীয়তা অনূভব করলাম ৷
[عن عبد الله بن عباس:] ما المَيِّتُ في القَبرِ إلّا كالغَريقِ المُتَغَوِّثِ، يَنتَظِرُ دَعوةً تَلحَقُه مِن أبٍ، أو أُمٍّ، أو أخٍ، أو صَديقٍ، فإذا لَحِقَتْه كانتْ أحَبَّ إليه مِن الدُّنيا وما فيها، وإنّ اللهَ لَيُدخِلُ على أهلِ القُبورِ مِن دُعاءِ أهلِ الأرضِ أمثالَ الجِبالِ، وإنّ هَديَّةَ الأحياءِ إلى الأمواتِ الاستِغفارُ لهم..
البيهقي (ت ٤٥٨)، شعب الإيمان ٦/٢٦٨٨ • ينفرد به ابن أبي عياش
সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা থেকে বর্ণিত,রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : মৃত ব্যাক্তি কবরে ডুবন্ত অসহায় সাহায্যপ্রার্থীর ন্যায় থাকে৷ সে তার পিতা ,মাতা,ভাই কিংবা বন্ধুর পক্ষ হতে কিছু পাওয়ার আশায় অপেক্ষমান থাকে ৷যখন এরূপ কোন কিছু সে পায় তখন তা তার কাছে দুনিয়া ও এর মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে বেশী মূল্যবান মনে হয় ৷ আল্লাহ্ তায়ালা পৃথিবীবাসীদের দুআ'কে কবরবাসীর জন্য পাহাড় সম আকৃতিতে পেশ করেন ৷মৃতদের জন্য জীবিতদের সবচেয়ে বড় বদান্যতা হলো তাদের জন্য ইস্তিগফার করা ৷(সুনানে বায়হাক্বী,শুআবুল ঈমান,হাসান হাদিস )]
-----------------------------------
★মৃতের সওয়াব রেসানী বা ঈসালে ছাওয়াব :
সওয়াব রেসানী শব্দটি ফারসী ,অর্থ সওয়াব পৌঁছানো ৷ আরবীতে যাকে ايصال الثواب ঈসালুস সাওয়াব এবং উর্দ্দু পরিভাষায় ঈসালে সাওয়াব বলে ৷
★ নিজের জীবদ্দশায় নিজের পরকালীন মুক্তির জন্য ঈমান ও রিসালাতের উপর দৃঢ় থেকে ফরয ইবাদাতসমূহ যথাযথ পালন,সামাজিক ও শরীয়তী সকল লেনদেন (বিশেষতঃ জীবদ্দশায় স্ত্রীর মোহরানা আদায়, সম্পত্তির বন্টন বিষয়ক ওসিয়ত,পরামর্শ এবং ক্ষেত্রবিশেষে বন্টননামা রেখে যাওয়া ,কারো হক্ব সম্পর্কিত বিষয়াবলী, আদায়যোগ্য ঋণ জীবদ্দশায় পরিশোধকরন ও আদায়করন এক্ষেত্রে অগ্রগণ্য) মুআমালাত ,আত্নীয়তার সম্পর্কসহ সকল কিছুর জবাবদিহীতার জন্য আমলনামা আপডেট রাখার দায়িত্ব সেদিন কেউ নিবেনা এবং সেগুলোর জন্য নিজেই জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে (যদিও আল্লাহর রহমতে বিশেষ মুক্তির আওতায় অনেকে সেদিন আসবেন ) ৷তাই নিজেরটা নিজে গুছিয়ে নেয়ার দায়িত্ব মৃত্যুর আগে সময় থাকতে একান্ত নিজের ৷ সাথে সাথে পরিপূরক সওয়াবের বিশেষ ঘাটতিতে তার সন্তানাদি ও পরিবারের যোগ্য সদস্যগণসহ নেককার লোকদের দোয়া ও বদান্যতা তার মুক্তির জন্য বিশাল উপকার বয়ে আনবে সেদিন —সহজ কথায় এ প্রক্রিয়াটাই হচ্ছে ঈসালে সওয়াব ৷
** ঈসালে সওয়াবের কতিপয় প্রক্রিয়া সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহ্ নির্ধারিত ৷ কিছু আছে মৃতব্যাক্তির আজীবন পরিশ্রম ও সাধনার ফসল,কিছু আছে অন্যের পক্ষ হতে দোয়া কিংবা আকুতি মিনতি সংক্রান্ত,কিছু আছে মৃতব্যাক্তির পূর্ণ জীবনকালের সৌন্দর্যছায়ার প্রতিফলন (নেককাজেরই ধারাবাহিকরূপ) এবং কিছু থাকবে নিজের আওলাদ ফরজান্দ সহ সাধারণ মানুষের সারাজীবনের উক্ত ব্যাক্তির চারিত্রিক মূল্যায়ন যা নৈমিত্তিক নেক দোয়া ও যিয়ারাত সালামের সাথে প্রবাহমান থাকবে ইনশা আল্লাহ্ ৷
নিম্নের আলোচনায় মৃত ব্যাক্তির স্বজনদের সুবিধার্থে,লেখক নিজেই অন্যতম মাতৃহারা সন্তান হিসেবে এবং মুসলিম উম্মাহর স্বার্থে নেক নিয়তে মৃতব্যাক্তির পরকালীন মুক্তির মানসে বিষয়টির বিশেষ হুকুম আহকাম যথাসম্ভব সবিস্তারে আলোচনার আশা রাখি ৷
( وما توفيقي الا بالله توكلت عليه و اليه انيب )
وما النصر الا من عند الله العزيز العليم ،
'মহামহিম মহাজ্ঞানী আল্লাহর সাহায্য ব্যতিরেকে কোন কিছুই নয়' ৷
-----------------------------------
বিষয়টি নিয়ে সুস্থ মস্তিষ্কে চিন্তা করলে এবং নিরপেক্ষ চর্চার মাধ্যমে যেসব বিষয়গুলো প্রতিভাত হয় তা নিম্নরূপ:
★মৃত ব্যাক্তির সন্তানাদি,আত্নীয় পরিজন যে কারো জন্য তার বিদেহী আত্নার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করা , ছাদকা করা, গরীবদের খাবার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি জায়েয বরং সুন্নাতে সাহাবা ৷
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمَّ سَعْدٍ مَاتَتْ فَأَىُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ قَالَ " الْمَاءُ " . قَالَ فَحَفَرَ بِئْرًا وَقَالَ هَذِهِ لأُمِّ سَعْدٍ .
সা’দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! উম্মু সা’দ মৃত্যুবরণ করেছেন (তার পক্ষ হতে) কোন সদাক্বাহ সর্বোত্তম হবে? তিনি বললেনঃ পানি। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (সা’দ) একটি কূপ খনন করে বললেন, এটা উম্মু সা’দের (কল্যাণের) জন্য ওয়াক্ফ। [১৬৮১]
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১৬৮১
হাদিসের মান: হাসান হাদিস ৷)
★ হাদিসটির ব্যাখ্যায় সুনানে আবু দাউদ শরীফের অনন্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ بذل المجهود في شرح ابي داؤد বলা হয়েছে :
وهذ الحديث يدل على أن ثواب العبادات المالية يصل إلى الموتى بإجماع أهل السنَّة.
وأما البدنية ففيه خلاف، فعند الحنفية يصل ثوابها أيضًا إلى الأموات، والشافعية ينكرونها.(بذل المجهود، كتاب الزكوة،باب فضل سقي الماء،)
অত্র হাদিস প্রমাণ করে যে,শারীরিক ইবাদাতের ন্যায় আর্থিক ইবাদাতের সওয়াব মৃতব্যাক্তির আমলনামায় পৌঁছে এবং বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ইমামগণের ইজমা (ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা) হয়েছে ৷ শারীরিক ইবাদাত (নামায,রোযা প্রভৃতি) সওয়াব পৌঁছানোর ক্ষেত্রে হানাফী প্রসিদ্ধ ইমামগণ পক্ষে এবং শাফেয়ীগণ কিছুটা মতভেদ করেছেন (যার বর্ণনা পরে বিস্তারিত আসছে )
*************
★ঈসালে ছওয়াবের বিভিন্ন পদ্ধতি নিম্নরূপ—
১৷ সদকায়ে জারীয়া তথা চলমান সওয়াব পৌঁছানোর মাধ্যম (charity)
২৷ মৃতের কল্যানে আজীবন সাধারন দান-সাদাকাহ্ ৷
৩৷কবর যিয়ারত ও কবরস্থানেই মৃতব্যাক্তির জন্য দোয়া করা ৷
৪৷ কুরআন তিলাওয়াত করতঃ সওয়াব বখশিশ করা এবং দোয়ার ব্যবস্থা ৷
৫৷ মৃত ব্যাক্তির অনাদায়ী মানত , হজ্জ্ব,কুরবানী,রোযা প্রভৃতি আদায়ের মাধ্যমে সওয়াব পৌঁছানো ৷
৬৷অনাদায়ী নামাযের কাফফারা আদায়,রোযার ফিদইয়া প্রদান ৷
৮৷ মৃতের আওলাদ তথা পরিবার পরিজনদের হক্ব পথে থাকায় কবরবাসীর জন্য কল্যানকর হয় এবং সওয়াব পৌঁছে তারা খুশি হয় ৷
★বিস্তারিত বর্ণনা(দলীল সহকারে)
১৷ সদকায়ে জারীয়া তথা চলমান দান (recurring charity)ঃ
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
হাদিসঃ১
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ - وَابْنُ حُجْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - هُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلاَّ مِنْ ثَلاَثَةٍ إِلاَّ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ " .
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার সমস্ত 'আমল বন্ধ হয়ে যায় তিন প্রকার 'আমাল ছাড়া। ১. সদাকাহ্ জারিয়াহ্ অথবা ২. এমন 'ইল্ম যার দ্বারা উপকার হয় অথবা ৩. পুণ্যবান সন্তান যে তার জন্যে দু’আ করতে থাকে। ( ই. ফা. ৪০৭৭, ই. সে. ৪০৭৬)।
সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৪১১৫(তাওহীদ পাবঃ),অসীয়ত অধ্যায় ৷
★সাদকায়ে জারীয়ার হাদিসটির পর্যালোচনাঃ
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
উল্লেখ্য , সওয়াব রেসানী বা ঈসালে ছওয়াব- এককথায় মৃতব্যাক্তির কল্যানে জীবিতদের দায়িত্ব কর্তব্যের সারমর্ম ও বুনিয়াদ হলো সহীহ মুসলিমের উপরোক্ত হাদিসটি ৷ অপরাপর যত নিয়ম-কানুন ও পদ্ধতি বর্ণিত হবে তার সবগুলোর মূলনীতি বর্ণিত হয়েছে হাদিসটিতে ৷ এখানে সেগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করছি ৷
★★নেক সন্তানের দোয়া সেদিন কাজে লাগবেই ইনশা আল্লাহ্ (দলীলসহ আলোচনা):
*************************
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ জান্নাতে সৎকর্মশীল বান্দার মর্যাদার স্তর উঁচু করবেন। তখন সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! কিভাবে এটা আমার জন্য হ’ল? তিনি বলবেন, بِاسْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَكَ ‘তোমার জন্য তোমার সন্তানের ক্ষমা প্রার্থনার কারণে’।
(সুত্র: মুসনাদে আহমাদ হা/১০৬১৮; ইবনু মাজাহ হা/৩৬৬০; মিশকাত হা/২৩৫৪ ‘ইস্তিগফার ও তওবা’ অনুচ্ছেদ; ছহীহাহ হা/১৫৯৮।)
★এজন্য সন্তানকে সর্বদা দো‘আ করতে হবে,رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِيْ صَغِيْراً- (রবিবরহাম্হুমা কামা রববাইয়া-নী ছগীরা) ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি তাদের প্রতি দয়া কর যেমন তারা আমাকে শৈশবে দয়াপরবশে লালন-পালন করেছিলেন’ (ইসরা ১৭/২৪)।
رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ-
রববানাগফিরলী ওয়ালি ওয়া লিদাইয়া ,ওয়া লিলমু’মিনীনা ইয়াউমা ইয়াক্বূমুল হিসা-ব— ‘হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং ঈমানদার সকলকে ক্ষমা কর যেদিন হিসাব
দন্ডায়মান হবে’ (সুরা ইবরাহীম :৪১)।
হাদিসঃ২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمَّ سَعْدٍ مَاتَتْ فَأَىُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ قَالَ " الْمَاءُ " . قَالَ فَحَفَرَ بِئْرًا وَقَالَ هَذِهِ لأُمِّ سَعْدٍ .
সা’দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল(স)! উম্মু সা’দ মৃত্যুবরণ করেছেন (তার পক্ষ হতে) কোন সদাক্বাহ সর্বোত্তম হবে? তিনি বললেনঃ পানি। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (সা’দ) একটি কূপ খনন করে বললেন, এটা উম্মু সা’দের
(কল্যাণের) জন্য ওয়াক্ফকৃত ৷
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১৬৮১
হাদিসের মান: হাসান হাদিস ৷
২৷সাধারন দান-সাদাকাহ্ ঃ
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আল্লাহর উদ্দেশ্যে মৃতব্যাক্তির আত্নার শান্তি ও মাগফিরাতের নিয়তে যে কোন দানের সওয়াব তিনি পাবেন ৷ অধূনা কতিপয় মিডিয়ার আলোচনা একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে এসব বিষয়গুলো থেকে নিরূৎসাহিত করে চলেছে সমাজকে ৷দলীল প্রমাণের পর আশা করি সে সন্দেহ কেটে যাবে ৷
হাদিসঃ১
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أَبِي مَاتَ وَتَرَكَ مَالاً وَلَمْ يُوصِ فَهَلْ يُكَفِّرُ عَنْهُ أَنْ أَتَصَدَّقَ عَنْهُ قَالَ " نَعَمْ " .
সাইয়্যিদুনা আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে জিজ্ঞেস করলেন, আমার পিতা মারা গেছেন এবং তিনি কিছু সম্পদ রেখে গেছেন; কিন্তু ওয়াসিয়্যাত করেননি। তার পক্ষ থেকে সদাকাহ্ করা হলে কি তার গুনাহ ক্ষমা হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ( ই. ফা. ৪০৭৩, ই. সে. ৪০৭২)
সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৪১১১ (প্রাগুক্ত অধ্যায়)৷
হাদিসঃ২
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أُمِّيَ افْتُلِتَتْ نَفْسُهَا وَإِنِّي أَظُنُّهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ فَلِيَ أَجْرٌ أَنْ أَتَصَدَّقَ عَنْهَا قَالَ " نَعَمْ " .
উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃএক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বললেন , আমার মা হঠাৎ মারা গেছেন। তাঁর ব্যাপারে আমি ধারণা করি, তিনি যদি কথা বলতে পারতেন তবে সদাকাহ্ করতেন। আমি যদি তাঁর পক্ষে সদাকাহ্ করি, তবে কি আমার এ কাজের কোন সাওয়াব হবে? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। ( ই. ফা. ৪০৭৪, ই. সে. ৪০৭৩)
সহীহ মুসলিম,হাদিস নং ৪১১২
হাদিস নং-৩:
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّيَ افْتُلِتَتْ نَفْسُهَا وَلَمْ تُوصِ وَأَظُنُّهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ أَفَلَهَا أَجْرٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهَا قَالَ " نَعَمْ "
আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহ্র রসূল! আমার মা হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন এবং কোন ওয়াসিয়্যাত করেননি। তাঁর প্রতি আমার ধারণা যে, যদি তিনি কথা বলার সুযোগ পেতেন তবে সদাকাহ্ করতেন। আমি যদি তার পক্ষে সদাকাহ্ করি, তবে কি তিনি সাওয়াব পাবেন? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। ( ই. ফা. ৪০৭৫, ই. সে. ৪০৭৪)
সহীহ মুসলিম,হাদিস নং ৪১১৩
হাদিসঃ৪
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمُ بْنُ أَخْضَرَ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ أَصَابَ عُمَرُ أَرْضًا بِخَيْبَرَ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَسْتَأْمِرُهُ فِيهَا فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَصَبْتُ أَرْضًا بِخَيْبَرَ لَمْ أُصِبْ مَالاً قَطُّ هُوَ أَنْفَسُ عِنْدِي مِنْهُ فَمَا تَأْمُرُنِي بِهِ قَالَ " إِنْ شِئْتَ حَبَسْتَ أَصْلَهَا وَتَصَدَّقْتَ بِهَا " . قَالَ فَتَصَدَّقَ بِهَا عُمَرُ أَنَّهُ لاَ يُبَاعُ أَصْلُهَا وَلاَ يُبْتَاعُ وَلاَ يُورَثُ وَلاَ يُوهَبُ . قَالَ فَتَصَدَّقَ عُمَرُ فِي الْفُقَرَاءِ وَفِي الْقُرْبَى وَفِي الرِّقَابِ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَالضَّيْفِ لاَ جُنَاحَ عَلَى مَنْ وَلِيَهَا أَنْ يَأْكُلَ مِنْهَا بِالْمَعْرُوفِ أَوْ يُطْعِمَ صَدِيقًا غَيْرَ مُتَمَوِّلٍ فِيهِ . قَالَ فَحَدَّثْتُ بِهَذَا الْحَدِيثِ مُحَمَّدًا فَلَمَّا بَلَغْتُ هَذَا الْمَكَانَ غَيْرَ مُتَمَوِّلٍ فِيهِ . قَالَ مُحَمَّدٌ غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً . قَالَ ابْنُ عَوْنٍ وَأَنْبَأَنِي مَنْ قَرَأَ هَذَا الْكِتَابَ أَنَّ فِيهِ غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً .
সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনু 'উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃতিনি বলেন, 'উমার (রাঃ) খাইবারে একখন্ড জমি লাভ করেন। তখন এ সম্পর্কে পরামর্শের জন্যে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট আসেন এবং বলেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আমি খাইবারে এমন একখন্ড জমি লাভ করেছি যে, এর চেয়ে উৎকৃষ্টতর সম্পদ আমি কখনও লাভ করিনি। আপনি এ সম্পর্কে আমাকে কী নির্দেশ দিন। তিনি বললেন, তুমি যদি চাও, তবে তার মূল মালিকানা রেখে তা সদাকাহ্ করতে পার। রাবী বলেন, তারপর 'উমার (রাঃ) তা সদাকাহ্ করে দেন এ শর্তে যে, এর মূলস্বত্ব বিক্রি করা যাবে না, খরিদ করা যাবে না, উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করা যাবে না এবং দানও করা যাবে না। সুতরাং 'উমার (রাঃ)- এর আয় দরিদ্র, আত্মীয়, দাস মুক্তি, জিহাদ, পথিক ও মেহমানের উদ্দেশ্যে সদাকাহ্ করে দেন। অবশ্য যে ব্যক্তি এর তত্ত্বাবধায়ক হবে তার জন্যে এর থেকে যুক্তিসংগত পরিমাণ খাওয়া বা কোন বন্ধু-বান্ধবকে খাওয়ানো দূষণীয় হবে না, যদি সে এর থেকে সঞ্চায় না করে ৷
সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৪১১৬(তাওহীদ পাবঃ)
( ই. ফা. ৪০৭৮, ই. সে. ৪০৭৭)
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
৩৷ কবর যিয়ারত এবং কবরের কাছে হাত তুলে মৃতদের জন্য আল্লাহর দরগাহে দোয়া করা ৷
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
কবর যিয়ারত করা সুন্নাতে রাসূল,সুন্নাতে সাহাবা,সুন্নাতে উলামা৷ বর্তমানে কবরকে সামনে নিয়ে দোয়া করা না করা,হাত উঠিয়ে দোয়া করা যাবেনা মর্মে বিভিন্ন কথা শোনা যায় ৷বিষয়টি সে কারনে সহীহ হাদিস ও দালায়েল সহ উপস্থাপনের চেষ্টা করা হলো ৷আশা করি বিষয়টি সম্মানিত পাঠকদের চিন্তা ও আমলের খোরাক হবে ৷
হাদিসঃ১৷
قَالَتْ عَائِشَةُ أَلاَ أُحَدِّثُكُمْ عَنِّي وَعَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قُلْنَا بَلَى . قَالَ قَالَتْ لَمَّا كَانَتْ لَيْلَتِيَ الَّتِي كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِيهَا عِنْدِي انْقَلَبَ فَوَضَعَ رِدَاءَهُ وَخَلَعَ نَعْلَيْهِ فَوَضَعَهُمَا عِنْدَ رِجْلَيْهِ وَبَسَطَ طَرَفَ إِزَارِهِ عَلَى فِرَاشِهِ فَاضْطَجَعَ فَلَمْ يَلْبَثْ إِلاَّ رَيْثَمَا ظَنَّ أَنْ قَدْ رَقَدْتُ فَأَخَذَ رِدَاءَهُ رُوَيْدًا وَانْتَعَلَ رُوَيْدًا وَفَتَحَ الْبَابَ فَخَرَجَ ثُمَّ أَجَافَهُ رُوَيْدًا فَجَعَلْتُ دِرْعِي فِي رَأْسِي وَاخْتَمَرْتُ وَتَقَنَّعْتُ إِزَارِي ثُمَّ انْطَلَقْتُ عَلَى إِثْرِهِ حَتَّى جَاءَ الْبَقِيعَ فَقَامَ فَأَطَالَ الْقِيَامَ ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ انْحَرَفَ فَانْحَرَفْتُ فَأَسْرَعَ فَأَسْرَعْتُ فَهَرْوَلَ فَهَرْوَلْتُ فَأَحْضَرَ فَأَحْضَرْتُ فَسَبَقْتُهُ فَدَخَلْتُ فَلَيْسَ إِلاَّ أَنِ اضْطَجَعْتُ
মুহাম্মাদ ইবনু ক্বায়স (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ----
‘আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, আমি কি তোমাদের আমার পক্ষ থেকে ও রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণনা করে শুনাব? আমরা বললাম, হ্যাঁ অবশ্যই। তিনি বলেন, যখন ঐ রাত আসত যে রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার কাছে থাকতেন। তিনি এসে তাঁর চাদর রেখে দিতেন, জুতা খুলে পায়ের কাছে রাখতেন। পরে নিজ তহবন্দের (লুঙ্গি) একদিক বিছানায় বিছিয়ে কাত হয়ে শুয়ে পড়তেন। অতঃপর মাত্র কিছু সময় যতক্ষণে তিনি ধারনা করতেন যে, আমি ঘুমিয়ে পরেছি, বিশ্রাম গ্রহন করতেন। অতঃপর উঠে ধীরে ধীরে নিজ চাদর নিতেন এবং জুতা পরিধান করতেন। পরে আস্তে আস্তে দরজা খুলে বেরিয়ে পড়তেন। অতঃপর কিছু সময় নিজেকে আত্মগোপন করে রাখতেন। একদিন আমি আমার জামা মাথার উপর স্থাপন করে তা দিয়ে মাথাটা ঢেকে লুঙ্গি পরিধান করে, অতঃপর তাঁর পেছনে রওনা হলাম। যেতে যেতে তিনি বাক্বী‘তে[৪৩] (ক্ববরস্থানে) পৌঁছলেন। তথায় তিনি দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর তিনি তিনবার হাত উঠিয়ে দু‘আ করলেন। এবার গৃহের দিকে ফিরে রওয়ানা করলে আমিও রওয়ানা হলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দ্রুত রওয়ানা করলে আমিও দ্রুত চলতে লাগলাম। তাঁকে আরও দ্রুত পদক্ষেপে এগিয়ে আসতে দেখে আমি আরও দ্রুত চলতে লাগলাম। এরপর আমরা দৌড়াতে আরম্ভ করলে আমি দৌড়ে তাঁর আগেই ঘরে ঢুকে পড়লাম এবং বিলম্ব না করেই শুয়ে পড়লাম। একটু পরে তিনি গৃহে প্রবেশ করে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে ‘আয়িশাহ্! তোমার কি হল? কেন হাঁপিয়ে পড়েছ? ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি জবাব দিলাম না, তেমন কিছু না। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হয় তুমি নিজে আমাকে ব্যাপারটা খুলে বলবে নতুবা মহান আল্লাহ আমাকে তা জানিয়ে দিবেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার ওপর আমার মাতা-পিতা কুরবান হোক! এরপর তাঁকে ব্যাপারটা জানিয়ে দিলাম। তিনি বললেন, তুমিই সেই কাল ছায়াটি যা আমি আমার সামনে দেখছিলাম। আমি বললাম: জি হ্যাঁ। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার বুকে একটা থাপ্পড় মারলেন যাতে আমি ব্যাথা পেলাম। অতঃপর বললেন, তুমি কি ধারনা করেছ আল্লাহ ও তাঁর রসূল তোমার ওপর অবিচার করবেন? ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, যখনি মানুষ কোন কিছু গোপন করে, আল্লাহ তা অবশ্যই জানেন। হ্যাঁ অবশ্যই জানেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যখন তুমি আমাকে দেখেছ এ সময় আমার কাছে জিব্রীল (‘আঃ) এসেছিলেন এবং আমাকে ডাকছিলেন। অবশ্য তা তোমার কাছে গোপন রাখা হয়েছে। আর আমিও তা গোপন রাখা বাঞ্ছনীয় মনে করে তোমার নিকট গোপন রেখেছি। যেহেতু তুমি তোমার কাপড় রেখে দিয়েছ, তাই তোমার কাছে তিনি আসেননি। আমি ভেবেছিলাম তুমি ঘুমিয়ে পরেছ। তাই তোমাকে জাগানো সমীচীন মনে করিনি। আর আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে, তুমি ভীত বিহ্বল হয়ে পড়বে। এরপর জিব্রীল (‘আঃ) বললেন, আপনার প্রভু আপনার প্রতি আদেশ করেছেন, বাক্বী‘র ক্ববরবাসীদের নিকট গিয়ে তাদের জন্য দু‘আ ইসতিগফার করতে। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি তাদের জন্য কীভাবে দু‘আ করব? তিনি বললেনঃতুমি বল, “এ বাসস্থানের অধিবাসী ঈমানদার মুসলিমদের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। আমাদের মধ্যে থেকে যারা আগে বিদায় গ্রহন করেছে আর যারা পিছনে বিদায় নিয়েছে সবার প্রতি আল্লাহ দয়া করুন। আল্লাহ চাহে তো আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হব।” (ই.ফা. ২১২৫, ই.সে. ২১২৮)
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২১৪৬
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
★কবর যিয়ারতের সময় কবরের দিকে মুখ করে যিয়ারত করতেন নবীকরীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম— আমাদেরও তাই করা উচিৎ হবে; কেননা যিয়ারত অর্থ সাক্ষাৎ করা ৷
হাদিসঃ২৷
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّلْتِ، عَنْ أَبِي كُدَيْنَةَ، عَنْ قَابُوسَ بْنِ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ؓ قَالَ: مَرَّ رَسُولُ اللهِ ﷺ بِقُبُورِ الْمَدِينَةِ فَأَقْبَلَ عَلَيْهِمْ بِوَجْهِهِ، فَقَالَ: السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ القُبُورِ، يَغْفِرُ اللَّهُ لَنَا وَلَكُمْ، أَنْتُمْ سَلَفُنَا، وَنَحْنُ بِالأَثَرِ( رواه الترمذي).
‘হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি হুযূর (ﷺ) এর সাথে মদিনার একটি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম, অতঃপর রাসূল (ﷺ) কবরের দিকে মুখ করলেন, অতঃপর এই দোয়া করলেন, আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর, ইয়াগ ফিরুল্লাহু লানা অ লাকুম, আনতুম সালাফুনা অ নাহনু-বিল আ-ছার।’’ (হে কবরবাসী তোমাদেরকে সালাম,আল্লাহ্ আমাদেরকে ও তোমাদেরকে ক্ষমা করুন ৷তোমরা আমাদের অগ্রগামী আর আমরা তোমাদের পশ্চাদানুসারী ৷)
ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান, ২/৩৭৫ পৃ, কিতাবুয জানাইয, হা/১০৫৩
ইমাম তাবরানী, মুজামুল কাবীর, ১২/১০৭ পৃ.
সনদ পর্যালোচনা:
এই হাদিসটির সনদ সহীহ গরীব ( একক বর্ণনার সহীহ হাদিস)।
৪৷ ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরআন খতম করা,করানো এবং তার সওয়াব বখশিশ করতঃ দোয়া করা, সাথে গরীবদের খাবার ব্যবস্থা রাখা সওয়াবের কাজ ঃ
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
মৃতের উদ্দেশ্যে কুরআন তিলাওয়াত মৃত্যুর সময় থেকে শুরু করে কবরে রাখার পর তথা সারাজীবন ফলদায়ক ৷ আফসোসের বিষয় হাদিসগুলো সম্পর্কে যথেষ্ট ব্যাখ্যা না করে অনেকে মৃতের আপনজনের কাছে সান্ত্বনার বদলে অহেতুক বাধাদান করেন, যা কষ্টকর ৷ অথচ, কত সুন্দর নির্দেশণা রয়েছে মৃতের কল্যানে:
★পবিত্র কুরআনুল কারীম খতম (তিলাওয়াত) শেষে পরিবার- পরিজন সহ লোকজন দাওয়াত করতঃ দোয়ায়ে খায়ের করা সাহাবায়ে কিরামের (রা) সুন্নাত, মোটেই তা বিদআত নয় বরং সওয়াবের কাজ , তবে শর্ত হলো বাড়াবাড়ি পরিহার করতঃ নিছক আল্লাহর উদ্দেশ্যে কবরবাসীর মুছিবতের কথা চিন্তা করেই তা আন্জাম দেওয়া, নিজেরা শরীয়তের হুকুম যথাযথ মান্য করা— কারন,দোয়া কবুলের শর্ত এটাই ৷
হাদিস ঃ১--৬ ৷
★[عن ثابت البناني:] عن أنسٍ أنَّه كان إذا ختم القرآنَ جمع أهلَه
البيهقي (ت ٤٥٨)، شعب الإيمان ٢/٨٤٧ • [صحيح موقوفا]
★ [عن ثابت:] كانَ أنسٌ إذا ختَمَ القرآنَ جمَعَ ولدَهُ وأهلَ بيتِهِ فدَعا لهُمْ.
شعيب الأرنؤوط (ت ١٤٣٨)، تخريج شرح السنة ٤/٤٩٢ • إسناده صحيح ،
★عن قتادة بن دعامة:] كان أنسٌ إذا ختَمَ القُرآنَ جمَعَ أهْلَه ودعا.
البهوتي (ت ١٠٥١)، كشاف القناع ١/٤٣٠ • روي بإسنادين صحيحين
★عن قتادة بن دعامة:] كان أنسُ بنُ مالكٍ - رضي اللهُ عنهُ - إذا ختمَ القرآنَ جمع أهلَهُ ودعا
النووي (ت ٦٧٦)، الأذكار ١٤١ • إسناده صحيح
★ [عن قتادة بن دعامة:] كان أنسُ بنُ مالكٍ - رضي اللهُ عنهُ - إذا ختمَ القرآنَ جمعَ أهلَهُ وَدَعا
النووي (ت ٦٧٦)، التبيان ١٩٤ • إسناده صحيح
★[عن ثابت البناني:] أنَّ أنسَ بنَ مالكٍ كان إذا خَتَمَ القرآنَ جمع أهلَهُ وولدَهُ فدَعا لَهُمْ
الهيثمي (ت ٨٠٧)، مجمع الزوائد ٧/١٧٥ • رجاله ثقات
১—৬ ৷৷ কাতাদা (রা) বর্ণনা করেন, বিখ্যাত সাহাবী আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কুরআনুল করীম খতম শেষ করে তাঁর পরিবারের লোকদের একত্রিত করতেন এবং দুআ' অনুষ্ঠান করতেন৷ ( ৬টি হাদিসের বর্ণনা সমপর্যায়ের একত্রে)
সূত্রঃ (সুনানে বায়হাক্বী, শরহুস সুন্নাহ, ইমাম নববীর কিতাবুল আযকার, মাজমাউয যাওয়াইদ লিল হাইসামী (র)
হাদিসের মান: সকল কিতাবেই হাদিস সমূহ সহীহ, সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্থ(ثقات) ৷
★****
❏ তাফসীর রূহুল বয়ানে সপ্তম পারায় সূরা আন-আমের১০১ নং আয়াতের তাফসীরে বলা হয়েছে-
وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَرك الخ
وَعَنْ حميد بن الأعْرَجِ قَالَ مَنْ قَرَأ الْقُرْآنَ وَخَتَمَهُ ثُمَّ دَعَا أَمَنَّ عَلَى دُعَائِهِ اَرْبَعَةَ آلافِ مَلَكٍ ثُمَّ لَا يَزَالُوْنَ يَدْعَوْنَ لَهُ وَيَسْتَغْفِرُوْنَ وَيَصَلُّوْنَ عَلَيْهِ اِلَى المسَاءِ اوْ اِلَى الصُّبْاحِ.
হযরত হুমাইদ বিন আ'রজ (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি কুরআন খতম করেন, তাঁর মুনাজাতে চার হাজার ফিরিশ্তা আমীন বলেন এবং সন্ধ্যা বা সকাল পর্যন্ত তার জন্য দুআ ও মাগফিরাত কামনা করতে থাকেন।
(সূত্র: আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী মিশরী, তাফসিরে রুহুল বায়ান, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৬৬, দারু ইহ্ইয়াউত-তুরাশুল আরাবী, বয়রুত, লেবানন
❏ মিশকাত শরীফের একমাত্র ফারসী শরাহ (ব্যাক্যাগ্রন্থ) আশ্আতুল লুমআতে একই অধ্যায়ে আরও উলেখিত আছে -
وبعض روايات امد است كه روح ميت می آيد خانه خودر اشب جمعه پس نظر مى كند كه تصدق كنند ازوے يانه.
‘‘জুমআর রাতে মৃত ব্যক্তি স্বীয় ঘরে আগমন করে এবং তার প্রতি লোকেরা সদকা করে কিনা তা অবলোকন করে।’’
★ বিখ্যাত হাদিসের ইমাম দারেমী (ওফাত ২৫৫ হিঃ) সংকলন করেন-
حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، قَالَ: كَانَ أَنَسٌ إِذَا خَتَمَ الْقُرْآنَ، جَمَعَ وَلَدَهُ وَأَهْلَ بَيْتِهِ فَدَعَا لَهُمْ
“হযরত সাবেত বুনানী (رحمة الله) বলেন, হযরত আনাস (رضي الله عنه) যখন কোরআন খতম করতেন তারপর তিনি তার সব সন্তানদের এবং তার পারিবারবর্গকে একত্রিত করতেন অতঃপর দোয়া করতেন।’’ (সুনানে দারেমী, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-২১৪০, ফাযাইলুল কোরআন, হাদিস-৩৫১৭, দারুল মুগনী লিলনশর, সৌদি)
❏ দুররুল মুখতারে মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন তিলাওয়াত র্শীষক আলোচনার الدفن অধ্যায়ে উলেখিত আছে -
وَفِي الْحَدِيثِ مَنْ قَرَأَ الْإِخْلَاصَ أَحَدَ عَشَرَ مَرَّةً ثُمَّ وَهَبَ أَجْرَهَا لِلْأَمْوَاتِ أُعْطِيَ مِنْ الْأَجْرِ بِعَدَدِ الْأَمْوَاتِ.
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি এগারবার সূরা ইখলাস পাঠ করে এর ছওয়াব মৃতদের প্রতি বখ্শিশ করে দেয়, এর ছওয়াব সকল মৃতব্যক্তিগণ পাবে।’’
(ফাতওয়ায়ে শামী, ২/২৪২-২৪৩ পৃঃ দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন।)
❏ ফত্ওয়ায়ে শামীতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে—
وَيَقْرَأُ مِنْ الْقُرْآنِ مَا تَيَسَّرَ لَهُ مِنْ الْفَاتِحَةِ وَأَوَّلِ الْبَقَرَةِ إلَى الْمُفْلِحُونَ وَآيَةِ الْكُرْسِيِّ - وَآمَنَ الرَّسُولُ - وَسُورَةِ يس وَتَبَارَكَ الْمُلْكُ وَسُورَةِ التَّكَاثُرِ وَالْإِخْلَاصِ اثْنَيْ عَشَرَ مَرَّةً أَوْ إحْدَى عَشَرَ أَوْ سَبْعًا أَوْ ثَلَاثًا، ثُمَّ يَقُولُ: اللَّهُمَّ أَوْصِلْ ثَوَابَ مَا قَرَأْنَاهُ إلَى فُلَانٍ أَوْ إلَيْهِمْ.
‘‘যতটুকু সম্ভব কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করবেন। সূরা ফাতিহা, সূরা বাকারার প্রথম কয়েক আয়াত, আয়াতুল কুরসী, আমানার রসূল, সূরা ইয়াসিন, তাবারাকাল মূলক, সূরা তাকাছুর ও সূরা ইখলাস বার বা এগারবার অথবা সাত বা তিনবার পাঠ করবেন। অতঃপর বলবেন-হে আল্লাহ; আমি যা কিছু তিলাওয়াত করলাম, এর ছওয়াব অমুককে বা অমুক লোকদের মাঝে পৌঁছে দিন।’’
(ইমাম ইবনে আবেদীন শামী, ফাতওয়ায়ে শামী, ২/২৪৩ পৃঃ দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন।)
খানা কিংবা তাবাররুক সামনে নিয়ে দোয়া করার দলীল:
**************************
❏ মিশকাত শরীফের كتاب الْأَطْعِمَة শীর্ষক অ্যধায়ে বর্ণিত আছে যে, হুযুর আলাইহিস সালাম খাওয়া-দাওয়া শেষে ইরশাদ ফরমাতেন -
الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا، طَيِّبًا مُبَارَكًا، غَيْرَ مَكْفِيٍّ، وَلَا مُوَدَّعٍ، وَلَا مُسْتَغْنًى عَنْهُ رَبَّنَا.
‘‘আল্লাহর অনেক পবিত্র মুবারক শুকর, হে খোদা, এতে অফরন্ত, অসীম ও অতৃপ্ত বরকত দিন।’’ ১০৬
(ইমাম ইবনে মাযাহ, আস-সুনান, ২/১০৯২পৃঃ হা/৩২৮৪, ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা-৮২, হাদিস/৫৪৫৮, ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান, ৫/৫০৭ পৃঃ হা/৩৪৫৬, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ২/১২১৫ পৃঃ হা/৪১৯৯, সুনানে আবি দাউদ, হা/৩৮৪৯)
এর থেকে বোঝা গেল, খাওয়ার পর পালনীয় দু’টি সুন্নাত রয়েছে-খোদার প্রশংসা করা ও ছাহেবে দাওয়াত এর জন্য দুআ করা।
❏ মিশকাত শরীফের المعجزات অ্যধায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে হযরত আবু হুরাইরা (رضي الله عنه) বলেন,আমি কিছু খোরমা হুযুর আলাইহিস সালাম-এর সমীপে পেশ করলাম এবং এর বরকতের জন্য দুআ করতে আরয করলাম।
فَضَمَّهُنَّ ثُمَّ دَعَا لِي فِيهِنَّ بِالبَرَكَةِ.
-‘‘তখন তিনি (ﷺ) এগুলোকে একত্রিত করলেন ও বরকতের জন্য দুআ করলেন।’’
(ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান, ৫/৬৮৫ পৃঃ হা/৩৮৩৯, ইমাম তিরমিযি এ হাদিসটিকে হাসান বলেছেন, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, মু’জিজাত আধ্যায়, ৩/১৬৬৮ পৃঃ হাদিস/৫৯৩৩)
❏ মিশকাত শরীফের المعجزات অ্যধায়ের প্রথম পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে যে, তাবুক যুদ্ধে ইসলামী সেনা বাহিনীর খাদ্য ঘাটতি দেখা দিল। হুযুর আলাইহিস সালাম সকল সৈনিককে নির্দেশ দিলেন-‘যার কাছে যা আছে, তা নিয়ে এসো’। সবাই কিছু না কিছূ আনলেন। দস্তরখানা বিছিয়ে দেওয়া হলো এবং এর উপর এগুলো রাখা হলো-
فَدَعَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْهِ بِالْبَرَكَةِ، ثُمَّ قَالَ: خُذُوا فِي أَوْعِيَتِكُمْ.
"অতঃপর হুযুর আলাইহিস সালাম এসবের বরকতের জন্য দুআ করলেন এবং ইরশাদ করলেন, আপনারা এখাণ থেকে নিয়ে নিজ নিজ প্লেটে রাখুন।’’
(ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, ১/৫৬ পৃঃ হা/২৭, পরিচ্ছেদ: بَابُ مَنْ لَقِي اللهَ بِالْإِيمَانِ وَهُو غَيْرُ شَاكٍّ فِيهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ وَحُرِّمَ عَلَى النَّارِ , খতিব তিবরিযি, মিশকাত, মু’জিজাত আধ্যায়, ৩/১৬৬০ পৃঃ হাদিস/৫৯১২)
❏ একই মিশকাত শরীফের একই অধ্যায়ে বর্ণিত আছে- হুযুর আলাইহিস সালাম হযরত যয়নব (রা) কে বিবাহ করা উপলক্ষে হযরত উম্মে সালমা (রা) ওলিমায় পরিবেশনের জন্য যৎসামান্য খাবার তৈরী করলেন। কিন্তু অনেক লোককে দাওয়াত দেয়া হয়েছিল। বর্ণনাকারী বলেন—
فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَضَعَ يَدَهُ عَلَى تِلْكَ الْحَيْسَةِ وَتَكَلَّمَ بِمَا شَاءَ اللَّهُ
‘‘ আমি দেখতে পেলাম হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই খাবারের উপর হস্ত মুবারক রেখে কিছু পাঠ করলেন।’’
(খতিব তিবরিযি, মিশকাত, মু’জিজাত আধ্যায়, ৩/১৬৬০ পৃঃ , হা/৫৯১৩, ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান, ৫/৩৫৭ পৃঃ হা/৩২১৮, ইমাম তিরমিযি (رحمة الله) বলেন- هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ -‘‘এই হাদিসটি হাসান, সহীহ।’’)
❏ শাহ ওলীউল্লাহ ছাহেব الانتباه فى سلاسل اولياء الله নামক স্বীয় কিতাবে বর্ণনা করেছন-
پس ده مرتبه درود خوانند ختم تمام كنند وبر قدرے شير نى فاتحه بنام خوا جان چشت عموما بخواند وحاجت از خدا سوال نمايند.
‘‘অতঃপর দশবার দরূদ শরীফ পাঠ করবেন এবং সম্পূর্ণ কুরআন খতম করবেন। তারপর কিছু মিষ্টান্ন (তবাররুক) সমস্ত বুজুর্গানে কিরামের নামে ফাতিহা(সুরা ফাতিহা পড়া) দিবেন ও খোদার কাছে দুআ করবেন।’’
★উপরোক্ত দলীল প্রমাণের সমর্থনে জগদ্বরেন্য ইমাম, ফকীহ ও অবিসং বাদিত স্কলারদের মতামত জানা প্রয়োজন:
১,ইমাম ইবনে কুদামা রাহ. তিলাওয়াতের সওয়াব রেসানির বৈধতার দলীল আলোচনা করতে গিয়ে বলেন,
وأنه إجماع المسلمين، فإنهم في كل عصر ومصر يجتمعون ويقرؤون القرآن، ويهدون ثوابه إلى موتاهم، من غير نكير.
সওয়াব রেসানীর বিষয়ে মুসলমান দের ইজমা তথা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে,প্রত্যেক যুগে প্রত্যেক শহরে তারা সমবেত হয়ে কুরআন তিলাওয়াত করে সওয়াব রেসানি করেছেন যাতে কেউ কোনও আপত্তি করেননি। (আলমুগনী ৩/৫২২)
★আহলে হাদীসদের মান্যবর আলেম মুবারকপুরীর বক্তব্য: উবায়দুল্লাহ মুবারকপুরী (১৪১৪হি.) বলেন,
دعا، استغفار، صدقہ، خیرات، حج و قربانی کی طرح تلاوت قرآن پاک کا ثواب بھی میت کو پہنچتاہے
দুআ, ইস্তিগফার, দান-খায়রাত, হজ্ব ও কুরবানীর মত কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াবও মাইয়িতের কাছে পৌঁছে। (ফাতাওয়া শাইখুল হাদীস মুবারকপুরী ৷)
৫৷ মৃতব্যাক্তির অনাদায়ী রোযা :
*************************
রোযার সওয়াব রেসানি করা বৈধ। নিম্নে এ সংক্রান্ত কিছু হাদীস উদ্ধৃত করা হল।
عن عائشة رضي الله عنها، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: من مات وعليه صيام صام عنه وليه.
১. আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ রোযা জিম্মায় রেখে মারা গেলে তার অভিভাবক যেন তার পক্ষ থেকে রোযা রাখে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯৫২
عن ابن عباس رضي الله عنهما، قال: جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فقال: يا رسول الله إن أمي ماتت وعليها صوم شهر، أفأقضيه عنها؟ قال: نعم، فدين الله أحق أن يقضى.
২. ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, আমার মা মারা গেছেন কিন্তু তার জিম্মায় এক মাসের রোযা ছিল। আমি কি তার পক্ষ থেকে ক্বাযা করতে পারব? তিনি বললেন, হাঁ। আল্লাহর ঋণই অধিকতর পরিশোধযোগ্য। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯৫৩
عن عبد الله بن بريدة، عن أبيه رضي الله عنه، قال: بينا أنا جالس عند رسول الله صلى الله عليه وسلم، إذ أتته امرأة، فقالت: إني تصدقت على أمي بجارية، وإنها ماتت.. إنه كان عليها صوم شهر، أفأصوم عنها؟ قال: صومي عنها.
৩. বুরায়দা রা. থেকে বর্ণিত, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত ছিলাম, এক মহিলা এসে বলল, …আমার মা ইন্তেকাল করেছেন। তার জিম্মায় এক মাসের রোযা ছিল। আমি কি তার পক্ষ থেকে রোযা রাখতে পারব? তিনি বললেন, (হাঁ), তুমি তার পক্ষ থেকে রোযা রাখো। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৪৯
উপরোক্ত হাদীসগুলোতে মৃত ব্যক্তির জন্য রোযা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ থেকে বোঝা গেল যে, রোযা তার কাজে আসবে এবং এর সওয়াব তার কাছে পৌঁছবে।
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহ.-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কুরআন তিলাওয়াত ও সদকার সওয়াব মাইয়িতের কাছে পৌঁছে কি না? উত্তরে তিনি বলেছেন,
لا نزاع بين علماء السنة والجماعة في وصول ثواب العبادات المالية كالصدقة والعتق، كما يصل إليه أيضا الدعاء والاستغفار والصلاة عليه صلاة الجنازة والدعاء عند قبره. وتنازعوا في وصول الأعمال البدنية: كالصوم والصلاة والقراءة. والصواب أن الجميع يصل إليه. . .وهذا مذهب أحمد وأبي حنيفة وطائفة من أصحاب مالك والشافعي.
ইবাদাতে মালিয়া যথা সদকা ও গোলাম আযাদ করার সওয়াব পৌঁছার ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর আলেমদের কোনও মতভেদ নেই। যেমন মতভেদ নেই দুআ, ইস্তিগফার, জানাযার নামায ও কবরের পাশের দুআ পৌঁছার ব্যাপারে। মতভেদ হয়েছে শুধু শারীরিক ইবাদত যেমন রোযা, নামায ও কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব পৌঁছার ক্ষেত্রে। তবে সঠিক হল সবকিছুই তার কাছে পৌঁছে।
এরপর তিনি আয়েশা রা., ইবনে আব্বাস রা. ও আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা.-এর হাদীস তিনটি উল্লেখ করে বলেন, এটা ইমাম আহমদ, আবু হানীফা এবং এক জামাত মালেকী ও শাফেয়ী ফকীহের মত ৷
৬৷ নফল কুরবানীর সওয়াব
*********************
বিভিন্ন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে,নফল কুরবানী দ্বারা ঈসালে সওয়াব করা জায়েয। এখানে কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করা হলো—
১. আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর জন্য কালো পা, কালো পেট ও কালো ভ্রু বিশিষ্ট দুম্বা আনার নির্দেশ দিলেন। আনা হলে তিনি আয়েশা রা.-কে বললেন, একটি ছুরি এনে পাথরে ঘষে ধারালো কর। তিনি তা-ই করলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছুরি হাতে নিয়ে দুম্বাকে শুইয়ে যবাহ করার জন্য প্রস্তুত হলেন এবং বললেন,
باسم الله، اللهم تقبل من محمد وآل محمد، ومن أمة محمد.
‘আল্লাহর নামে যবাহ করছি। হে আল্লাহ! আপনি তা কবুল করুন মুহাম্মদ ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে এবং তার উম্মতের পক্ষ থেকে।’ তারপর কুরবানী করলেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৬৭,কুরবানী অধ্যায় ৷
২. عن أبي سعيد الخدري، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ضحى بكبش أقرن، وقال: هذا عني، وعمن لم يضح من أمتي.
আবু সায়ীদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কুরবানী করেছেন এবং বলেছেন, এটা আমার পক্ষ থেকে এবং আমার যে সকল উম্মত কুরবানী করতে অক্ষম তাদের পক্ষ থেকে। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১১০৫১
সনদ পর্যালোচনা:
আল্লামা নূরুদ্দীন হায়ছামী রহ. (৮০৭হি.) বলেন, رجاله ثقات ‘এর বর্ণনাকারীগণ ছিকা' তথা বিশ্বস্ত ৷ -মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৪/১৯
এ হাদীসগুলোয় আমরা লক্ষ করেছি যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জন্য কুরবানী করেছেন এবং এতে নিজ পরিবার ও উম্মতের মধ্যে যারা কুরবানী করতে অক্ষম তাদেরকে অংশীদার করেছেন। বহু ফকীহ ও হাদীস ব্যাখ্যাকার বলেছেন যে, এখানে তাদেরকে সওয়াবের মধ্যে শরীক করা উদ্দেশ্য। অর্থাৎ তাদেরকে কুরবানীর সওয়াব পৌঁছানো হয়েছে।
আমীর সানআনী রাহ. (১১৮২হি.) উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা.-এর হাদীসটির ব্যাখ্যায় বলেন,
ودل قوله: >وآل محمد< وفي لفظ >عن محمد وآل محمد<: أنه تجزئ التضحية من الرجل عن أهل بيته ويشركهم في ثوابها، وأنه يصح نيابة المكلف عن غيره في فعل الطاعات، إن لم يكن من الغير أمر ولا وصية، فيصح أن يجعل ثواب عمله لغيره، صلاة كانت أو غيرها.
عن محمد وآل محمد বাক্যটি থেকে বোঝা যায় যে, নিজ পরিবারের পক্ষ থেকে কুরবানী করে তাদেরকে সওয়াবের মধ্যে শরীক করা জায়েয এবং অন্যের পক্ষ থেকে নায়েব হিসেবে নেক কাজ করা যাবে, যদিও তার পক্ষ থেকে নির্দেশ বা অসিয়ত না থাকে। সুতরাং নেক কাজের সওয়াব অন্যকে দান করা বৈধ। তা নামায হোক বা অন্য কিছু। -সুবুলুস সালাম ৪/১২৫
এ বিষয়ক বিভিন্ন হাদীস উল্লেখ করে বলেন,
وهذه الأحاديث كلها تدل دلالة واضحة على أنه يجوز للرجل أن يضحي عنه وعن أتباعه وأهل بيته وعن الأموات ويشركهم معه في الثواب.
এ হাদীসগুলো থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, নিজের সঙ্গে পরিবার ও মৃতদের জন্য কুরবানী করে তাদেরকে সওয়াবের মধ্যে অংশীদার করা জায়েয। -আলমুজামুস সাগীর পৃ. ১৭৪
★শায়েখ মুহাম্মদ ইবনে সালেহ আলউসায়মীন বলেন,
والأضحية عبادة بدنية قوامها المال، وقد ضحى النبي صلى الله عليه وسلم عن أهل بيته وعن أمته جميعا، وما من شك في أن ذلك ينفع المضحى عنهم، وينالهم ثوابه ولو لم يكن كذلك لم يكن للتضحية عنهم فائدة.
কুরবানী এমন একটি দৈহিক ইবাদত, যার মূল হল সম্পদ। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ পরিবার ও উম্মত সকলের পক্ষ থেকে কুরবানী করেছেন। সন্দেহ নেই যে, এটা তাদের উপকারে আসবে এবং এর সওয়াব তাদের কাছে পৌঁছবে। নতুবা তাদের পক্ষ থেকে কুরবানী করার কোনও অর্থ নেই। -মাজমূউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ১৭/২৬০
৭৷হজ্জ্ব ও উমরার সওয়াব:
*******************
عن أبي رزين العقيلي أنه أتى النبي صلى الله عليه وسلم، فقال : يا رسول الله، إن أبي شيخ كبير، لا يستطيع الحج والعمرة، ولا الظعن، قال : حج عن أبيك واعتمر.
আবু রাযীন উকায়লী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা খুবই বৃদ্ধ। তিনি হজ্ব, উমরা এমনকি সফর করতেও সক্ষম নন। নবীজী বললেন, তুমি তার পক্ষ থেকে হজ্ব ও উমরা করো। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস ৯৩০)
এ হাদীস থেকে স্পষ্ট যে, মাযূরের পক্ষ থেকে নায়েব হিসেবে উমরা করা জায়েয। সুতরাং নিজে উমরা করে মাইয়িতকে সওয়াব পৌঁছানোও জায়েয হবে। কারণ ‘নিয়াবতে’র চেয়ে ঈসালে সওয়াব হালকা।
★সৌদি আরবের মুফতী শায়েখ মুহাম্মদ ইবনে সালেহ আল উসায়মীন বলেন,
يجوز الاعتمار عن الميت كما يجوز الحج عنه.
মৃতের পক্ষ থেকে হজ্বের মত উমরা করাও জায়েয। -ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম পৃ. ৫০৬
শায়েখ আবদুল্লাহ ইবনে জিবরীন রাহ. (১৪৩০হি.) বলেন,
يجوز أن يهدى للميت شيء من الأعمال فتنفعه، كالحج والعمرة والصدقة والدعاء والجهاد ونحو ذلك.
যে কোনও নেক আমল মাইয়িতকে হাদিয়া দেওয়া জায়েয এবং এ তার উপকারে আসবে। যেমন হজ্ব, উমরা, সদকা, দুআ, জিহাদ ইত্যাদি। -আদদুরারুল মুবতাকারাত ফী শরহি আখসারিল মুখতাসারাত ১/৪৫৪-৪৫৫
৮৷নামাযের সওয়াব
****************
নামায পড়ে মৃত ব্যক্তিকে সওয়াব পৌঁছানো জায়েয। আমরা আগে দেখেছি যে, অর্থ ও দেহের সমন্বিত ইবাদত তো বটেই রোযার মত নিখুঁত শারীরিক ইবাদতের সওয়াব ও ঈসালে সওয়াব জায়েয। এ থেকে বোঝা যায় যে, নামাযের ঈসালে সওয়াব করাও জায়েয।
ইবনে কুদামা রাহ. (৬২০হি.) দুআ, ইস্তিগফার, হজ্ব ও রোযার ঈসালে সওয়াব সংক্রান্ত কিছু হাদীস উল্লেখ করে বলেন,
وهذه أحاديث صحاح، وفيها دلالة على انتفاع الميت بسائر القرب؛ لأن الصوم والحج والدعاء والاستغفار عبادات بدنية، وقد أوصل الله نفعها إلى الميت، فكذلك ما سواها.
এগুলো সহীহ হাদীস এবং এ থেকে বোঝা যায় যে, সকল নেক আমল মাইয়িতের উপকারে আসবে। কারণ রোযা, হজ্ব, দুআ ও ইস্তিগফার ইবাদাতে বাদানিয়া হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ এর কল্যাণ মৃত ব্যক্তিকে পৌঁছান। সুতরাং অন্যান্য নেক আমলের হুকুমও একই হবে। -আলমুগনী ৩/৫২১
অধূনা সৌদি আরবের প্রসিদ্ধ মুফতী শায়েখ সালিহ আল উসায়মীন বলেন:
فإذا أراد شخص أن يصلي ويجعل ثوابها لميته، أو يتصدق، أو يحج، أو يقرأ القرآن، أو يصوم، ويجعل ثواب ذلك لميته فلا بأس به.
ৃوسائر العبادات كالصدقة إذ لا فرق بينهما.
والنبي صلى الله عليه وسلم لم يرد عنه نص يمنع مثل ثواب هذه للميت، حتى نقول: إننا نقتصر على ما ورد، فإذا جاءت السنة بجنس العبادات فإنه يكون المسكوت عنه مثل المنطوق به، لاسيما وأن هذا ليس بنطق من الرسول صلى الله عليه وسلم، بل إنه استفتاء في قضايا أعيان، وإفتاء الرسول صلى الله عليه وسلم بأنه يجوز أن يتصدق الإنسان عن أمه لا يدل على أن ما سواه ممنوع.
নামায পড়ে বা সদকা করে বা হজ্ব করে অথবা কুরআন তিলাওয়াত করে কিংবা রোযা রেখে এর সওয়াব মৃত ব্যক্তিকে দান করতে কোনও অসুবিধা নেই।
এরপর তিনি সদকা সংক্রান্ত দুটি হাদীস উল্লেখ করে বলেন, অন্যান্য ইবাদত সদকার মতই, উভয়ের মধ্যে কোনও ফারাক নেই।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে এগুলোর ঈসালে সওয়াব অবৈধ হওয়ার সমর্থনে কোনও বক্তব্য নেই। এজন্য এ কথা বলা যাবে না যে, যে বিষয়গুলোর ঈসালে সওয়াবের কথা হাদীসে স্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। সুন্নাহয় যেহেতু সাধারণ ইবাদতের কথা এসেছে তাই যেগুলো সম্পর্কে তা নীরব, সেগুলোর হুকুমও বর্ণিত বিষয়গুলোর মতই হবে। বিশেষত যখন এগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ থেকে ইরশাদ করেননি। বরং তাঁর কাছে নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার সমাধান জানতে চাওয়া হলে তিনি সমাধান দিয়েছেন। আর নির্দিষ্ট কোনও বিষয়ের সমাধান থেকে এটা কিছুতেই প্রমাণিত হয় না যে, এ ছাড়া অন্যগুলো অবৈধ। -মাজমূউ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়েলে ইবনে উসায়মীন ১৭/২৫৮
৯৷রোযা ও নামাযের ফিদইয়া বা কাফফারা বিষয়ক সম্পূরক দালীলিক আলোচনাঃ
**************************
★মৃতের অনাদায়ী বিশেষতঃ দীর্ঘ অসুস্থতাজনিত নামাযের জন্য প্রতিদিন বিতর সহ ৬ ওয়াক্তের হিসাব করে প্রতি ওয়াক্ত নামাযের জন্য ঐ বছরের একটি ফিতরার সমপরিমান খাদ্য কিংবা তার অর্থ সাদকা হিসাবে দেয়া বৈধ ৷ মাসয়ালাটি সকল সমাজে অতি পরিচিত ৷তবে, দলীল প্রমাণ সহকারে মাসয়ালাটির যথার্থ বিশ্লেষণ করা জরুরী ৷
রোযা ও নামাযের ফিদইয়া :
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
রোযার ফিদয়ার কথা সরাসরি কুরআনুল করীম ও হাদিসেই বর্ণিত হয়েছে,তবে নামাযের ফিদয়ার কথা কেবল হাদিসের মাফহুম (বক্তব্য) থেকেই জানা যায় ৷ সাথে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে সম্মানিত বরেন্য ফিকহবিদগণের ফিকহী মাসয়ালার আদলে—যা মূলতঃ উল্লিখিত হাদিসেরই বিশ্লেষণ ৷ বিষয়টি নামাযের সাথে ক্বিয়াস তথা অনুমান করে জগদ্বরেণ্য মনীষীরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন ৷
★রোযার ফিদয়া সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ ফরমান-
وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ
রোযা রাখতে অক্ষম ব্যক্তির ফিদয়া হচ্ছে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করা।’’ (সূরা বাক্বারা, আয়াত নং-১৮৪।)
অপারগ, বৃদ্ধ এবং মৃত্যু শয্যায় শায়িত রোগী যখন রোযা রাখতে অক্ষম হয়, তখন প্রত্যেক রোযার পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাবার দেবে। নামায রোযার তুলনায় অগ্রগণ্য। এজন্য রোযার হুকুমটা নামাযের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়।★হাদিসের দলীল:
বিভিন্ন হাদীছ শরীফে এর সমর্থন পাওয়া যায়ঃ
ক)আল্লামা নাসায়ী (রঃ) স্বীয় সুনানে কুবরায় ও ইমাম বুখারীর দাদা উস্তাদ মুহাদ্দিস আবদুর রাজ্জাক (রঃ) কিতাবুল ওসায়ায় সৈয়্যদুনা আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) থেকে বর্ণনা করেছেন-
عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: لَا يُصَلِّي أَحَدٌ عَنْ أَحَدٍ، وَلَا يَصُومُ أَحَدٌ عَنْ أَحَدٍ وَلَكِنْ يُطْعِمُ عَنْهُ مَكَانَ كُلِّ يَوْمٍ مُدًّا مِنْ حِنْطَةٍ
কেউ কারো পক্ষে নামায পড়ো না, রোযা রেখো না। কিন্তু তার (মৃতের)পক্ষে প্রতি দিনের পরিবর্তে অর্ধ সা' গম দান করে দেবে।’’ (ইমাম নাসাঈ, আস-সুনানুল কোবরা, ৩/২৫৭ পৃ: হা/২৯৩০, ইমাম বায়হাকী, আস-সুুনানুল কোবরা, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-২৫৪, হাদিস-৮০০৪, ইমাম আব্দুর রাজ্জাক, আল-মুসান্নাফ, হা/৭৬৩৬
খ) মিশকাত শরীফের কিতাবুস সাওমের القضاء শীর্ষক অধ্যায়ে উল্লেখিত আছে-
عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ فَلْيُطْعَمْ عَنْهُ مَكَانَ كُلِّ يَوْمٍ مِسْكِينٌ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: وَالصَّحِيحُ
যে ব্যক্তি মারা গেল এবং তার জিম্মায় রমযান মাসের রোযা অনাদায়ী রয়ে গেল, তাহলে তারপক্ষ থেকে প্রতি দিনের পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাবার প্রদান করা জরুরী।’’
(খতিব তিবরিযি, মিশকাত, কিতাবুুস সাওম, ১/৬৩২ পৃ: (ভারতীয় ১৭৮ পৃ:), হাদিস/২০৩৪)
★ প্রসিদ্ধ ফিকহের কিতাব শরহে বেকায়ায় উল্লেখিত আছে-
وفدية كل صلوة كصوم يوم وهو الصحيح
প্রত্যেক নামাযের ফিদয়া হচ্ছে এক রোযার ফিদয়ার মত এবং এটাই বিশুদ্ধ অভিমত।’’
(উবাইদুল্লা ইবনে মাসউদ, শরহে বেকায়া, কিতাবুস-সাওম, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৩১৫।)
★ফতহুল কাদীর কিতাবে বর্ণিত হয়েছে:
وَمَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ قَضَاءُ رَمَضَانَ فَأَوْصَى بِهِ أَطْعَمَ عَنْهُ وَلِيُّهُ لِكُلِّ يَوْمٍ مِسْكِينًا نِصْفَ صَاعٍ مِنْ بُرٍّ أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ شَعِيرٍ) لِأَنَّهُ عَجَزَ عَنْ الْأَدَاءِ ..... كَمَا إذَا أَوْصَى بِالْإِطْعَامِ عَنْ الصَّلَوَاتِ
অর্থাৎ যেই ব্যক্তি রমযানের রোযা কাযা রেখে মারা গেল। যদি ওসীয়ত করে যায়, তাহলে তার পক্ষে তার ওলী (আপনজন) প্রতি দিনের রোযার পরিবর্তে একজন মিসকীনকে আধা সায়া (প্রায় দুই কেজি) গম বা এক সায়া খোরমা অথবা বার্লি প্রদান করবে, কেননা এখন সেই মৃত ব্যক্তি আদায় করা থেকে অপারগ হয়ে গেছে। নামাযের বেলায়ও অনুরূপ করবে, যদি সে কাযা নামাযের পরিবর্তে খাবার প্রদানের ওসীয়ত করে যায়।’’
(আল্লামা কামালুদ্দীন ইবনুল হুমাম, ফতহুল কাদীর, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৩৫৭)
✧ প্রসিদ্ধ তাহতাবী আলা মরাকিল ফালাহ গ্রন্থে বর্ণিত আছে ’’
اعلم أنه قد ورد النص في الصوم بإسقاطه بالفدية واتفقت كلمه المشايخ على أن الصلاة كالصوم استحسانا ..... إذا علمت ذلك تعلم جهل من يقول ان إسقاط الصلاة لا أصل له إذ هذا إبطال للمتفق عليه بين أهل المذهب
উপরোক্ত ইবারতসমূহ থেকে বোঝা গেল যে, নামায ও রোযার ফিদয়া দেয়া জায়েয এবং কবুল হওয়ার আশা করা যায়।
( ইমাম তাহতাবী, তাহতাবী আ’লা মারাকিল ফালাহ্ ৷)
✧ তাফসীরাতে আহমদীয়া শরীফে আল্লামা মোল্লা আহমদ জিয়ুন আলাইহির রহমাহ বলেন—
والصلوة نظير الصوم بل اهل منه فامرناه بالفدية احتياطا ورجونا القبول من الله تعالى فضلا
(ফিদয়ার ক্ষেত্রে)নামায রোযার মত বরং রোযা থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং আমরাএ ক্ষেত্রেও ফিদয়া দেয়ার জন্য সতর্কতা স্বরূপ নির্দেশ দিয়ে থাকি এবং খোদার রহমতে কবুল হওয়ার আশা রাখি।’’
(আল্লামা মোল্লা জিওন, তাফসিরে আহমদিয়্যাহ, পৃষ্ঠা-৬১।)
✧ প্রসিদ্ধ আল-মানার গ্রন্থে বর্ণিত আছে-
ووجوب الفدية فى الصلوة للاحتياط
নামাযের জন্য ফিদায়া ওয়াজিব হওয়াটা হচ্ছে সতকর্তামূলক।’’
*উপরোক্ত দালায়েল দ্বারা বুঝা গেল যে, মৃতের অনাদায়ী ওজরবশতঃ কাজা নামাযের ফিদয়া দেয়া বৈধ ৷ অন্যান্য অনেক মাসয়ালার ন্যায় কতিপয় ফিকহবিদ যদিও বিষয়টির মতানৈক্য করেছেন ঠিকই, কিন্তু সহীহ হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহের বিশ্লেষণ এক্ষেত্রে অগ্রগণ্যতার দাবী রাখে নিঃসন্দেহে ৷ আল্লাহ্ পরকালীন মুক্তির জন্য কবুল করুন ৷
১০৷ মৃত ব্যাক্তির সন্তানাদি কিংবা পরিবার পরিজনদের কুরআন ও সুন্নাহর পথে জীবনযাপন মৃতের জন্য বেশি ফলদায়ক:
**************************
★মৃত ব্যাক্তির আপনজনদের দুনিয়ার আমল মোতাবেক কখনো তারা খুশি এবং কখনো দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে যান :(দলীল- হাদিস)—
١- [عن أنس بن مالك:] إنّ أعمالَكم تعرضُ على أقارِبِكم وعشايِرِكم منَ الأمواتِ فإن كانَ خيرًا استبشَروا وإن كانَ غيرَ ذلكَ قالوا اللَّهمَّ لا تمتْهُمْ حتّى تهدِيَهُمْ كما هديتَنا.
الهيثمي (ت ٨٠٧)، مجمع الزوائد ٢/٣٣١ • فيه رجل لم يسم و الطبراني ،
সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস (রা) হতে বর্ণিত,রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: নিশ্চয় তোমাদের আমল তোমাদের কবরবাসী আপনজন ও স্বজনদের কাছে পেশ করা হয় ৷ তোমাদের আমল ভালো হলে তারা আনন্দিত হয়,আর যদি তার বিপরীত হয়(মন্দ হয়) তখন তারা বলতে থাকেন— হে আল্লাহ্ ! আমাদেরকে যেমন হিদায়াত দিয়েছেন তারাও হিদায়াত না পাওয়া পর্যন্ত তাদের মৃত্যু দিবেন না ৷ ( তিরমিযী,মাজমাউজযাওয়ায়েদ ,তাবরানী , হাদিস:হাসান )
★নেককার পিতামাতার আপনজনেরা (পিতামাতা, স্ত্রী, সন্তানাদি প্রভৃতি) সেদিন তার আকাঙ্খার কারনে চোখের প্রশান্তির জন্য জান্নাতে তার সাথে মিলিত হতে পারবেন :
দয়ালু মেহেরবান আল্লাহ্ গফুরুর রহীম সেদিন বিভিন্ন উপায়ে বান্দার মর্যাদা উন্নীত করবেন ,ক্ষমার ব্যবস্থা করবেন,আপন প্রেমে জড়িয়ে রাখবেন ৷ মহাগ্রন্থ কুরআনুল কারীমের সুরা মরইয়ামের নং আয়াতে ঘোষণা হচ্ছে—
اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ سَیَجۡعَلُ لَهُمُ الرَّحۡمٰنُ وُدًّا ﴿۹۶﴾
বাংলা অনুবাদঃ যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদেরকে দয়াময় আল্লাহ(সেদিন) প্রেম ভালবাসা দিবেন।
On those who believe and work deeds of righteousness, will (Allah) Most Gracious bestow love.
(সূরাঃ মারইয়াম, আয়াতঃ ৯৬)
★সেদিন আল্লাহর অপার করুনায় পিতামাতা তথা জান্নাতীদের সাথে তাদের আপনজনদের মুআমালাত সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ বলেন:
وَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ اتَّبَعَتۡهُمۡ ذُرِّیَّتُهُمۡ بِاِیۡمَانٍ اَلۡحَقۡنَا بِهِمۡ ذُرِّیَّتَهُمۡ وَ مَاۤ اَلَتۡنٰهُمۡ مِّنۡ عَمَلِهِمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ ؕ كُلُّ امۡرِیًٴۢ بِمَا كَسَبَ رَهِیۡنٌ ﴿۲۱﴾
বাংলা অনুবাদঃ যারা ঈমানদার এবং যাদের সন্তানরা ঈমানে তাদের অনুগামী, আমি তাদেরকে তাদের পিতৃপুরুষদের সাথে মিলিত করে দেব এবং তাদের আমল বিন্দুমাত্রও হ্রাস করব না। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃত কর্মের জন্য দায়ী।
(সূরাঃ আত্ব তূর, আয়াতঃ ২১)
★অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে কুরতুবীতে বর্ণিত হয়েছে:
أخْرَجَ سَعِيدُ بْنُ مَنصُورٍ وهَنّادُ وابْنُ جَرِيرٍ وابْنُ المُنْذِرِ وابْنُ أبِي حاتِمٍ والحاكِمُ والبَيْهَقِيُّ في سُنَنِهِ عَنِ ابْنِ عَبّاسٍ قالَ: «إنَّ اللَّهَ تَعالى لِيَرْفَعَ ذُرِّيَّةَ المُؤْمِنِ مَعَهُ في دَرَجَتِهِ في الجَنَّةِ وإنْ كانُوا دُونَهُ في العَمَلِ لِتُقَرَّ بِهِمْ عَيْنُهُ ثُمَّ قَرَأ الآيَةَ»
বায়হাক্বী তার সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেন, সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রা) বলেন,নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তায়ালা মু'মিন নেককার বান্দার সাথে তার সন্তান সন্ততি দেরকে পিতামাতার আনন্দ দানের জন্য জান্নাতে মিলাবেন, যদিও তাদের আমল পিতামাতার মত না হয়ে কিছুটা কম হোক না কেন ৷
وأخْرَجَهُ البَزّارُ وابْنُ مَرْدُوَيْهِ عَنْهُ مَرْفُوعًا إلى النَّبِيِّ صَلّى اللَّهُ تَعالى عَلَيْهِ وسَلَّمَ.
وفِي رِوايَةِ ابْنِ مَرْدُوَيْهِ والطَّبَرانِيِّ عَنْهُ أنَّهُ قالَ: ««إنَّ النَّبِيَّ صَلّى اللَّهُ تَعالى عَلَيْهِ وسَلَّمَ قالَ: إذا دَخَلَ الرَّجُلُ الجَنَّةَ سَألَ عَنْ أبَوَيْهِ وزَوْجَتِهِ ووَلَدِهِ فَيُقالُ لَهُ: إنَّهم لَمْ يَبْلُغُوا دَرَجَتَكَ وعَمَلَكَ فَيَقُولُ: يا رَبُّ قَدْ عَمِلْتَ لِي ولَهم فَيُؤْمَرُ بِإلْحاقِهِمْ بِهِ»»
ইবনে মারদুবিয়া ও ইমাম তাবরানী আব্দুলাহ্ ইবনু আব্বাস (রা)থেকে বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:কতিপয় লোক জান্নাতে প্রবেশের পর তার পিতামাতা,স্ত্রী ও সন্তানদের অবস্থা জানতে চাইলে বলা হবে যে, তারা আমল কম থাকায় তোমার পর্যায়ে আসতে পারেনি ৷তখন সে দরগাহে এলাহীতে আরজ করবে-"হে আল্লাহ্ ! আমাকে এরূপ (সম্মানিত) করলে আর তাদের এমন হলো" ? অতঃপর তাদেরকেও তার (জান্নাতীর) সাথেএকত্র করা হবে ৷
[সূত্র:তাফসীরে কুরতুবী,তাফসীরে রূহুল মায়ানী ,সুরা তুর, ২১ আয়াতের তাফসীর ৷]
দোয়াঃ
ربنا هب لنا من ازواجنا و ذريتنا قرة اعين و اجعلنا للمتقين اماما ،
হে আল্লাহ্ ! আমাদের পরিবার ও সন্তান সন্ততিদেরকে আমাদের চোখের প্রশান্তি (মনঃপূত) ও মুত্তাকীদের ইমাম বানাও ৷(সুরা ফুরকান:৭৪)
★★উপসংহার: কবরজীবন মহা পরীক্ষা ও ফিতনার জীবন ৷ বান্দাহ্ সেদিন সামান্য একটু নেকীর জন্য কত কাকুতি মিনতি করবে;অথচ তার বাড়িতে বসবাসকারীরা তা কী জানতে পারবে ? সেজন্য বিনা বাক্যব্যয়ে সওয়াব রেসানীর মত ফল দায়ক এবং পরপারের যাত্রীদের সাথে যায় এমন কোন কিছু করা থেকে আমরা নিবৃত্ত হবো না ৷কারন, সওয়াবের মত মর্যাদার মাপকাঠি কোন কিছু দ্বারা সেদিন পূরন করা যাবেনা ৷আল্লাহর খাছ রহমত এবং খালেস রসূলপ্রেম ব্যতীত সেদিন কেউ মুক্তির আশা করেনা ৷উপর্যুক্ত প্রথম হাদিস শরীফের ভাষ্য মোতাবেক বারযাখ জীবনের কঠিন সময়ে আল্লাহ্ সুবহা নাহু তায়ালার দয়ায় যেন নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলে যারপরনাই সহজভাবে মুক্তি পাই সে আরজ আল্লাহর মহান দরবারে ৷ কবরের সাক্ষাৎকারে যেন সেদিন আমরা নূর নবীজীকে(সা) দেখেই চিনতে পারি,বলতে পারি সেই আশাবাদ এলাহীর দরগায়— সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৷৷
"ربنا اغفرلي و لوالدي وللمؤمنين يوم يقوم الحساب"—
"হে প্রভূ! আমাকে, আমার পিতামাতা সহ সকল মু'মিনদেরকে ক্ষমা করুন যেদিন হিসাব কায়েম হবে" ৷
★★পরিশেষে ফরিয়াদ—
*ہو جس دم میری جان تن سے جدا
زباں پر رہے نام جاری تیرا،
হবে যেদিন মোর রূহখানি দেহ হতে ছিন্ন,
তোমারি নাম জবানে যেন রহে এক ও অভিন্ন ৷
*لحد میں پھر مجھے بھی نہ تکلیف ہو
جوابون میں ہرگز نہ توقیف ہو ،
কবর দেশেতে আবার যেন না হয় পেরেশান,
সওয়াল জওয়াবের মাকামে যেন হয়না কালক্ষেপণ ৷
*رہے 'رب سلم' ہی ورد زباں
ہو جس دم بہشت بریں کو رواں ،
'রব্বি সাল্লিম'- বরকতী এ সালাম— মুখেতে যেন রয়,
বেহেশতেরই গমণপথে, যবে রওয়ানা হয়ে যাই ৷৷
[ مقامات خیر ، از شیخ ابو الحسن زید فاروقی ازہری دہلوی قدس سرہ ]
[সূত্র: মাক্বামাতে খায়র,কৃত-শায়খ আবুল হাসান যায়েদ ফারুকী আজহারী দেহলবী কুদ্দিসা সিররুহু]
و صلي الله تعالي علي خير خلقه محمد و علي اله و اصحبه اجمعين *
আ মীন ৷৷ বিহুব্বি শাফীইল মুজনিবীন৷৷
----------------
দোয়াকারী :মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুছ আলী, ধর্মশিক্ষক,বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (ব্যানব্যাট-১,ইউনিসফা ,সুদান,আফ্রিকা ৷)